লাইফস্টাইলক্যান্সারসহ মস্তিষ্কের যে ক্ষতি করে ওভেনের খাবার

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
রান্নাঘরে মাইক্রোওয়েভ ওভেন না থাকলে গৃহিণীদের চিন্তার শেষ থাকে না। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনকে একটু হলেও স্বস্তি দেয় এই যন্ত্রটি। কিন্তু জানেন কি বিভিন্ন সমীক্ষায় জানা গেছে, নিয়মিত মাইক্রোওয়েভে রান্না খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে রীতিমতো ক্ষতিকর! যদি না জানা থাকে তাহলে জেনে নিন।
যারা দীর্ঘ দিন মাইক্রোওয়েভে রান্না করছেন, এই যন্ত্রটি ছাড়া চোখে অন্ধকার দেখেন তাঁদের সতর্ক হওয়ার সময় হয়েছে। এমনটাই জানালেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সুবর্ণ গোস্বামী। তাঁর মতে, 'আধুনিক জীবনে মাইক্রোওয়েভ অন্যতম নির্ভরতা হলেও এর ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ টানা উচিত। এই যন্ত্রে মাছ, মাংস, ডাল, যা-ই রান্না করা হোক না কেন, ডি-নেচারড হয়ে যায়। খাবারের কোনও কোনও খাদ্যগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এক নাগাড়ে মাইক্রোওয়েভে রান্না খাবার খেলে ক্যানসার-সহ নানা শারীরিক সমস্যা ডেকে আনতে পারে।’’   

পুষ্টিবিদ সুমেধা সিংহের মতে, ‘‘মাইক্রোওয়েভে রান্না করাই হোক বা খাবার গরম করা— এই যন্ত্রে ব্যবহার করা হয় রেডিয়েশন। এটি আমাদের শরীর-সহ পরিবেশেরও নানা ক্ষতি করে। অনেক সময় আমরা রেস্তরাঁর খাবার এনে মাইক্রোওয়েভে গরম করে খাই। ডিপ ফ্রাই করা খাবার রেডিয়েশন দিয়ে গরম করলে ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড আরও ক্ষতিকর হয়ে ওঠে বলে।’’
১. মাইক্রোওয়েভে দুধ ফোটাবেন না। কারণ, এতে দুধের মধ্যে থাকা কিছু প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি, দুধে থাকা উপকারী অ্যামিনো অ্যাসিড পরিবর্তিত হয়ে কার্সিনোজেনিক সাবস্ট্যান্স তৈরি করে। কার্সিনোজেনিকের অর্থ বিষাক্ত রাসায়নিক যা ক্যানসার ডেকে আনে।
২. মাইক্রোওয়েভে চিকেন বা মাটন রান্না সহজ ও নির্ঝঞ্ঝাট বলে অনেকেই চটজলদি মাইক্রোওয়েভ কুকিং পছন্দ করেন। কিন্তু জানলে আঁতকে উঠবে যে মাংসে থাকা বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড মাইক্রো আভেনের পাল্লায় পড়ে ডি-নাইট্রোসোডিএন্থানল অ্যামিনস নামে বিষাক্ত যৌগ উৎপাদন করে, যা ক্যানসারের শঙ্কা বাড়িয়ে তোলে।
৩. ডিপ ফ্রিজে রাখা বরফ জমা সব্জি এই ম্যাজিক মেশিনে গরম করলে উপকারী প্ল্যান্ট অ্যালকালয়েড বিষাক্ত পদার্থে পরিণত হয়। এটিও আমাদের শরীরে বিভিন্ন রোগ ডেকে আনে।  
৪. বিট, গাজর, মুলোর মত রুট ভেজিটেবলস মাইক্রোওয়েভে সেঁকে নিয়ে স্যালাড বানালে এক দিকে যেমন এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়, তেমনই এত বেশি ফ্রি র‍্যাডিক্যাল উৎপন্ন হয় যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
৫. খাবারে থাকা ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই-সহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মাইক্রোওয়েভের ফলে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
৬. নিয়মিত মাইক্রোওয়েভের রান্না খেয়ে অ্যাপেন্ডিসাইটিস, গলস্টোন, বন্ধ্যাত্ব, ছানি এবং ইস্কিমিক হার্ট ডিজিজের প্রবণতা বাড়ে।
৭. মাইক্রো আভেনের ফলে করোনারি আর্টারিতে (হার্টের রক্তবাহী ধমনি) চর্বির প্রলেপ পড়ার গতি বেড়ে যায় হুহু করে। ফলে হার্টের অসুখ এবং আচমকা হার্ট অ্যাটাকের চান্স বাড়ে।
৮. হজমক্ষমতা একেবারে কমে যায়, লাগাতার বদহজম চলতেই থাকে।
৯. নিয়মিত মাইক্রোওয়েভের রান্না খেলে লসিকাগ্রন্থির কর্মক্ষমতা কমে যায়। লসিকা আমাদের শরীরকে কয়েকটি ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। তাই লসিকার কার্যক্ষমতা হ্রাস পেলে তা শঙ্কার। মাইক্রোওয়েভের খাবার খেলে অন্ত্র এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের প্রবণতাও বাড়ে।
১০. লাগাতার মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারে আমাদের মস্তিষ্কের তরঙ্গকে ওলটপালট করে দেয়। নার্ভ ও মস্তিষ্কের সমস্যা দেখা দেয়। আর এর প্রভাবে মানসিক স্থিতাবস্থা নষ্ট হয়ে যেতে শুরু করে। স্মৃতিশক্তি, বুদ্ধি, স্থিরতা, ধৈর্য কমতে শুরু করে। শুরু হয় ডিপ্রেশন।
সূত্র : আনন্দবাজার

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop