মুক্তকথাগারো পাহাড়ের সন্তান মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন তালুকদার: একটি স্মরণীয় নাম

সুজন হাজং

fb tw
somoy
গুজিরকোনা গ্রামের কাদামাটি গায়ে মেখে স্বপ্নভরা চোখে যে তরুণ একাত্তরে মুক্তির সংগ্রামে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন তাঁর নাম জালাল উদ্দিন তালুকদার। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে পতাকাবাহী একজন বীর সেনানী। সেই প্রদীপ্ত যৌবনের দুর্দান্ত সাহসী এই মানুষটি একদিন মুক্তিকামী বাঙালির চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে এদেশ স্বাধীন করেছিলেন ।
শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ছাত্রলীগে সক্রিয় অংশগ্রহণে মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের পথচলা। তখন ছিল ১৯৬৬ সাল। তখন চলছে বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফার দাবিতে আন্দোলন।
বঙ্গবন্ধু ছাত্রনেতাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, জেলায় জেলায় অবস্থান শক্তিশালী করে ছয় দফা দাবির পক্ষে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাতে। যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সারা বাংলার মানুষের কাছে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ৬ দফা দাবির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন ।
সেই ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু অবিচল আস্থা রেখেছিলেন তৎকালীন ছাত্রলীগের তরুণ নেতৃত্বের সাহসিকতার ওপর। জালাল উদ্দিন তালুকদার বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা দাবির গুরুত্ব উপলব্ধি করেন এবং নিজেও ছয়দফা দাবির পক্ষে প্রচারণা শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি ১৯৬৭ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়েন।

ছবি: বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন তালুকদার

১৯৬৬ সালের ছয় দফা থেকে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, অতঃপর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ছিল জালাল উদ্দিন তালুকদারের রাজনৈতিক জীবনের এক গৌরবময় অধ্যায়।
জীবনের দীর্ঘ ত্যাগ, তিতিক্ষা এবং সংগ্রামের পথ পরিক্রমায় দুর্গাপুর কলমাকান্দা অবহেলিত জনপদের মানুষ তাঁকে বরণ করে নিয়েছিল তাদের একজন রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে। তিনি ১৯৭৯ সালে সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ।
রাজনীতি করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের গ্রেনেড হামলায় তিনি পা দুটি হারান। জাতীয় সংসদে তিনিই একমাত্র সাংসদ ছিলেন যার দুটি পা ছিল না। প্রবল আত্মবিশ্বাস এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে তিনি দ্বিতীয়বার ১৯৮৬ সালে এবং তৃতীয় বার ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ।
জালাল উদ্দিন তালুকদার আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগের একজন খাঁটি নেতা ছিলেন তিনি‌। তিনি দীর্ঘদিন নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এবং দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করেন। তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি আজো একটি আবেগের নাম, অনুভূতির নাম।
টংক আন্দোলনের পূণ্যভূমি নেত্রকোনা জেলার সুসং দুর্গাপুর-কলমাকান্দার সিংহ পুরুষ জালাল উদ্দিন তালুকদার ছিলেন একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। সাধারণ মানুষের পাশে  দাঁড়ানোর অদম্য স্পৃহা থেকেই তিনি রাজনীতিকে জীবনের দর্শন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে এদেশের সকল প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি বঙ্গবন্ধু  এবং আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী ছিলেন ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন তালুকদার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনার রূপকার ছিলেন। তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনাসমৃদ্ধ নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি হাজং গারো অধ্যুষিত এই অঞ্চলের মানুষদের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন। তিনি ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন এখানকার হিন্দু,মুসলিম ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে।
২৫ সেপ্টেম্বর ছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন তালুকদারের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী। ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর হত্যার বিচার পায়নি দুর্গাপুর কলমাকান্দার মানুষ।
জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন তালুকদারের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।
 

লেখক : গীতিকার
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না। 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop