শিক্ষা সময়‘আবরারের দেহে জিহাদের ক্ষত চিহ্ন’, ঢাবিতে নির্যাতনের বর্ণনা

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ছাত্রলীগ থেকে ১১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফাহাদকে নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে মেডিকেল রিপোর্টে। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুমের মতো আরো বেশ কয়েকটি টর্চার সেল ছিলো বলে জানা গেছে; যেখানে ডেকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হতো। একই রকম নির্যাতন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলেও করা হয় বলে দাবি করেছেন ঢাবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রত্যক্ষদর্শী এক সাবেক শিক্ষার্থী।
এস এম মামুন হোসাইন নামের ওই শিক্ষার্থী সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে সোমবার (৭ অক্টোবর) এক স্ট্যাটাসে বঙ্গবন্ধু হলসহ বিভিন্ন হলে নির্যাতনের তথ্য তুলে ধরেছেন।
এস এম মামুন বিশ্ব ধর্মতত্ত্ব বিভাগের ২০১০-১১ বর্ষের শিক্ষার্থী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন।
ফেসবুকে এস এম মামুনের স্ট্যাটাসটি সময় নিউজের পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো...
‘নির্যাতনের এ চিহ্নগুলো খুবই পরিচিত...
২০১১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের বঙ্গবন্ধু হলে উঠার পর থেকে প্রায় প্রতি রাতেই কিছু নিরীহ শিক্ষার্থীকে নিয়ম করে পেটাতো ছাত্রলীগ। অভিযোগ, তারা শিবির করে, ছাত্রদল করে, বা ওই সংগঠনের কারো সঙ্গে কথা বলেছে বা তাদের ফেসবুক গ্রুপে বা পোস্টে লাইক দিয়েছে বা কমেন্ট করেছে।’
মামুন লিখেছে, ‘সব সময় ভয়ে থাকতে হতো আমি যে মানুষটির সঙ্গে কথা বলছি সে ছাত্রলীগের বাইরে অন্য কোনো দল করে নাতো?? করলে আজ রাতে হয়তোবা আমার উপরেও আজাব নাজিল হবে। প্রতি রাতেই যাদেরকে ধরা হতো তাদের হাত, পিঠ, পায়ে মেরে এমন রক্তাক্ত করতো সন্ত্রাসীরা। ভয়ে ওইসব ভাইদেরকে কখনো হাসপাতালে দেখতেও যাওয়ার সাহস হতো না কারো। কারণ সেখানেও ছাত্রলীগের পাহারা থাকতো।’
জিহাদ নামে এক ছাত্রকে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে মামুন লেখেন, ‘জিহাদ নামে আমাদের বর্ষের একজন আরবি বিভাগের ছাত্র তারাবীর (খতম তারাবী) নামাজ পড়াতো। সে ছিলো পবিত্র কুরআনের হাফেজ। একদিন নামাজ শেষে তার ও অন্য বন্ধুদের সঙ্গে চা খেয়ে রুমে গেলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি জিহাদকে রাতে মেরে হল ছাড়া করা হয়েছে।’
মামুনের ভাষায়, ‘এতোটাই মারা হয়েছে যে হেটে হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও ছিলো না তার। হলের কয়েকজন কর্মচারী ধরে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেছে। এখন মেডিকেলে ভর্তি আছে। তার অপরাধ সে তার বিভাগের এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছে। যে ছাত্রদল করে।’
মামুন বলেন, ‘সব ভয় ডর ভেঙে জিহাদকে দেখতে মেডিকেলে যাই। বন্ধু জিহাদের শরীরে যে ক্ষতের চিহ্নগুলো সেদিন দেখেছিলাম সেগুলোই আজ আবরারের মরাদেহে দেখছি। পার্থক্য এটুকু যে জিহাদ জানে রক্ষা পেয়েছিলো। আবরারার পায়নি।’
ঢাবিতে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে মামুন বলেন, ‘ঢাবিতে পড়াশোনার ৫ বছরে এমন অসংখ্য ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। নির্মম নির্যাতনের ঘটনা এতটাই বেশি ঘটতো যে আজ কাউকে নির্যাতন করা হয়নি এমনটা শুনলে আমরা অবাক হতাম। প্রতিদিনই কোন না কোন হল থেকে খবর আসতো অমুক হলে এতো সেশনের এতো জনকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছে।’
মামুনের বর্ণনা মতে, ‘যে হলে বিরোধী ছাত্র রাজনীতি করার সন্দেহে নির্যাতন কম হতো সে হলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে নাকি কৈফিয়ৎ দিতে হতো কেনো বিরোধীদের পেটানো হচ্ছে না।’
আরেক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে মামুন লিখেছেন, ‘২০১৩ সালে লাইব্রেরীর সামনে এম এম মারুফ উল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থীকে তৎকালীন ছাত্রলীগের সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেরে রক্তাক্ত করে (পুরো শরীর রক্তে ভিজে ছিলো) ফেলে রেখে চলে যায়। একজন নিরীহ মানুষকে লাইব্রেরীর ভেতর অধ্যয়নরত অবস্থায় ধরে এনে শতশত মানুষের সামনে এভাবে নির্মম নির্যাতন করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে মারুফ ভাইকে আমি ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাই। এ কারণে পরে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আমাকে অনেক হুমকি ধামকি শুনতে হয়েছিলো।’
এসব নির্যাতন যারা করে তাদের বিচার হয় না অভিযোগ করে মামুন বলেন, ‘ভিপি নুর, ছাত্র অধিকার পরিষদের ফারুক, মামুন, রাশেদসহ অন্যদেরকে প্রকাশ্যে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। পুরো দেশ দেখেছে। অপরাধীদের কোন বিচার হয়নি।’
আবরার হত্যার তদন্তে থাকা ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ এনে তিনি লিখেছেন, আবরার হত্যার তদন্তে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সে কমিটির এক নাম্বারে যার নাম তিনি বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বন্ধু জিহাদসহ বঙ্গবন্ধু হলের শতশত নিরীহ শিক্ষার্থীকে নির্মম নির্যাতন করেছে সে। তার নির্যাতনের শিকার অনেকেই চিরতরে শারীরিক সমস্যায় পতিত হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যের বিরুদ্ধেও নিরীহ শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু আজ আবরার হত্যার ছাত্রলীগ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য তারা। তাদের কাছ থেকে আদৌ সুষ্ঠু তদন্ত আশা করা যায়? নাকি আবরার হত্যাকারীদেরকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য নাটক মঞ্চায়নের চেষ্টা?

https://www.facebook.com/10mamun/posts/933774730291315

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop