ksrm

বাংলার সময়বোরহানউদ্দিনে সহিংসতা : বিপ্লবসহ কারাগারে ৩

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
যার ফেসবুক হ্যাক হওয়ার পর মেসেঞ্জারে নবীকে নিয়ে কথিত কটূক্তির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে ভোলার বোরহানউদ্দিনে সহিংসতা ঘটানো হয়েছে, সেই বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য শুভসহ তিনজনকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এদিকে এ ঘটনা নিয়ে বোরহানউদ্দিনে পুলিশ-জনতার সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
সোমবার ভোলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে বিপ্লব চন্দ্রসহ তাদের হাজির করা হলে বিচারক ফরিদ আলম কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
শুভ ছাড়া অন্য দু’জন হলেন- বোরহানউদ্দিনের কাচিয়া ইউনিয়নের মো. ইমন ও রাফসান ইসলাম শরীফ ওরফে শাকিল।
তাদের মধ্যে শাকিলকে রোববার পটুয়াখালীর গলাচিপা এবং ইমনকে কাচিয়া থেকে আটক করার কথা জানায় পুলিশ। আর শুভ তার ফেসবুক হ্যাকারের কবলে পড়ার কথা জানিয়ে জিডি করার পর স্থানীয় ‘আলেমদের’ দাবির মুখে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।
অন্য ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা আসামির সঙ্গে ‘পরস্পর যোগসাজশে’ ফেসবুক মেসেঞ্জারে ইসলাম ধর্ম ও মহানবীকে নিয়ে ‘কটূক্তি’ এবং তা ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
বোরহানউদ্দিন থানায় ‍উপপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন রোববার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ মামলা দায়ের করেন।
বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য ও শাকিলের মেসেঞ্জারে ‘ধর্মীয় অবমাননাকর’ বার্তাগুলো পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে মামলার এজাহারে।
আসামিদের মধ্যে শুভ বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের খারাকান্দি গ্রামের চন্দ্র মোহনের ছেলে। ইমনের বাড়ি উপজেলার উদয়পুর এলাকায়। আর পটুয়াখালীর কলাপাড়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্টোরকিপার শাকিল উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের নূরে আলমের ছেলে।
ভোলার ঘটনা নিয়ে ‘বিভ্রান্তি এড়াতে’ পুলিশ সদর দফতর রোববার এক বিবৃতি দেয়। বলা হয়, ১৮ অক্টোবর রাতে বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবক বোরহানউদ্দিন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিনি জানান, তার ফেসবুক আইডি ‘বিপ্লব চন্দ্র শুভ’ হ্যাক করা হয়েছে।
জিডি করার সময় থানায় থাকাকালেই তার মোবাইলে একটি ফোন আসে এবং তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি তিনি ওসিকে জানান এবং ওসি জানান ভোলার পুলিশ সুপারকে।
প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সেদিন রাতের মধ্যেই বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্যর ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাককারী ও তার মোবাইলে কলকারী শরীফ এবং ইমন নামে দুই যুবককে যথাক্রমে পটুয়াখালী এবং বোরহানউদ্দিন থেকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের বোরহান উদ্দিন থানায় নেয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, শুভর ফেসবুক মেসেঞ্জার থেকে কথিত মন্তব্যের জেরে এলাকার মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হতে থাকে। মন্তব্যকারীর ফাঁসি দাবি করেন স্থানীয় আলেম সমাজ। রোববার বেলা ১১টায় বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে তারা প্রতিবাদ সভা করার ঘোষণা দেন।
কিন্তু জেলা প্রশাসক, ইউএনও, থানার ওসি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আলেম সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে শনিবার সন্ধ্যায় বোরহানউদ্দিন থানায় দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়। আলেম সমাজের অভিযোগের ভিত্তিতে বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্যকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ বিষয়ে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নিশ্চয়তা পেয়ে প্রতিনিধিত্বকারী আলেম সমাজ তাদের পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা করেন।
সমাবেশ বাতিলের ঘোষণার পরও রোববার সকাল থেকে কিছু লোক ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হতে থাকে। ময়দানের বিভিন্ন পয়েন্টে বসানোর জন্য ১৭টি মাইক আনা হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তারা সমবেতদের সরিয়ে নিতে বললে স্থানীয় আলেমরা প্রতিশ্রুতি দেন, কোনো রকম বিশৃঙ্খলা সেখানে হবে না।
ইতোমধ্যে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এবং যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে স্থানীয় পুলিশকে সহায়তা দিতে সকালেই বরিশাল থেকে রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ভোলায় আসেন। অতিরিক্ত ডিআইজি ও ইউএনওকে নিয়ে পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে প্রয়োজনীয় সব আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে তাদের বার বার আশ্বস্ত করেন। তাদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে সমবেত লোকজন ঈদগাহ ময়দান ত্যাগ করেন।
পুলিশ সদর দফতরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বক্তব্য শেষে পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঈদগাহ সংলগ্ন মসজিদ-মাদরাসার একটি কক্ষে অবস্থান নেন। এরই মধ্যে ‘অন্য একটি গ্রুপ’ ঈদগাহ ময়দানে ঢুকে সাধারণ মানুষকে ‘উত্তেজিত করতে থাকে’।
তারপর একদল লোক বিনা উসকানিতে মাদরাসার অফিস কক্ষে অবস্থানরত কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ করে। আক্রমণকারীদের একদল আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশ ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। আক্রমণকারীদের গুলিতে পুলিশের একজন মারাত্মক জখম হয়। মারাত্মক আহত হন পুলিশের আরেক সদস্য। বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজিও আহত হন।
এই পরিস্থিতিতে ইউএনও ও নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ উত্তেজিত লোকজনকে নিবৃত্ত করতে প্রথমে টিয়ার শেল এবং পরে শটগানের গুলি ছোড়ে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “পরিস্থিতির ভয়াবহতায় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়।”
এ সংঘর্ষে চারজন নিহত হন, তাদের মধ্যে দুজনের মাথা ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে থেঁতলানো ছিল বলে চিকিৎসকের বরাতে জানিয়েছে পুলিশ সদরদফতর। হামলা-সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, তাতে এক পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন।
সংশ্লিষ্ট থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক গণমাধ্যমকে জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এ মামলা করা হয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত আটক করেছে ১৫ জনকে।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop