ksrm

তথ্য প্রযুক্তির সময়যে দেশের মানুষ এটিএম বুথ চেনে না, সিমকার্ড সোনার হরিণ

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে ইরিত্রিয়াকে নিপীড়িত বলেই ব্যাখ্যা করা হয় এবং এই দেশের লোকজন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতাও ভোগ করতে পারেন না। এটা খুব অবাক করার মতো ঘটনা নয় কারণ ১৯৯৩ সালে ইথিওপিয়া থেকে স্বাধীন হওয়ার পর দেশটি এক দলীয় শাসনের অধীনে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইসিয়াস আফওয়ারকিই দেশটির শাসন করছেন।
দেশটির সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বেসরকারি গণমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছে, সমালোচকদের জেলে ঢুকিয়েছে এবং তরুণদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করছে।
এসব কারণে হাজারো ইরিত্রিয়ান নাগরিক দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। সাহারা মরুভূমি এবং ভূমধ্যসাগর পড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছতে গিয়ে অনেকের জীবনও গেছে। সম্প্রতি দেশটিতে গিয়েছিলেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদক আমহারিকের জিবেত তামিরাত। সরকারের প্রতিনিধিদের নজরে থেকেই তাকে ঘুরে দেখতে হয়েছে সেখানকার পরিস্থিতি। দেশটি ঘুরে এসে করা এক প্রতিবেদনে সেখানকার বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করেছেন তিনি।
সিমকার্ড যেন সোনার হরিণ
দেশটিতে মোবাইল সেবা দেয়া একমাত্র প্রতিষ্ঠান ইরিটেল। তাও আবার সরকারের মালিকানাধীন। এই সিমকার্ড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটির সেবার অবস্থা খুবই নাজুক। 
আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক শতাংশের কিছুটা বেশি।
দেশটির নাগরিকদের কাছে সিমকার্ড যেন সোনার হরিণের মতো। কারণ কেউ যদি সিমকার্ড সেবা নিতে চান তবে প্রথমে তাকে স্থানীয় সরকারের কাছে আবেদন করতে হয়। 
তবে যদি কেউ সিমকার্ড পেয়েও যান তবে তিনি সেটি দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন না কারণ সেখানে সিমকার্ডে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগই নেই।
শুধুমাত্র ওয়াইফাই ব্যবহার করে লোকজন ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন। তবে তার গতি খুবই স্লো। সরকারের নজরদারির বাইরে থাকতে সেখানকার লোকজন ভিপিএন দিয়ে ফেসবুক ও টুইটারের মতো সোশ্যাল মিডিয়াগুলো ব্যবহার করেন।
সিমকার্ড পেতে ভোগান্তির কারণে স্থানীয়রা এখনও পাবলিক ফোনের ওপর নির্ভরশীল। বিবিসির ওই টিমটি প্রথম চারদিন ওই সেবাই নিয়েছিলেন। পরে তিনজনের টিমের জন্য একটি সিমকার্ড পেয়েছিলেন তারা। তবে দেশত্যাগের সময় সেটি ফেরত দিতে হয় তাদের।
শুধুমাত্র ব্যাংক থেকেই টাকা তুলতে পারেন ইরিত্রিয়ানরা
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে একজন ব্যক্তি কতটাকা তুলতে পারবেন সেই বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করে দিয়েছে দেশটির সরকার। কারও অ্যাকাউন্টে যদি লাখ লাখ ইরিত্রিয়ান মুদ্রা নাফকা থেকেও থাকে তবুও তিনি পাঁচ হাজারের বেশি তুলতে পারবেন না। ডলারের হিসেবে যা মাত্র ৩৩০ ডলার।
আসমারা নামের একজনের সঙ্গে কথা বলেছিল বিবিসি’ ওই টিম। তিনি ১৯৮৬ মডেলের একটি টয়োটা গাড়ি কিনেছিলেন। ওই গাড়িটির মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার নাফকা। তবে এই টাকা পরিশোধ করার জন্য প্রথমে তাকে প্রতি মাসে ৫ হাজার নাফকা করে তুলতে হয়েছে। ১১ মাস ধরে ৫৫ হাজার নাফকা তোলার পর বাকি ৫৫ হাজার নাফকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পরিশোধের মাধ্যমে তাকে গাড়ির মূল্য পরিশোধ করতে হয়।
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফারে বিধিনিষেধ না থাকলেও অনেক ব্যবসায়ীই ক্যাশে টাকা নিতে চান বলে জানান তিনি। কারণ ক্যাশ মুদ্রা অনেকটাই দুষ্প্রাপ্য।
তবে বিয়ের মতো বড় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে পাঁচ হাজারের বেশি নাফকা উত্তোলন করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে প্রথমে ওই ব্যক্তিকে স্থানীয় সরকার প্রশাসনের কাছে গিয়ে আবেদন করতে হবে বেশি টাকা দরকারের বিষয়টি উল্লেখ করে। দেশটিতে কোনো এটিএম নেই বলেও জানান তিনি।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop