মুক্তকথাদুর্গা পূজার আবহ ম্লান, পশ্চিমবঙ্গে আলোচ্য এনআরসি

সুব্রত আচার্য

fb tw
somoy
মাত্র পনের দিন বাকি শারদীয় দুর্গা পূজার। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রাজনীতিতে এ সময়টা কিন্তু সাধারণ রাজনৈতিক উত্তাপে থাকে ভাটার টান। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম। পূজার কেনাকাটা, প্রস্তুতি সব কিছুর ছাপিয়ে গেছে রাজ্য জুড়ে চর্চিত এনআরসি ইস্যু।
রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এনআরসির তীব্র বিরোধী। তৃণমূল নেতৃত্ব যে কোনো অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে আসামের এনআরসি নিয়ে সমালোচনা করছেন বিজেপি নেতৃত্বকে। এনআরসির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বামফ্রন্টও। তারাও একচুল ছাড়ছেন না নাগরিকপুঞ্জি ইস্যু নিয়ে কথা বলতে। তাদের টার্গেট শুধু বিজেপি একা নয়, রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসেও। কারণ বাম নেতাদের দাবি, এ রাজ্যে বিজেপির উত্থানের পেছনে একক শক্তি তৃণমূল কংগ্রেস। তাই রাজ্যের যে কোনো ধরনের বিজেপির তৎপরতার পেছনে রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং।
৩১ আগস্ট আসামের চূড়ান্ত নাগরিকপুঞ্জি তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সেখানে ১৯ লাখ বাঙালির নাম বাদ পড়েছে। ১২০ দিনের মধ্যে বাদ যাওয়াদের উপযুক্ত সনদ সংগ্রহ করে আইনি লড়াইয়ে নামতে হবে ভারতীয় প্রমাণ করতে। এ জন্য দুই শতাধিক ট্রাইব্যুনাল তৈরি করা হয়েছে। আরো দুই শতাধিক করা হচ্ছে। অন্যদিকে যারা নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারেননি, সেই সব রাষ্ট্রহীন মানুষদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে জেলখানাও।
বলা হচ্ছে, ১৯৭১ সালের আগে আসা ব্যক্তিরাই কেবল নাগরিকত্ব পাবেন। বাকিদের চলে যেতে হবে আর নইলে যেতে হবে জেলে।
এনআরসি নিয়ে বিজেপির বক্তব্য কি প্রশ্ন করা হয়েছিল রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। তিনি বললেন, ‘দেখুন আসামের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ যারা প্রথম দফায় আবেদন করে বাদ পড়েছিলেন তারা কিন্তু এবার আবেদনই করেননি। তার মানে এ সব মানুষ ভারতীয় নয়। তারা পালিয়েছে। তারা অনুপ্রবেশকারী। এ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করতেই এনআরসি করা হয়েছে সেখানে।’
তিনি আরো স্পষ্ট করে বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ থেকে সংখ্যালঘু হিন্দুরা জীবন বাঁচাতে ভারতে আসলে তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। কিন্তু প্রতিবেশী সংখ্যাগুরুর কেউ আসলে তাকে অনুপ্রবেশকারী হিসাবে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তবে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্য তৃণমূলের শীর্ষ নেতা ফিরহাদ হাকিম। তার ভাষায়, যদি মুসলিমদেরই শুধু অনুপ্রবেশকারী হিসাবে বাছা হবে তবে আসামের এনআরসির নাম ১১ লাখ হিন্দু বাঙালিকে তাড়ানোর ছক কেন করেছে বিজেপি। আসলে ওরা বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে দেশজুড়ে। যা কিনা কোনো অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না।
বামফ্রন্টের অবস্থান এ বিষয়ে পরিষ্কার করে দিয়েছেন রাজ্য বাম নেতৃত্ব। এনআরসি নিয়ে বাম ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হয়েছে। আর ভাষার ভিত্তিতে বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলিম মিলে একটি দেশ হয়েছে। বাঙালি একটি জাতি সত্তা। এ সত্তাকে ভাগ করার চেষ্টা চলছে। বিজেপি ভয় দেখানোর রাজনীতি করছে। এ বিভাজনের রাজনীতিটা করছেন দু’জনই মোদি এবং মমতা।’
বিজেপি যখন বলেছিল পশ্চিমবঙ্গের ভোটারতালিকায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম আছে তখন মমতা ব্যানার্জি সায় দিয়ে বলেছিলেন, ‘নো আইডি নো ভোট!’ আজ একই কায়দায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষও একই কথা বলছেন। বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে এটাই মিল, বললেন বামফ্রন্টের এ সিনিয়র নেতা।
যদিও কংগ্রেস এ বিষয়ে এখনও তেমন কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারাও যে এনআরসি ইস্যুতে চরম ক্ষুব্ধ সেটাও কয়েকজন কংগ্রেস নেতার সঙ্গে কথা বলে স্পষ্ট হওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কংগ্রেস নেতা জানান, আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি বাস্তবায়ন করতে চাইলে সেটা বিজেপিরই ক্ষতি হবে। আসামের এনআরসি হওয়ার পেছনে যে কারণ ছিল সেটা পশ্চিমবঙ্গে নেই।
পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে এ ইস্যুতে। তারা অনেকেই মনে করছেন, আসলে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে এনআরসি ইস্যু বাস্তবায়নের জন্য বিজেপি যে দৃঢ় অবস্থার কথা বলছে সেটা তাদের শুধু মাত্র রাজনৈতিক কৌশল। এ রাজ্যে এনআরসি বাস্তবায়ন কিংবা এর যৌক্তিকতা নেই।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সাইন্সে পড়ুয়া বিমান মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘দেখুন এখানে বিজেপি, তৃণমূল সংঘাত। এনআরসি এনআরসি বলে তৃণমূলকে চাপে রাখতে বিজেপির এ কৌশল। এখানে এনআরসি করলে বিজেপির ক্ষতি। কারণ পূর্ব বাংলার বহু মানুষ তারা বিজেপিকে সমর্থন করতেন, এনআরসির জন্য এখন তারাই বিজেপিকে ভোট দেবেন না। আর এটাও তো ঠিক রাজ্যে ৩০ শতাংশ মুসলিম মানুষের বাস। মুসলিমদের তাড়াও বলে বিজেপির এ জিগিরে এ ভোটও হারাবে বিজেপি।’
কলকাতার একজন গণমাধ্যমকর্মী বিপ্রতীপ কুমার দে জানান, মানুষকে বোকা বানানোর জন্য এ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলো চিৎকার করছে। দেশের অর্থনীত যখন প্রায় তলানিতে দাঁড়িয়ে। জিডিবি ৫ শতাংশ। ডলারের বিপরীতে রুপির দর পতন। প্রায় সব শিল্পে ধস। জিএসটির প্রভাবে ধুকছে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান সেখানে এনআরসি ইস্যুতেই সরকার ও বিরোধীরা হট্টগোল শুরু করেছে। আসলে পাবলিক এতো বোকা নন। তারা ভোটের সময় ঠিক রায় দেবেন।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop