ksrm

মুক্তকথাগুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে স্বেচ্ছায় জালিয়াতি করা মানে জাতিকে অসম্মান করা বটে!

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
নৈতিকতার কতটা স্খলন ঘটেছে রাষ্ট্রের প্রায় সব মানুষের! আগে জানতাম যে, তরুণদের নেশাগ্রস্ততা/মাদকাসক্তের জন্য নৈতিক স্খলন ঘটে থাকে। সেজন্যে বড়রা বা বুড়োরা তাদেরকে উপদেশ, আদেশ, নির্দেশ প্রদান করে এবং নৈতিক হিতোপদেশ দিয়ে থাকে। কিন্তু এখন জানতেছি অন্য কিছু, স্বয়ং রাষ্ট্রের আইন প্রণেতা অর্থাৎ একজন সংসদ সদস্য অনৈতিকভাবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পরীক্ষা দিয়ে ডিগ্রী লাভ করতে চাচ্ছেন। অর্থাৎ তিনি নিজে পরীক্ষার্থী কিন্তু প্রক্সি দিতেছে অন্য আটজন ছাত্রী। যা রাষ্ট্রের "নাগরিক" নামে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে রিপোর্ট পর্যন্ত হয়েছে এবং অন্যান্য পত্রিকা এসেছে। একটি অন লাইন মিডিয়া বিডি২৪লাইভ.কমে এসেছে- নরসিংদী আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি তামান্না নুসরাত বুবলী ঢাকায় থাকলেও তার হয়ে নরসিংদীতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ পরীক্ষা দিচ্ছেন প্রক্সি প্রার্থীরা। এ পর্যন্ত আটজন ছাত্রী এই এমপির হয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন। এমপি তামান্না নুসরাত বুবলী সন্ত্রাসী হামলায় নিহত নরসিংদীর সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেনের স্ত্রী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে জমা দেয়া হলফনামা অনুযায়ী মহিলা সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ও সন্ত্রাসী হামলায় নিহত নরসিংদীর সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেনের স্ত্রী এইচএসসি পাস। পরে উচ্চশিক্ষা অর্জনে তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ কোর্সে ভর্তি হন। তবে বিএ পাস করার জন্য তিনি অনিয়মের আশ্রয় নিচ্ছেন। অথচ এই সংরক্ষিত নারী সাংসদের প্রয়াত স্বামী লোকমান হোসেন একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন যথেষ্ট সজ্জন ও সৎ ব্যক্তি এবং মনেপ্রাণে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন নিবেদিত প্রাণ হিসেবে। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। আর তার স্ত্রী হয়ে এমন গর্হিত কাজ করেছে! ভাবা যায়- কতটা নৈতিক স্খলন ঘটেছে এ-ই মহিলা সাংসদের!

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ কোর্স পর্যন্ত চারটি সেমিস্টার ও তেরোটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও তিনি একটিতেও অংশগ্রহণ করেননি। কিন্তু তারপক্ষে এখন পর্যন্ত ৮ জন নারী পরীক্ষা দিয়েছেন। সবাই সবকিছু জানলেও এমপির ভয়ে কেউ কিছু বলেনি। পরীক্ষার হলে সংসদ সদস্যের রোল নম্বরের সিটে বসা পরীক্ষার্থী ছিলেন অন্য মহিলা। এহেন পরিপ্রেক্ষিতে আপনি সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছেন কোন ধরনের প্রতারণা, জালিয়াতির আশ্রয়ে আশ্রিত হবেন না বলে। রাষ্ট্রের জন্য আইন প্রণয়ন করবেন। জনগণকে নানা বিষয়ে হিতোপদেশ প্রদান করবেন, যাতে জনগণ যেকোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডে না জড়ান। কিন্তু আপনি নিজেই এমনভাবে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ডিগ্রী গ্রহণ করে নিজেকে খুব সমঝদার শিক্ষিত করে তুলতে চাচ্ছেন। নাকি জাতির ভবিষ্যত প্রজন্মকে জালিয়াতি ও প্রতারণা শিক্ষা দিচ্ছেন তিনি! অথচ সাধারণ জনগণ পর্যন্ত আপনার এই কর্মকাণ্ডে যথেষ্ট লজ্জিত। আর এমন নয় তো যে, সংসদের সাংসদ হতে হলে স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে। যদি তাও লাগে, তবে আপনার নিজের মেধার মাধ্যমে সে ডিগ্রী অর্জন করতে পারতেন। কিন্তু এভাবে জাতিকে জালিয়াতি, প্রতারণা শিক্ষা দেওয়া কোনক্রমেই উচিত হয়নি। আপনার এই প্রতারণা জাতি হিসেবে বাঙালির জন্য যেমন অসম্মানের কাজ পরিগনিত হয়েছে, তেমনি মহান সংসদের জন্য চরম অসম্মানের হয়েছে বলে আমি মনে করি। মনে রাখতে হবে যেকোনো ডিগ্রী কিন্তু সৎ, সততা, নীতি, নৈতিকতা, আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য কোন ভুমিকা রাখে না। বরং এসব নিজের ভেতরের ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি। জানিনা মহান সংসদ আপনার এমন প্রতারণার জন্য কতটুকু বিব্রতবোধ করবে! তবে এ রকম জালিয়াতি ও প্রতারণা চরম অন্যায় ও ঘৃণাকর কার্য। যা এ জাতির মানুষ অন্তত কোন সাংসদের কাছ থেকে আশা করে না।

যদিও গতকাল এই সাংসদ তামান্না নুসরাত বুবলীকে  পরীক্ষার্থী হিসেবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার করেছে। তবুও বলতে হয় যে, আস্তে আস্তে বর্তমান বাংলার মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে নয় কিংবা নৈতিক জীব হিসেবে নয় বরং রাজনীতি করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক জীবে পরিণত হয়ে যাচ্ছেন। এবং নিজেকে পাকাপোক্ত পুঁজিবাদী ধারায় বন্য প্রাণীর ন্যায় অভিহিত করেছেন। যা রাষ্ট্রের জন্য অভাবনীয় একটি ভয়ংকর চিত্র। নাহলে সমাজের চিত্র এতো ভয়াবহ অসভ্যের মতো নোংরা ছড়াচ্ছে কিভাবে? অবশ্য রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রে নৈতিক হিতোপদেশ চর্চা হয়নি। আর নৈতিকতা ও আদর্শ ধারণ চর্চা না হওয়ার জন্য সমাজের মানুষের মধ্যে কোন আদর্শ নেই, নুন্যতম থাকলেও সেটা উদাহরণে টানা যায় না। তাই রাষ্ট্রে দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন বেড়েছে অভাবনীয় হারে। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রের উপর মহল থেকে সব ধরনের দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন রুখতে যথেষ্ট চেষ্টা করা হচ্ছে। ঠিক এইসময় সাংসদের এধরনের আপতকালিন প্রতারণা, জালিয়াতির খবর জাতিকে মর্মাহত করেছে নিশ্চয়ই।

রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সম্মানজনক পর্যায়ে অবস্থান করে ভুলক্রমেও যদি কেউ নিজেকে যেকোনভাবে অথবা প্রতারণা, জালিয়াতির করার মাধ্যমে অসম্মানের পর্যায়ে নিয়ে যায়! প্রকারান্তরে সে ব্যক্তি জাতিকে অসম্মান করে থাকে। কেননা রাষ্ট্রের উর্ধতন পর্যায়ের ব্যক্তিরা রাষ্ট্রের সম্মান রক্ষা করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করে থাকে বটে। কেননা রাষ্ট্র তাঁর মাধ্যমে নিজের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং মর্যাদাকে বীরোচিত করে  থাকে। যদিও প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা প্রকারন্তরে রাষ্ট্রকে বীরোচিত করে। 

রাশিদুল রাশেদ
(এম আই কে রাশিদুল ইসলাম রাশেদ)
কবি, লেখক, রাজনীতিবিদ।
 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop