ksrm

পশ্চিমবঙ্গএনআরসির আগে আসছে সিএবি বিল : অমিত শাহ

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) তৈরি করার আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি) আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
তিনি বলেন, ভারতে যত হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান এসেছেন তাদের সবাইকে নাগরিকত্ব দিয়ে দেয়া হবে। চিরকালের জন্য দেয়া হবে। তবে একজন অনুপ্রবেশকারীকেও ভারতে থাকতে দেয়া হবে না।
মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে জনসভায় এসব কথা বলেন ‍তিনি।
এনআরসি প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, সব শরণার্থীকে আশ্বস্ত করছি যারা এ দেশে চলে এসেছেন, তাদের কাউকে ভারত ছাড়তে বাধ্য করা হবে না।
লোকসভা নির্বাচনের আগে কলকাতায় এসে এ কথাই বলেছিলেন। ভোট মিটিয়ে নতুন করে ক্ষমতায় ফেরার মাস চারেক পরে আবার কলকাতায় এলেন অমিত শাহ এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) ও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি) নিয়ে সেই একই কথা বললেন। তবে এবার আরো জোর দিয়ে, আরো স্পষ্ট ব্যাখ্যা  দিলেন তিনি। যত রকমভাবে কট্টর হিন্দুত্বের বার্তা দেয়া সম্ভব, প্রায় তত রকম ভাবে সেই বার্তাও দিয়ে গেলেন বিজেপি সভাপতি।
প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ভারতে চলে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টানদের প্রত্যেককে নাগরিকত্ব দিয়ে দেয়ার জন্য বিল পাস করতে চলেছে ভারত সরকার— বললেন অমিত শাহ। কিন্তু একজন অনুপ্রবেশকারীকেও ভারতে থাকতে দেয়া হবে না— বার্তা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি সভাপতির।
অমিত শাহ এনআরসি নিয়ে কী বলেন, সে দিকেই মঙ্গলবার তাকিয়ে ছিল গোটা বাংলা। ভোটের আগে এনআরসি নিয়ে সংশয় বা আতঙ্ক বাংলায় সেভাবে তৈরি হয়নি। কিন্তু প্রতিবেশী রাজ্য আসামে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হতেই পরিস্থিতি কিছুটা বদলে যায়। আসামের ১৯ লাখ বাসিন্দার নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে। তার মধ্যে হিন্দু বাঙালির সংখ্যাও বিপুল। গোর্খা, বিহারি, মারোয়াড়ি-সহ অন্যান্য জনগোষ্ঠীরও অনেকের নাম বাদ যায়। তারপরেই পশ্চিমবঙ্গে গরম হয় হাওয়া। এনআরসি নিয়ে কোথাও তৈরি হয়েছে সংশয়, কোথাও বিভ্রান্তি, কোথাও আতঙ্ক।
তৃণমূল তো বটেই, বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসও এনআরসির বিরোধিতায় সরব হয়েছে। এনআরসি একটি বাঙালি বিরোধী পদক্ষেপ— এমন ব্যাখ্যাও দেয়ার চেষ্টা করেছেন তৃণমূলের কেউ কেউ। রাজ্য বিজেপি তার জবাব দেয়ার চেষ্টা করছিল। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ গত কয়েক দিনে একাধিক বার মুখ খুলেছিলেন। এ দেশে যে হিন্দুরা রয়েছেন বা এসেছেন, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই— দিলীপ ঘোষ বার বার এই বার্তাই দেয়ার চেষ্টা করছিলেন।
তবে অমিত শাহ ১ অক্টোবর কী বলেন, তা শোনার অপেক্ষায় ছিল বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বও।
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তথা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ দিন নিজের ভাষণে এনআরসি প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি বাংলার জনতাকে সত্যিটা বলতে এসেছি।’ কোনও রাখঢাক না করে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তিনি। অমিত শাহ বলেন, ‘মমতাজি বলছেন, এনআরসি হলে লাখ লাখ হিন্দু শরণার্থীকে বাংলা ছেড়ে যেতে হবে। এর চেয়ে বড় কোনও মিথ্যা হয় না।’
 বিজেপি সভাপতির কথায়, ‘আমি সবার সামনে আশ্বস্ত করছি, সব শরণার্থীকে আশ্বস্ত করছি, যারা এদেশে চলে এসেছেন, তাদের কাউকে ভারত ছাড়তে বাধ্য করা হবে না।’ এনআরসি নিয়ে তৃণমূল যা বলছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অমিত শাহ দাবি করেন। তাঁর কথায়, ‘এই মিথ্যাটা ছড়ানো হচ্ছে বাংলার মানুষকে উস্কে দেয়ার জন্য।’
অমিত শাহ বলেন, এমন কিন্তু নয়। তার ভাষণের অর্ধেকটাই এদিন ছিল এনআরসি এবং সিএবি প্রসঙ্গ। ভোটের আগে যতটা বলেছিলেন এই প্রসঙ্গে, এদিন তার চেয়ে অনেক বিশদ ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। বলেন, ‘এনআরসি তৈরি করার আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আনছে ভারত সরকার। ভারতে যত হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান এসেছেন, তাদের সবাইকে নাগরিকত্ব দিয়ে দেয়া হবে। চিরকালের জন্য দিয়ে দেয়া হবে।’ প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে ভারতে চলে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দিতে ওই বিল সংসদে পেশ করা হয়েছিল প্রথম মোদি সরকারের আমলেই— মনে করিয়ে দেন দ্বিতীয় মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অমিত শাহ বলেন, ‘নাগরিকত্ব সংশোধন বিল যখন আনা হয়েছিল, তৃণমূল রাজ্যসভা চলতে দেয়নি। বিলটাকে পাস হতে দেয়নি। তাই মতুয়া ভাইয়েরা-সহ অন্য শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেয়া যায়নি।’ শাহের আশ্বাস, ‘এখন পরিস্থিতি বদলেছে। এখন আর আটকাতে পারবে না।’
নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম থেকে এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সতর্কবার্তাও উচ্চারণ করেছেন অমিত শাহ। বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে যারা ভারতে চলে আসতে বাধ্য হয়েছেন, তাদের ‘প্ররোচিত’ করার রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। মমতার উদ্দেশ্যে শাহের বার্তা, ‘যারা নিজেদের ভূমিতে ফিরেছেন, সন্ত্রাসের শিকার হয়ে এসেছেন, তাদের নিয়ে মজা করবেন না, দীর্ঘশ্বাস লাগবে।’’
বাংলার বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে দলের সর্বভারতীয় সভাপতির বার্তা— বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআরসির বিষয়ে বোঝাতে হবে। কোনও হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টানকে ভারত ছেড়ে যেতে হবে না, সবাইকে নাগরিকত্ব দিয়ে দেয়া হবে, তার পরে এনআরসি হবে—এই কথাই বোঝাতে বলেছেন অমিত শাহ।
‘অনুপ্রবেশকারী’ তত্ত্বে অবশ্য অটলই থেকেছেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘একটাও অনুপ্রবেশকারীকে ভারতের মাটিতে আমরা থাকতে দেব না। একজনকেও থাকতে দেব না।’ দেশের সুরক্ষার জন্যই অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো দরকার বলে তিনি এ দিন মন্তব্য করেছেন। তার কথায়, ‘কোনও শরণার্থীকে যেতে হবে না, কিন্তু কোনও অনুপ্রবেশকারীকে থাকতে দেব না।’
তৃণমূলনেত্রীকে কটাক্ষ করে এ দিন অমিত শাহ প্রশ্ন তোলেন— বিরোধীনেত্রী থাকাকালীন কেন মমতা নিজেই অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোর দাবিতে সরব হয়েছিলেন? এখন সেই অনুপ্রবেশকারীরাই মমতার ভোটব্যাঙ্কে পরিণত হয়েছে, তাই তিনি এনআরসি হতে দেবেন না বলছেন— মন্তব্য বিজেপি সভাপতির।
বিজেপি এ বারের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ১৮ আসন পাওয়ায় পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে বলে  অমিত শাহ দাবি করেন। প্রথমে কপট অনুযোগের ভঙ্গিতে বিজেপি কর্মীদের তিনি বলেন, ‘আপনারা মমতাজিকে বেশি আসন দিয়েছেন। আমাদের দিয়েছেন ১৮টা।’ তারপরেই বলেন, ‘বিজেপির ১৮টা আসন পাওয়ার পরিণাম দেখুন। আগে দুর্গাপুজোর বিসর্জনের জন্য আদালতে যেতে হচ্ছিল। এ বার আর কারও হিম্মত হচ্ছে না বাধা দেয়ার। বসন্ত পঞ্চমী দেখুন, কারও হিম্মত হচ্ছে না সরস্বতী পুজোয় বাধা দেয়ার। কারও হিম্মত নেই রামনবমীতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার।’
বিজেপির ভোট বাড়লেই হিন্দুদের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়— এই রকম বার্তাই এ দিন বার বার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন অমিত শাহ। বিজেপির আর কোন সর্বভারতীয় নেতাকে এর আগে বাংলায় এসে এত কট্টর হিন্দুত্বের কণ্ঠস্বরে কথা বলতে শোনা গিয়েছে, মনে করা সত্যিই কঠিন।
এনআরসি নিয়ে অমিত শাহ যা বলেছেন এবং যে ভাবে কট্টর হিন্দুত্বের বাণী দিয়ে গিয়েছেন।
জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করার জন্য এই বাংলার শ্যামাপ্রসাদই আন্দোলন শুরু করেছিলেন— মনে করিয়ে দেন অমিত শাহ। তার পরে বলেন, বাংলা মোদি সরকারকে ১৮টা আসনে জেতানোর সঙ্গে সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন পূরণ করে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। শ্যামাপ্রসাদের রাজ্যে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠিত হবেই, দাবি বিজেপি সভাপতির। সূত্র আনন্দ বাজার।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop