ksrm

মহানগর সময়বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত : বামজোট

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলনের মুখে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট।
বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানাতে শনিবার দুপুরে (১২ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
জোটের অভিযোগ, বাস্তবে বুয়েট শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ছাত্ররাজনীতির ওপর নয়, বরং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ছাত্রলীগকে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন জোটের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান প্রগতিশীল ছাত্রজোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সভাপতি আল কাদেরী জয়।
প্রগতিশীল ছাত্রজোটের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো :
আবরার ফাহাদসহ ক্যাম্পাসগুলোয় সব হত্যাকাণ্ডের বিচার ও রায় অবিলম্বে কার্যকর, আবাসিক হলগুলোয় টর্চার সেল ও গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা, প্রথম বর্ষ থেকেই প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে সব শিক্ষার্থীর হলের সিটের অধিকার নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিকভাবে বুয়েটসহ সব ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের রাজনীতি করার অধিকার ও রাজনীতির নামে কেউ অপরাজনীতি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্তের বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এটি একটি ভয়ঙ্কর অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত এবং সব ধরনের বিরোধী মত ও তার ভিত্তিতে সংগঠিত শক্তিকে দমনের হাতিয়ারমাত্র; এটি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি প্রতারণাও বটে। আবরার ফাহাদ হত্যাকে কেন্দ্র করে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বুয়েটে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ছাত্রলীগের একচ্ছত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অগণতান্ত্রিক আচরণ ও দখলদারির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। বাস্তবে বুয়েট শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ছাত্ররাজনীতির প্রতি নয়, বরং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী বুয়েটে আগে থেকেই ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ আর গত এক দশকে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতিই ছিল না। সেখানে রাজনীতির নামে ছিল ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আর নির্যাতন। বিরোধী কোনো ছাত্রসংগঠন ওই ক্যাম্পাসে কাজ করতে গেলে নির্মমভাবে তাদের দমন করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আবরার ভারত-বাংলাদেশ সমঝোতা চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন, যা একটি রাজনৈতিক বিষয়। এই চুক্তির বিরোধিতা করা নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার। এই অধিকার যারা দমন করে, তারাই আবরারের হত্যার জন্য দায়ী। গত ১০ বছরে বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ছাড়া আর কেউ ছিল না। তাদের নির্যাতন ও দখলদারিই শিক্ষার্থীদের সামনে রাজনীতি হিসেবে দৃশ্যমান ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইকবাল কবীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে রোববার (৬ অক্টোবর) রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শের-ই-বাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আবরার হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা প্রথমে ১০ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামেন। গতকাল শুক্রবার বুয়েট অডিটোরিয়ামে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। তিনি সে সময় ঘোষণা দেন, বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি থাকবে না। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ১৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘোষণা দেন তিনি।
 
 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop