মুক্তকথাতিনি কি উপাচার্য নাকি উপ-আশ্চর্য!

মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ

fb tw
somoy
উপাচার্য হলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নির্বাহী। তার কাজ কতটুকু এবং ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর কতটুকু নির্বাহী ক্ষমতা তিনি প্রয়োগ করতে পারেন সে বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। তার চেয়েও বড় বিষয় হলো এ সব উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে সর্বোচ্চ অবস্থানে (অধ্যাপক) যাওয়ার পরই নিয়োগ পেয়ে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি দেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কর্মকাণ্ডে তাদেরকে উপাচার্য নাকি উপ-আশ্চর্য বলব তা ভেবে পাচ্ছি না।
বিভিন্ন উপাচার্যের সঙ্গে সঙ্গে চলতি মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খোন্দকার নাসিরউদ্দিন বেশ কিছু আশ্চর্যজনক বিষয়ের জন্ম দিয়েছেন। এ আশ্চর্যজনক উপাচার্যের কর্মকাণ্ড থামানো দরকার। শুধু তাই নয় তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো অতিব জরুরী হয়ে পড়েছে। তা না হলে তার মতো শিক্ষকের উন্নাসিক কর্মকাণ্ডের জন্য মহান এ দেশের জ্ঞানের পুণ্যভূমি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পঙ্কিলতার ছায়াতলে নিপতিত হবে।
নানা ঘটনার মাঝে তিনি নিত্য নতুন ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন। তার ন্যক্কারজনক কাজের ছন্দপতন হচ্ছে না কোনো ক্রমেই। এখনই তার স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা না গেলে যে অনুসারী শিক্ষকরা তার অন্যায়ের সঙ্গী হয়েছেন তারাও এক সময় অন্যায়ের মূল সারথি হয়ে পড়বেন। চলতি মাসের ১১ তারিখে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদক ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে বহিষ্কার করছেন। জিনিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি নাকি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে ফেইসবুকে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করেছেন। কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে পারে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু জিনিয়াকে নিছক তুচ্ছই নয় অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। গণমাধ্যমের কল্যাণে জিনিয়ার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ এ প্রবন্ধের পাঠকরা জানেন বলে আমি ঐ বিষয় নিয়ে আলোচনায় গেলাম না। অন্যায়ভাবে জিনিয়াকে বহিষ্কার করায় উপাচার্যের শাস্তি হওয়াটা অবিশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে। উপাচার্য মনে করলেন ওকে বহিষ্কার করা দরকার ওমনি করে ফেললেন! বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চয়ই উপাচার্যের বাপ-দাদার তাল্লুক (জমিদারী) তো নয়? তাহলে কেন? এখানেও বিস্তর কথা রয়েছে তা পরে আলোচনা করা যাবে। এবার আসি উপাচার্য জনাব খোন্দকারের কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে। এ উপাচার্য তার মেয়াদে কি অপরাধ করেন নাই তাই ভাবছি। ভাবতে গিয়ে আমার নিজেরও লজ্জা লাগছে। শিক্ষকরা এমনটি কিভাবে করতে পারেন। আমার পরিবারটা হলো শিক্ষক পরিবার, যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আছেন তাই লজ্জাটা বেশি।
দেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছি। সেখানে সাংবাদিকতা করেছি প্রায় অর্ধ যুগ, সাংবাদিকতার নেতৃত্ব দিয়েছি। কিন্তু এমন উপাচার্য এই দেখলাম। সে সময় নানা অন্যায় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অপরাজনীতি ও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। তখন মনে হয়েছিল নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তারা এমন অপকর্ম করেন কেন। নিয়োগে বাণিজ্য, বহিষ্কার, শো কজ, দুর্নীতি ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু ক্যাম্পাসে অবস্থানকালীন সময়ে জানলাম জনাব নাসির উদ্দিনের কথা তখন নিজ শিক্ষালয় নিয়ে তেমন একটা খারাপ লাগেনি। বুঝলাম অন্যায়কারীর চেয়েও দেখি ভারী অন্যায়কারী রয়েছে। তখন আঁতকে উঠেছি নাসির উদ্দিনের খবর শুনে তিনি কি অপকার্মই করেন নাই। কিছু কি বাদ দিয়েছেন?
২০১৭ সালের ৫ মার্চ দৈনিক যুগান্তর জানালো, নাসির উদ্দিন সরকারী বাসভবনে বিউটি পার্লার খুলে নিজ তদারকিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখানেই থেমে থাকেননি উপাচার্য। গত ২৩ এপ্রিল অনলাইন সংবাদ মাধ্যম জাগো নিউজের মাধ্যমে জানলাম তিনি অত্র এলাকার এক নারীকে প্রলোভন দেখিয়ে যৌন সম্পর্ক করেছেন। ঐ নারী পরে একটি শিশু সন্তান নিয়ে শিশুটির বাবার অধিকার চেয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এসে আহাজারি করেছেন। দুইদিন আগে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বাংলা’র জানায়, গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি খাত থেকে তিনি ৩৬৫ জনকে প্রায় ৭২ লাখ টাকা দিয়েছেন। তাদেরকে উপাচার্যের জন্য কাজে লাগানো হচ্ছে। এ টাকা নেওয়ার তালিকায় যেমন কিছু সাধারণ শিক্ষার্থী রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের নেতারা। ২০১৭ সালে ৯ জুলাই দৈনিক প্রথম আলোর মাধ্যমে জানতে পারি এ মহান উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত। এমনকি তিনি শিক্ষার্থী ভর্তিও বিষয়ে অন্যায়ের আশ্রয় নিয়েছেন। তার অপরাধের তালিকা এত এত লম্বা যে লিখতে গেলে আমার ইলেক্ট্রনিক মেশিনটার মতো আমিও ক্লান্ত হয়ে পড়ব। তার আমলনামাটা অপরাধে এতই ভারী যে আমার পক্ষে তা তুলে ধরা পরিশ্রমসাধ্য। উপাচার্যের অন্যায় নিয়ে ঐ ক্যাম্পাসে যারাই কথা বলেছেন তারাই উপাচার্যের হেনস্তার শিকার হয়েছেন। আমি অনেক শিক্ষককে ব্যক্তিগতভাবে চিনি যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে বিভিন্নভাবে উপাচার্যের ‘করাতকল’এ ফেঁসে গিয়েছেন। এখনই এ করাতকলকে ভোতা বানাতে হবে।
ঐ বিশ্ববিদ্যালয় বা স্থানীয় অনেক সাংবাদিকও উপাচার্যের অন্যায়ের সঙ্গী। তবে জিনিয়া সাহস দেখিয়ে কিছু লিখেছিলেন এবং লেখার চেষ্টা করেছিলেন। যে বা যারা নাসির উদ্দিনের অন্যায়ের বিরোধিতা করেছেন তারাই রক্তচক্ষুর শিকার হয়েছেন। জিনিয়াই শুধু নয় জিনিয়া তো উপাচার্যের অন্যায় কর্মকাণ্ডের মধ্যে এক ভুক্তভোগী প্রতীক। তার পোষা কিছু প্রাণী ঐ ক্যাম্পাসে আছে যারা মনুষ্যাকৃতির। এ কথা কি আলাদাভাবে উপস্থাপন করার দরকার রয়েছে যে অপরাধীর পরিচয় ভিন্ন কিছু হতে পারে না। ঐ অমানুষগুলো হলেন কিছু শিক্ষক, সাংবাদিক, ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতা।
ঐ শিক্ষার্থী সাংবাদিক (জিনিয়া) উপাচার্যের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন এবং তাতে ভিত হয়ে উপাচার্য নোংরা এই বহিষ্কারের কাজটি করেছেন। উপাচার্যের নির্দেশে জিনিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাংবাদিক সমিতি থেকেও বহিষ্কার করানো হয়। বোঝা যায় উপাচার্যের পালিত কিছু সংবাদকর্মী রয়েছেন। জিনিয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় চলতি সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য এক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিককে মারধর করে উপাচার্যের সন্ত্রাসী বাহিনী।
অনলাইন সংবাদমাধ্যম ৮ সেপ্টেম্বর (২০১৯) বাংলাট্রিবিউন বলছে, পান থেকে চুন খসালেই তাদের সংশোধন বা সাজার নামে দেওয়া হচ্ছে সাময়িক বা স্থায়ী বহিষ্কারের নোটিশ! কেবল গত এক বছরেই অন্তত ২৭ শিক্ষার্থীকে এ ধরনের বহিষ্কারের নোটিশের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ঐ সংবাদ মাধ্যমকে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর আশীকুজ্জামান ভূইয়া বলেন, ‘সব জায়গা থেকে ফেল করে দরিদ্র পরিবারের ছেলে মেয়েরা এসে ছোট ছোট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হয়। তাদের একটু শাসনের মধ্যে না রাখলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত পরিবেশে এসে এরা ভিন্ন পথে চলে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। তাই এ ধরনের কড়াকড়ি করা হয়।’ এই মহান জনাব ভূইয়া আমার এ প্রবন্ধটি পড়বেন কিনা জানি না, পড়লে ভালো। তাকে বলছি মহাশয়, তাহলে তো ছোট ছোট বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনাদের মতো শিক্ষকদের জন্য কড়াকড়ির ব্যবস্থা করা গেল না। নির্লজ্জ হলেন, লজ্জা বলে কিছু একটা আছে ভুলে গেলেন! উপাচার্য নাকি জিনিয়াকে কাছের মনে করেন তাই বকা দিয়েছেন এমনটি বলেছেন প্রক্টর। আমি এই শিক্ষকের বক্তব্য যতই পড়ছি হতভম্ব হচ্ছি। তিনি কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হন! সব ভূইয়া বা ভূঁইয়ারা কি এমন হন!
জিনিয়াকে মুঠোফোনে উপাচার্য যে ভাষায় কথা বলেছেন তাতে তিনি ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। উপাচার্য কেন, যে কোন মানুষই এমন ব্যবহার করলে তার নিশ্চিত শাস্তি পাওনা। এই ভাষাই উপাচার্যের শাস্তির অন্যতম কারণ হতে পারে।
আমি শুরুতেই একটা বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম যে, উপাচার্যরা এমন অন্যায় করেন কিভাবে। সত্যি বলতে কি ক্ষমতাসীন দলের কিছু অন্যায়কারী নেতাদের ছত্রছায়া ছাড়া কি কোনভাবেই সম্ভব? গত মাত্র তিন কি চার বছর আগে স্বাধীনতার পূর্বে প্রতিষ্ঠিত দেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে চড় মেরেছিলেন স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি। তখন সরকার যদি ঐ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতো তাহলে ঐ নেতা কখনই অন্যায় করবেন কি? সেই সঙ্গে নেতাদের ছত্রছায়ায় উপাচার্যরা এমন অন্যায় করতে পারতেন না। অনেকেই বলেন অমুক উপাচার্যের এত ‘পাওয়ার’ কেন তার ‘ব্যাকআপ’ কি? তার পিছনে অমুক অমুক নেতা, তিনি অমুকের কাছের লোক। অমুক পিছনে বা অমুকের কাছের বলেই কি উপাচার্যরা এমন করবেন।
এর সমাধান কি হতে পারে। উপাচার্যদের এমন কর্মকাণ্ড কি কোনভাবেই থামবে না। নাকি চলতেই থাকবে। উপাচার্যদের এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিতান্তই কংক্রিটের শহরে পরিণত হবে। উপাচার্যরা নিজেদের অপকর্মের সমালোচনাও শুনতে পারেন না। আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সে বিশ্ববিদ্যালয়ের মহান উপাচার্য ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনকে এক ভর্তি পরীক্ষার টাকার ভগ্নাংশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তারপরও তিনি নাকি সুদর্শন ও বেশ ভালো। প্রথম শ্রেণির ফলাফলের কথা উল্লেখ করে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেও ২য় শ্রেণির প্রার্থী নিয়োগ দেন। কেননা প্রার্থী এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও কর্মকর্তার কাছের লোক। প্রভাবশালী এক মন্ত্রীকে খুশি করতে খোঁড়া যুক্তিকে সামনে এনে বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসকে দ্বিখণ্ডিত করতে চলেছেন তিনি। এরপরও নাকি কিনি ‘ডাইনামিক’। এসবই বলছেন ওখানের কিছু শিক্ষক ও নেতারা। এই দালালিতে লিপ্ত শিক্ষকরা শিক্ষকতাই ভুলতে বসেছেন এখন। এসব বন্ধ হবে? আরে ভাই ঘরের দরজা বন্ধ না করলে নিজ থেকে বন্ধ হয় না। তো উপাচার্যদের অন্যায় কি এমনিতে বন্ধ হবে। কেননা অন্যায়কারী উপাচার্য যেমন কিছু ও কতিপয় নেতাদের পা চাটা দালাল তেমনি ক্যাম্পাসে কিছু শিক্ষক ও ছাত্র নেতারা উপাচার্যের দালাল। কথা আছে, রতনে রতন চেনে। রতনে যদি রতনই চিনবে তো দলালে দালাল চিনবে না কেন? আমি একটা বিষয় সব সময় বলি বা লিখি তা হলো আইনের কঠোর প্রয়োগ।
ফিরে আসা যাক নাসির উদ্দিন মহোদয়ের বিষয়ে। তিনি গত দুইদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঐ বহিষ্কারে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে। ক্যাম্পাসে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কিছু দালাল ও পাতি নেতাদের দিয়ে জিনিয়ার বিরুদ্ধে বিক্ষোভও করিয়েছেন। উপাচার্যকে কি হুঁশিয়ারি দিব? হুঁশিয়ারিতে কি কোন কাজ হবে। হুঁশিয়ারি তো তাদেরকেই দেয়া যায় যারা বোঝেন। বাঘ চিনলেই তো বাঘের হুঙ্কারে ভয় পায়। না চিনলে ভয় পাবে কে? ঘাড় মটকে দিলে তবেই না বাঘ চিনবে। তেমনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করার সময় এখন আর নেই। নাসির উদ্দিন অপরাধের কালিমায় লিপ্ত তার অন্যায়ের ঘাড় মটকে দিতে হবে। সেই সঙ্গে তার দালালদের কান ধরে দালালি থেকে বের করে আনতে হবে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো জিনিয়ার প্রতি হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে এবং উপাচার্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। এটা আশার বানী যে অন্যায়ের প্রতিবাদ হবেই। ক্যাম্পাসে সাংবাদিকরা না থাকলে তো ঐ উদ্দিন, চৌধুরী, খান উপাচার্যরা যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইটও বেঁচে দিতেন তা কি আর বলতে? ঘটনার পর ভুক্তভোগী জিনিয়াকে আমি একটা কথাই বলেছিলাম, ধৈর্য ধরো সব ঠিক হবে। আজকেও বলছি, ঠিক অবশ্যই হবে। জিনিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা আছেন, সদ্য ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা ছেড়ে আসা আমার মতো সাংবাদিকরা আছেন। অন্যায়কারী উপ-আশ্চর্যের (উপাচার্য) পতন হবেই। আমরাই জিনিয়া, জিনিয়া আমাদেরই। ক্যাম্পাসের মাধ্যমেই সাংবাদিকতা শিখেছি, ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের সঙ্গে কতিপয় দুষ্কৃতিকারীরা অন্যায় করবে আর আমরা লিখেই শেষ করব তা নয়। আমরা মাঠে নেমেছি, থাকবো। জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ না তোলা পর্যন্ত এবং উদ্দিন সাহেবকে তার চেয়ার থেকে না হটানো পর্যন্ত আমরা যে থামছি না। দেখি উদ্দিন সাহেব তার দালালদের নিয়ে অন্যায় কতটুকু করতে পারেন।
লেখক: সাংবাদিক ও সাহিত্যিক, ই-মেইল: shafi9312@gmail.com
 
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না। 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop