ksrm

মহানগর সময়দেয়ালের মুখগুলো কাদের, কী বলতে চাইছে ওরা?

আতিকুর রহমান তমাল

fb tw
বুয়েটছাত্র আবরারের হত্যাকাণ্ড ফ্ল্যাশব্যাকের মতো মনে করিয়ে দিচ্ছে শিক্ষাঙ্গনে ইতোপূর্বে নির্যাতিত বহু শিক্ষার্থীর করুণ কাহিনী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সেইসব নিহত-নিপীড়িত শিক্ষার্থীর মুখ। প্রতিবাদের এসব দেয়ালচিত্রের মুখগুলো ব্যস্ত পথচারীকে যেন বলছে, আর কত?
কলা ভবনের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে দেখবেন আপনার দিকেই ক্ষতবিক্ষত মুখ নিয়ে তাকিয়ে আছেন এহসান রফিক। সেই রফিক; যিনি গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলে সহপাঠীর কাছে নিজের ক্যালকুলেটর ফেরত চাওয়ায় ছাত্রলীগের নির্মম মারধরের শিকার হন। সেই ঘটনার বিচারতো হয়ইনি বরং ভয়ে শঙ্কায় রফিক শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ই ছাড়েননি, পাড়ি জমিয়েছে মালয়েশিয়ায়।
রফিকের পাশেই জায়গা পেয়েছেন নিরাপরাধ আবু বকর। যিনি ঝরা পাতার মতো ঝরে গেছেন দুই দলের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে। যার মা তিন বছর নিজের মাথায় তেল না দিয়ে সেই টাকা ছেলের পড়ার খরচ চালাতে সঞ্চয় করেছিলেন।
ওদিকে শীতল চোখে তাকিয়ে আছেন হাফিজুর রহমান। যাকে র‌্যাগের নামে কনকনে শীতের রাতে সারা রাত বাইরে রাখা হয়। নিউমনিয়ার রোগী হাফিজ আর কখনো বসন্ত দেখবেন না।
এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি আমার নিজেকে ওই জায়গায় রেখেছি। আমাকে বা আবরারকে ৩ ঘণ্টা পিটাইটো কিন্তু জীবনটা যেন বেঁচে যেত।’
আরো একজন বলেন, ‘প্রশাসন থেকে নাকি চাপ এসেছে কলা ভবনে নাকি কোনো কিছু গ্রাফিতি আঁকা যাবে না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু জায়গায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আবরারের মুখ। দাবি বিচারের। অবশ্য ওদিকে বুয়েটের দেয়ালে কচ্ছপ হাঁটছে খোদ বিচারকে পিঠে নিয়ে।
বুয়েটের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দেশের বিচার ব্যবস্থা যে কতটা ধীরগতির সেটা এই কচ্ছপের পিঠে বিচার লিখে বোঝাতে চাইছি। আসলে কচ্ছপও দেশের বিচার ব্যবস্থার চেয়ে এগিয়ে যায়।’
ধারণা ছিল, ভালো শিক্ষার্থী মানেই সাধারণের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল এবং মানবিক মানুষ। কিন্তু ধারণাটা কতটা ভুল তাতো দৃশ্যমান।
এ ব্যাপারে শিক্ষাবিদ কায়কোবাদ বলেন, ‘যা কিছু হচ্ছে অস্বাভাবিক। সকলের আচরণ মানুষের মত করতে হবে।’
তবে কি ভোগ বাসনার লোভের কাছে পরাজিত হচ্ছে মূল্যবোধ?
শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি থাকা উচিত নাকি উচিত নয়, আবরার খুনের পর সেই প্রশ্ন এখন দেশজুড়ে। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থী এটাও বলছেন, মৌলিক যে প্রশ্নটির উত্তর সব থেকে বেশি জরুরি সেটি হলো মানুষ কবে মানুষ হবে?
গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শের-ই-বাংলা হলে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে সহপাঠীরা। এ ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করে আবরারের বাবা। এখন পর্যন্ত ১৫ আসামিকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop