খেলার সময়সম্রাটের নেতৃত্বেই ক্যাসিনো চলতো ক্লাব আঙিনায়

সময় সংবাদ

fb tw
ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের নেতৃত্বেই ক্যাসিনো চলতো ক্লাব আঙিনায়। আর তা দেখাশোনা করতেন যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা এনামুল হক আরমান। এতোদিন সব জানলেও রাজনৈতিক চাপ এবং ভয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন ক্লাব পরিচালকরা। এখন পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ায় দায় মেনে নিচ্ছেন তারা। চাইছেন ক্লাব চালানোর আরো একটা সুযোগ।
ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। ১১৬ বছরের পুরানো, ঐতিহ্যবাহী এক ক্রীড়া সংগঠন। ফুটবল, হকি, ক্রিকেট ছাড়াও দেশীয় নানা খেলাধুলায় নিয়মিতই একসময় অংশ নিতো ক্লাবটি।
তবে কালের পরিক্রমায় সেই মহিরুহ এখন মলিন। নেই সেই রঙ। বয়সের ভারে ক্লান্ত, ন্যুব্জ তার আঙিনা। আর সেই সুযোগটাই নিয়েছিল রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা, দাবি ক্লাব পরিচালকদের। তাস খেলতে খেলতে চলচ্চিত্রের কাহিনীর মতোই সম্রাট বনে গিয়েছিলেন ক্লাবের শীর্ষ কর্তা।
মতিঝিলের ক্লাব পাড়ায় দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছিল ক্যাসিনো বাণিজ্য। সম্রাটের ক্ষমতাবলে ২০১৬ তে সে ধারায় যুক্ত হয় ভিক্টোরিয়ার নাম। বিনিময়ে দৈনিক ক্লাব কোষে জমা হতো ৪০ হাজার টাকা। যুবলীগ নেতা আরমান দেখাশোনা করতেন ক্লাবটির ক্যাসিনো।
ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এ কে এম নুরুজ্জামান বলেন, সম্রাট ভিক্টোরিয়া ক্লাবে কার্ড খেলতে আসতেন। ওইখান থেকে তিনি ক্লাবে সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এক্সিকিউটিভ মেম্বারও হন।
তিনি আরো বলেন, ভিক্টোরিয়া ক্লাবে কয়েক বছর ধরে এটা চলতেছে। এটা অস্বীকার করা যাবে না।
এতোদিন সব জানলেও কিছুই করার ছিল না ক্লাব কর্মকর্তাদের। রাজনৈতিক চাপ এবং ভয়ে তারা মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন তারা।
ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসিব উদ্দিন বলেন, আমাদের কাছে জোরপূর্বকভাবে নেয়া হয়েছে। এটা নিয়ে আমরা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম।
তবে পরিস্থিতি পরিবর্তনের সুযোগে এখন সবাই মুখ খুললেও ক্লাব পরিচালকদের এ দায় স্বীকারের নীতিকে মানতে পারছেন না ভিক্টোরিয়ার সাবেক খেলোয়াড় এবং কোচ আবু ইউসুফ।
কোচ আবু ইউসুফ বলেন, এখন যারা দায়িত্বে আছেন বা আসতেছে। এরা আসলে স্পোর্টস ম্যান না। এদের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো এখান থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা পয়সা উপার্জন করা।
ক্রীড়াঙ্গন বাঁচাতে এ রকম সংগঠকদের হাত থেকে ক্লাবকে দূরে রাখার পরামর্শ তার।
পুলিশি অভিযানের পর থেকেই বন্ধ রয়েছে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। পরিবর্তিত সময়ে ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটিকে বাঁচাতে আরেকটি সুযোগ চান পরিচালকরা।
ক্যাসিনো সম্রাট খ্যাত যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে রোববার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। সম্রাটের সঙ্গে তার সহযোগী আরমানকেও গ্রেফতার করা হয়। এরপর সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর কাকরাইলে তার কার্যালয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব।
নিজ কার্যালয়ে পশুর চামড়া রাখায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে সম্রাটকে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন। রাতেই তাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হওয়া ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের শুরু থেকেই নজরদারিতে ছিলেন সম্রাট। এ সময়ের মধ্যে তিনি বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় তিনি দেশ ছাড়তে পারেননি।
রাজধানীর ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে জুয়াড়িদের কাছে বেশ পরিচিত ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। ঢাকায় অবৈধভাবে ক্যাসিনো ও জুয়ার বোর্ড পরিচালনার অভিযোগে এতদিন পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন বলে জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীতে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা ও অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসাসহ আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে।
রাজধানীতে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া র‌্যাবের অভিযানে আটক হন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপর ধরা পড়েন আরেক যুবলীগ নেতা জি কে শামীম। এ দু’জনই অবৈধ আয়ের ভাগ দিতেন সম্রাটকে। তারা গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। এতে বেকায়দায় পড়েন সম্রাট। কিন্তু সম্রাট ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযান শুরুর প্রথম তিন দিন দৃশ্যমান ছিলেন তিনি। ফোনও ধরতেন। কয়েক দিন কাকরাইলের ভূঁইয়া ম্যানশনে নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়েও অবস্থান করেন সম্রাট। ভূঁইয়া ম্যানশনের অবস্থানকালে শতাধিক যুবক তাকে পাহারা দিয়ে রাখছিলেন। সেখান থেকে অন্য স্থানে পালিয়ে যান সম্রাট। এরপর তার অবস্থান নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর সম্রাটের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত একটি আদেশ দেশের বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে পাঠানো হয়। তার ব্যাংক হিসাবও তলব করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়, সম্রাটের ব্যাংক হিসাবে কী পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়েছে, তার হিসাব দিতে।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop