ksrm

মুক্তকথাক্যাম্পাস সাংবাদিকতা: প্রতিবন্ধকতার মধ্যে আলোর বিচ্ছুরণ

মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ

fb tw
somoy
দেশের মধ্যে স্বতন্ত্র অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞানের বিচ্ছুরণ করে। জ্ঞানের এ জীবন রেখায় ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা মেধার বিকাশ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার সর্বোচ্চ চর্চা এবং সৃজনশীলতার শ্রেষ্ঠ নামন্তর। তবে নানা প্রতিবন্ধকতা ক্যাম্পাস সাংবাদিকতাকে কিছুটা শঙ্কায় ফেলে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয় তথা রাষ্ট্রের উপর। শঙ্কার মধ্যে অবিরত কাজ করছেন ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা। সম্প্রতি দেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনটি হয়েছে।
ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয়কে যথাযথভাবে দেশ তথা বিশ্বমহলের সামনে তুলে ধরেন। ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকা-ের সমালোচক ও আলোচক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সব সময়ই তাদের চাপে রাখতে চায়। প্রশাসন চায় না তাদের ভুল, অন্যায় বা দুর্নীতির কথা উঠে আসুক।
ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দ্বন্দ্বটা সম্মুখে বা অতি গোপনে। আর ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন তো ক্যাম্পাসে মাফিয়ায় পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাসের সাংবাদিকরা প্রশাসন বা ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের শত্রু তো নয়, তাহলে এমন কেন? সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সাংবাদিকরা যে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তা সারাদেশের ক্যাম্পাসের একটা দৃশ্যপট মাত্র। সাংবাদিকদের শত্রু ভাবার কারন কি? আমার মনে হয় প্রশাসন বা ছাত্র সংগঠনগুলো সংবাদ, সাংবাদিকতা বোঝে না। ক্যাম্পাসের সকল কার্যক্রম গণমাধ্যমে তুলে ধরার কারনেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমাদের চোখে আয়নার মতো ভাসে। তবে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের উপর নির্যাতনের খড়গ নেমে এসেছে বারবার।
এই তো মাত্র এক বছর আগে দেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা করেছি। সাংবাদিকদের নেতৃত্ব দিয়েছি বলে বিষয়গুলো কাছ থেকে দেখেছি। নানা প্রতিহিংসা ও প্রতিবন্ধকতার শিকারও হয়েছি। প্রশাসনের ‘মনোভাব’ই হলো সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। তুমি ছাত্র না সাংবাদিক? এমন প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়েছে বারবার। সময় বিবেচনায় নিজেকে ছাত্র বা সাংবাদিক বলে উত্তর দিয়েছি। উত্তর মনোপুত না হলেই সমালোচনার শিকার হয়েছি। কিন্তু কেন? কেন’র যথার্থ উত্তর কখনও পাইনি।
শিক্ষার্থীদের কেউ টিউশনি করেন বা কোন বিদ্যালয় বা কলেজে খ-কালীন শিক্ষকতা করেন, ব্যবসা করেন, রাজনীতি করেন কিন্তু তারা এ প্রশ্নের (কৃত্রিম পরিচয় তৈরীর অপকৌশল) সম্মুখিন হন বলে আমার জানা নেই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলায় এমনটি হয়। অন্যায় নিয়ে কথা বলতে বয়স, শিক্ষার্থী অথবা শিক্ষার্থী কিনা এমনটি আলোচনায় আসার কথা নয়। ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থী তথা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মতামত তুলে ধরা, সার্বিক বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা। তারা যখন সংবাদের কাজে তথ্য সংগ্রহ করেন বা কথা বলতে যান তখন তারা সাংবাদিক হিসেবেই কাজ করেন। তারা শিক্ষার্থী নাকি সাংবাদিক এ কথা বলে প্রান্তিকীকরণের অপচেষ্টা সব সময় লেগে থাকে। সাংবাদিকতার কারনে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের বহিষ্কার করার ঘটনা ঘটছে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে খোঁড়া যুক্তি দেওয়া হয়। সংবাদের কারনে সাংবাদিককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের এখতিয়ার কর্তৃপক্ষের আছে কি? কোন আইনের ক্ষমতাবলে প্রশাসন এমনটি করছে? সংবাদ প্রকাশ করা ঐ প্রতিবেদকের কাজ নয় কি?
বিশ্ববিদ্যালয়ে মত প্রকাশের উজ্জ্বল মঞ্চ কোথায়? ধরেই নিচ্ছি ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা সাংবাদিকতার চাকরি করেন। শিক্ষার্থীরা খন্ডকালীন বা পূর্ণকালীন চাকরি করতে পারবেন না এমনটি তো আইনভূক্ত নয়? তারা সাংবাদিক পরিচয়ে পেশাগত কারণেই সংবাদ লেখেন বা বলেন। লেখা বা বলার কারনে সাংবাদিকদের বহিষ্কারে প্রশাসনের কোন আইনগত এখতিয়ার আছে কি?
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসকে অন্যায়ের আতুর ঘরে পরিণত করেছে। টেন্ডারবাজী, নিয়োগে বাণিজ্য, অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যা, হল নিয়ন্ত্রণ তাদের চরিত্র হয়েছে। ক্যাম্পাসে সাংবাদিকরা ক্ষমতাসীদের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অথচ এ সাংবাদিকরাই ছাত্র সংগঠনের ইতিবাচক কার্যক্রম তুলে ধরেন।
অনেকক্ষেত্রে নিজ গণমাধ্যমের কারনে ক্ষুদে সাংবাদিকদের চলার পথ কন্টকাকীর্ণ হয়। বিষয়টি ভাবনার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায়ই নিজ সাংবাদিক লাঞ্ছিত বা বহিষ্কারের শিকার হলে গণমাধ্যমগুলো চুপ থাকছে। তাই লেখার আগে ক্যাম্পাস সাংবাদিককে চিন্তা করতে হয়, অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে নিজ গণমাধ্যম কতটুকু অবস্থান নিবে যা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সাংবাদিক কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হন। প্রশাসনে রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কাজ করতে গিয়ে বহিষ্কারের শিকার হওয়ায় নিজ দৈনিক তাকে কতটুকু সহযোগিতা করেছে? দেশজুড়ে বিষয়টি আলোচিত ও সমালোচিত হওয়ায় এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাংবাদিক সংগঠন প্রতিবাদ মুখর হয়েছিল বলে বহিষ্কারাদেশ বাতিল হয়েছে। তারা ঐক্যবদ্ধ, সাংবাদিকতা ও ক্যাম্পাসকে অনেক ভালোবাসেন।
ঐ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়া হলেও তার প্রতি হওয়া অন্যায়ের শোধ কিভাবে হবে? তার দিকে যে দৃষ্টিপাত হয়েছিল তার ক্ষতিপূরণ ঐ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা নিজ গণমাধ্যম কিভাবে দিবে?
ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা হলো প্রারম্ভিক সাংবাদিকতা শেখার এক তীর্থস্থান। সাংবাদিকতা তাদের বিচক্ষণ হতে শিক্ষা দেয়। তারা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ছাত্রনেতা, প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সঙ্গে কাজ করেন। তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী হন, অনুসন্ধান ও মতামতের ভিত্তিতে গবেষণালব্দ প্রতিবেদন জাতির সামনে তুলে ধরেন। তথ্যকে কিভাবে উপস্থাপন করলে সেটা আর শুধু তথ্য থাকে না। হয় মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্ধ, তা শেখেন। তারা সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, অপরাধ, বাজেট, খেলাধুলা, অনুসন্ধানী, চিকিৎসা, জনমত, ফিচার, সম্পাদনা, প্রবন্ধ থেকে শুরু করে সাংবাদিকতার সকল শাখায়ই কাজ করেন। ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা জানেন কিভাবে পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ ফেলতে হয়। বিষয়টি রাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক: সাংবাদিক ও সাহিত্যিক
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop