ksrm

মুক্তকথাকোন সে লালন...

রনজক রিজভী

fb tw
somoy
ওই প্রতিকৃতির কথা বলছি। যেটি লাখো মানুষ হৃদয়পটে ধারণ করছে। তাও লালন একাডেমির কল্যাণে। ছেউড়িয়ায় লালন সাঁইজির আখড়াবাড়ির দুটি উৎসবেই বড় করে ওই প্রতিকৃতির দেখা মেলে। আসলে এটিই কী বাউল সম্রাট? দু'ধরনের প্রতিকৃতির কোনটি আসল? 
একটি প্রতিকৃতিতে বৃদ্ধ লালন লাঠি হাতে হাতলওয়ালা চেয়ারে মাখা নিচু করে বসে আছেন। অন্যটির মাথায় ঝুটি বাঁধা, লম্বা দাঁড়ি-গোফসহ লালন। এর প্রথমটি রবীন্দ্রনাথের বড় ভাই জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এঁকেছিলেন। আর দ্বিতীয়টি শিল্পাচার্য নন্দলাল বসুর আঁকা। এ দুটিই এখন লালনের রেখাচিত্র হিসেবে পরিচিত। তবে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসন এবং লালন একাডেমি একটু সচেতন হলেই একটিকে সঠিক হিসেবে প্রমাণ করা সম্ভব। সেইসঙ্গে একটি প্রতিকৃতিই ভক্তি-ভাবে সামনে রাখতে পারেন ভক্ত-অনুসারীরা। অথচ এখন যে ব্যাপারটি ঘটছে, একজন মানুষের দু'রকম চেহারা গ্রহণ করতে হচ্ছে। যা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ১৮৮৯ সালের ৫ মে, ২৩ বৈশাখ ১২৯৬ বঙ্গাব্দ শিলাইদহের বোটে বসে লালনের রেখাচিত্রটি এঁকেছিলেন। তখন লালনের বয়স ১১০ বছর। সে অনুযায়ী রেখাচিত্রে বার্ধক্যের ছাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। রেখাচিত্রের নিচে বাম পাশে শিল্পী জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বাক্ষরও আছে। উপরে তাঁর লেখা বাংলা তারিখ ২৩ বৈশাখ ১২৯৬ এবং স্বাক্ষরের নিচে ইংরেজিতে লেখা ৫ মে ১৮৮৯। ডানে মাঝ বরাবর শিল্পীর নিজ হাতে লেখা, লালন ফকির, নিচের লাইনে লেখা শিলাইদহে বোটের উপর।
শিল্পাচার্য নন্দলাল বসু লালন প্রতিকৃতিটি আঁকেন ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে। যা জ্যোতিরিন্দ্রনাথের ২৭ বছর পর। যে বয়সী লালনের স্কেচ তিনি করেছেন তা কোনোভাবেই লালনের হতে পারে না। তাঁর সঙ্গে লালনের কখনও দেখা হয়নি। আর লালনের জীবদ্দশায় আর কোনো স্কেচও নেই, যা দেখে তিনি ওই বয়সী লালনকে আঁকবেন। এতেই প্রমাণ হয়, তিনি স্মৃতি থেকেই এঁকেছেন। তিনি স্কেচে কোনো সন-তারিখও উল্লেখ করেননি। ‘রবীন্দ্র ভারতী সোসাইটি’র সংগ্রহশালা থেকে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা লালন প্রতিকৃতিটি হারিয়ে যাওয়ার পর শচীন্দ্রনাথ অধিকারীর অনুরোধে নন্দলাল বসু স্কেচটি এঁকেছিলেন। এবং সেটি শচীন্দ্রনাথ অধিকারী গ্রন্থেও ব্যবহার করেন। পরে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা লালন প্রতিকৃতি পাওয়া গেলেও নন্দলাল বসুর আঁকা লালন প্রতিকৃতির ব্যবহার বন্ধ হয়নি। ততদিনে সেটিও লালনের প্রতিকৃতি হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে। যা কখনই লালনের আসল প্রতিকৃতি নয়।
একটি বিকৃত প্রতিকৃতি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা নিশ্চয় উচিত নয়। লালনের দুটি প্রতিকৃতি নিয়ে খুব বেশি রহস্যও নেই। কূলকিনারা বের করা যাবে না, এরকম ভাবারও অবকাশ নেই। সঠিক প্রকৃতি আবিস্কার নিয়ে গবেষণাও আছে। এরপরও কেন লালন সাঁইজির শুদ্ধ প্রতিকৃতি খুঁজতে হবে। আবার যে প্রতিকৃতি নিয়ে কোনো ইতিহাসই নেই, সেটিকেই পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। এই সময়ে এমন প্রশ্ন তোলা নিশ্চয় দোষের নয়। ছেউড়িয়ায় লালনের দুটি উৎসব থেকেই ভুল প্রতিকৃতি ব্যবহার বন্ধ করা দরকার। প্রশাসনিকভাবে উদ্যোগ নিলে এই সত্য খুব সহজেই সামনে আসতে পারে। আর এর ভেতর দিয়েই দূর হবে দীর্ঘদিন হৃদয়পটে গেঁথে রাখা ভুল প্রতিকৃতি।
লেখক: বার্তা সম্পাদক, এসএ টিভি
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop