অন্যান্য সময়যে কারণে প্রিয় বই বিক্রি করতে চান এই শিক্ষক

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
যারা বই পড়েন, সংগ্রহ করেন, সেসব বই তাদের কাছে প্রাণের চাইতেও প্রিয়। জীবনের নানা ঝড়ঝাপটা থেকে তারা বুক দিয়ে আগলে রাখতে চান প্রিয় বইগুলোকে। কিন্তু সবসময় হয়তো সামর্থে কুলায় না।
১১ অক্টোবর 'ব্যক্তিগত বাংলা লাইব্রেরি বিক্রি হবে' শিরোনামে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয় একটি দৈনিক পত্রিকায়। এক ব্যক্তি প্রায় ৫০ বছর ধরে গড়ে তোলা ব্যক্তিগত লাইব্রেরির বই এবং পত্রিকার সংগ্রহ বিক্রি করার ঘোষণা দেন সেখানে।
এরপরেই ফেসবুকের বিভিন্ন সাহিত্যগ্রুপে শেয়ার হতে থাকে বিজ্ঞাপনটি। তার সাথে ছড়িয়ে পড়ে একটি মুখরোচক আবেগী গল্প।
সে গল্পে বলা হতে থাকে, ‘একটা ছেলে সমাজ-ধর্ম-সংস্কার সবকিছুকে অগ্রাহ্য করে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল একটি মেয়েকে। এর মধ্যে কেটে গেছে অর্ধেকেরও বেশি জীবন। ছেলেটা এখন বার্ধক্যে। শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসরে। কিন্তু ভালো নেই। তার সেই প্রিয়তম স্ত্রী ৭ বছর ধরে দুরারোগ্য ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। চিকিৎসার খরচ জোগাতে প্রায় সব শেষ।
এই প্রবীণ শিক্ষকের ঘরে ছিল ৫০ বছর ধরে তিল তিল জমানো জ্ঞানের পাহাড়- বিরল সব বাংলা বই আর জার্নালের অমূল্য সংগ্রহ, যেন আপন প্রাণের চেয়ে প্রিয়। হাজার হাজার বইয়ের সেই অমূল্য ব্যক্তিগত লাইব্রেরি তিনি বিক্রি করার ঘোষণা দিয়েছেন। সর্বসাকুল্যে দাম ধরেছেন ২৫ লাখ টাকা। হয়তো প্রিয়তম স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ জোগানোর জন্যেই।
এই শিক্ষকের জন্যে রইল প্রগাঢ় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।’
বিজ্ঞাপনদাতা এই সংগ্রাহকের নাম গোকুল চন্দ্র দাস। বিজ্ঞাপনে দেয়া ফোন নম্বরে তার সাথে যোগাযোগ করে সময় সংবাদ। জানা যায়, স্ত্রীর অসুস্থতা নয়, এই ষাটোর্ধ সংগ্রাহক তার সারাজীবনের সংগ্রহ বিক্রি করে দিতে চাইছেন রক্ষণাবেক্ষণের খরচ সামলাতে পারছেন না বলে।
শিক্ষক গোকুল চন্দ্র দাস জানান, ১৯৭০ সালে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথম বই কেনা করা শুরু করেন। বই কেনার ক্ষেত্রে তার প্রাথমিক পছন্দ ছিল কবিতার বই। পরে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সংগ্রহ করেন আত্মজীবনীমূলক এবং গবেষণাধর্মী বইও। সেগুলো সংগ্রহ করতে করতে লাইব্রেরি বানানোর বিষয়টি প্রথম মাথায় আসে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের অনেক গবেষকের পিএইচডি থিসিস রয়েছে আমার সংগ্রহে। বানান, বাগধারা, ইতিহাস, ভূগোলের মত নানান বিষয়ের দেড় শতাধিক অভিধানও রয়েছে।’
বিভিন্ন ধরনের বাংলা বই ছাড়াও বাংলাদেশে প্রকাশিত বাংলা পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা, যেমন ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২৬শে মার্চ বা ১৬ই ডিসেম্বরের বিশেষ সংখ্যাও সংগ্রহ করছেন তিনি গত ৪৭ বছর ধরে। এছাড়াও এই ৪৭ বছরে পত্রিকায় যখনই কোনো সাহিত্যিক বা লেখকের সম্পর্কে কোনো লেখা ছাপা হয়েছে সেগুলোও আলাদা করে রেখেছেন তিনি।
প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে তিনি উল্লেখ করেছেন, ৪৭ বছরের সব সাহিত্য পাতা তাঁর সংগ্রহে আছে, যেখান থেকে তৈরি হতে পারে ১০০টি সম্পাদিত বই, ১৬ খণ্ড কবিতা সংকলন, ৮০ জন লেখকের উপর সমালোচনামূলক ৮০টি বই।
গোকুল চন্দ্র দাসের লাইব্রেরির জন্য বাসার পুরো একটি রুম প্রয়োজন হয়। বই রাখার জন্য বিশেষ ধরনের আলমারিও তৈরি করেছেন তিনি।
তিনি জানান, ছাত্রজীবনে এবং পেশাগত জীবনে লাইব্রেরি রক্ষণাবেক্ষণে তেমন সমস্যা না হলেও ২০১৪ সালে অবসর নেয়ার পর থেকেই লাইব্রেরির রক্ষণাবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে তার জন্য।
বর্তমানে স্ত্রী ও এক কন্যা নিয়ে বসবাস করছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এমনিতে তিন রুমের একটি বাসা হলেই আমাদের চলে। কিন্তু এই বইগুলো রাখতে হলে একটি আলাদা ঘর প্রয়োজন হয়, যার জন্য বাড়ির ভাড়াও বেড়ে যায়। অবসরের পর বইয়ের জন্য অতিরিক্ত খরচ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তিনি এই লাইব্রেরির 'বিনিময় মূল্য' ধরেছেন ১৫ লাখ টাকা এবং পত্রিকার বিশেষ সংখ্যার জন্য ১০ লাখ টাকা।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop