মুক্তকথাসম্রাটের এই প্রাসাদ সেই প্রাসাদ

পলাশ মাহমুদ

fb tw
somoy
সম্রাটরা প্রাসাদে থাকেন। তাদের মাথায় থাকে মুকুট, পরনে রাজকীয় পোশাক। সম্রাটদের ঘিরে থাকে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী। তাদের পথ চলা হয় নির্বিঘ্ন। পথে নামলে সামনে থেকে মাথা নিচু করে সরে যায় সবকিছু। সড়ক যেন তার জন্যই তৈরি। ইতিহাসে যে সকল সম্রাজ্যের অধিপতিদের কাহিনী পাওয়া যায় মানুষের মধ্যে তাদের ইমেজটা এমনই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনো সম্রাট রয়েছে। তাদের মাথায় থাকে রাষ্ট্রীয় মুকুট। থাকে জনগণের স্বীকৃতি। সংবিধানে সম্রাটকে মর্যাদা দেয়া হয়।
তবে রাষ্ট্র বা জনগণের স্বীকৃতি ছাড়াও নিজ প্রভাবে কেউ কেউ সম্রাটদের মতোই ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন। অর্থের প্রাচুর্য, অফুরন্ত ক্ষমতা, ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাফিয়া চক্রের গড ফাদাররা গড়ে তোলেন নিজস্ব এমন সাম্রাজ্য।
তেমনই একজন সম্রাট ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট। তার নামটি যেমন সম্রাট, দাপটও ছিলো সম্রাটদের মতোই। তিনি সড়কে নামলে সামনে থেকে সরে যেত সবকিছু। হুইসেল বাজিয়ে যেতেন গন্তব্যে। মন্ত্রী-সাংসদরাও অতটা দাপদ দেখাতে পারেন না।
ক্যাসিনো সম্রাটকে ঘিরে থাকতো অস্ত্রধারী নিরাপত্তা বাহিনী। আশপাশে তার প্রজার অভাব ছিল না। অপকর্মের এই গডফাদারের অনুসারীরা ঢাকা কাঁপিয়ে বেড়াত। এই সম্রাটের নির্দেশেই গত ১০ বছর ধরে তার রাজ্যে চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, বাড়ি ও জমি দখল সবই হয়েছে।
সম্রাটের 'গুনের মুগ্ধতা' দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছে গেছে। গণমাধ্যমে এসেছে, সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় জুয়ার আস্তানা মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনোতে সম্রাট ভিআইপি জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত। সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি এয়ারপোর্টে তাকে রিসিভ করার বিশেষ ব্যবস্থাও আছে। এয়ারপোর্ট থেকে তাকে নেয়া হতো বিলাসবহুল গাড়ি ‘লিমুজিন’যোগে।
সম্রাটের এই রাজত্ব চলতো রাজধানীর কাকরাইল থেকে। কাকরাইলের রাজমণি সিনেমা হলের উল্টোপাশে তার কার্যালয় রাজপ্রাসাদের চেয়ে কম কিছু নয়। এই প্রাসাদে গভীর রাত পর্যন্ত চলতো ভিআইপি জুয়া। বাইরে অপেক্ষায় থাকতো দামি ব্রান্ডের বহু গাড়ি। সম্রাটের এই কার্যালয়ের ভিতরে ঠিক কী আছে তা এখনো জানা যায়নি। তবে এখানে খেলতে এসে জিতে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। কেউ জিতলেও তার টাকা জোরপূর্বক রেখে দেয়া হত। জুয়ার এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘চুঙ্গি ফিট’। অনেকে ‘অল ইন’ বলে থাকে। যারা এখানে যেতেন তারা এই পদ্ধতির ফলে সর্বস্বান্ত হয়ে ফিরতেন।
কিন্তু কী দিয়ে কী ঘটে গেল; নিজ কার্যালয়েই এখন সর্বস্বান্ত সম্রাট। কেউ তার কাছে না জিতলেও এখন তিনি সবার কাছেই হেরে গেছেন। হেরেছেন জনগণের কাছে, হেরেছেন রাষ্ট্রের কাছে। আইনের চেয়ে কোনো সম্রাটের হাত বড় হয় না তা সম্রাটের পতনের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো। ক’দিন আগে যিনি এই প্রাসাদের সম্রাট ছিলেন আইনের কাছে পরাজিত সেই সম্রাটকে রোববার সেই প্রাসাদে নেয়া হলো হাতকড়া পরিয়ে।
অবশ্যই ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ার পরও সম্রাটের কার্যালয় ছিল দুর্ভেদ্য দুর্গ। গ্রেফতার এড়াতে বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে নিজ কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন সম্রাট। তার গ্রেফতার ঠেকাতে কার্যালয়ে ও এর আশেপাশে প্রস্তুত ছিল কয়েক’শ নেতাকর্মী। কিন্তু শেষ রক্ষা হবে না বুঝতে পেরেই সটকে পড়েছিলেন এই অপরাধ জগতের সম্রাট।
দিন যেতে না যেতেই ফাঁকা হয়ে যায় সম্রাটের প্রাসাদ। বাহিনীর সদস্যদের আনাগোনা কমতে থাকে। এক পর্যায়ে সম্রাটের কার্যালয়ে আর কাউকে দেখা যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ছিল।
রোববার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে ঢাকায় নিজ কার্যালয়ে আনা হয়েছে। কার্যালয়ের সম্রাটকে পাহারা দেয়ার সেই বাহিনী নেই। আছে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
প্রাসাদের সামনে সেই দামি গাড়িগুলো আর দেখা যায় না। দেখা যায় না সুন্দরীদের চলাচল। হুইসেল বাজিয়ে বিখ্যাত সব ব্রান্ডের গাড়ি চলাচলও আর এখন চোখে পড়ে না। ওই পথে যারা যাতায়াত করতেন তারা অবাক হয়ে তাকিয়ে নিজের কাছেই জানতে চান, সম্রাটের সেই প্রাসাদ কি এই প্রাসাদ?

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop