ksrm

মুক্তকথাটেকসই উন্নয়নে দেশবাসী চায় শিক্ষাবান্ধব স্থিতিশীল রাজনীতি

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আজ বিশ্বের সামনে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার নানান স্তরের ক্ষেত্রে হয়ে উঠেছে অনুকরণীয় আদর্শ ও ‘রোল মডেল’। আজ থেকে চার দশকের কিছুকাল আগে, নোতুন স্বাধীনতাপ্রাপ্ত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে, সেদিনের মার্কিনী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতাকারী হেনরী কিসিঞ্জার উপহাস করে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছিলো। আমাদের আজকের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ বর্তমানে এই দেশকে উন্নয়নের যে উচ্চমাত্রায় নিয়ে গেছে তা আজ চড় মারার মতোই যথাযথ উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের স্তর পেরিয়ে নিম্ন-মধ্য আয়ের স্তরকেও ছাপিয়ে মধ্য আয়ের দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হতে চলেছে।
উন্নয়নের সূচকের তালিকা দিতে হলে তা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে। কেবল, পাকিস্তানের কথাই বলা যাক। যে পাকিস্তান বাঙালিদের মর্যাদা দিতে চায় নি বরং ১৯৭১ সালে বিশ্বের জঘন্যতম গণহত্যা চালিয়ে বাঙালি জনগোষ্ঠী নির্মূল করে তথা জাতি হিসেবে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে ‘এথনিক ক্লিনজিং’ করার মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে, সেই পাকিস্তানই অতিসাম্প্রতিক কালে নিজেদের সংসদে আক্ষেপ প্রকাশ করে সেদেশের উন্নয়ন সম্ভব করে তোলার জন্যে বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা-সূচক ও কর্মপদ্ধতিকে অনুসরণ করার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে।
আরও উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য বিশ্বব্যাংক প্রতিশ্রুত অর্থায়ন দিতে অস্বীকার করে, এদেশেরই কোনো কোনো খ্যাতিমানের প্ররোচনায়। ফলে, অন্যান্য সহযোগীরাও অর্থায়নের অঙ্গীকার থেকে সরে যায়। এ সমস্তই ছিলো বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের সরকার ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নের গতিকে থামিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র। তবে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আসীন শেখ হাসিনা তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নেন নিজস্ব অর্থায়নের। সকলের জন্য বিস্ময় পদ্মা সেতুর মতো একটি মহাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করার। অনেকের কাছে এটা ছিলো বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে অসাধ্য একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা। এক পর্যায়ে, অশান্ত পদ্মা নদীর উপর সাড়ে তিন মাইলের বেশি দীর্ঘ এই সেতু মুখ থুবড়ে পড়বে বলেও ভয় দেখিয়ে শেখ হাসিনাকে নিরুৎসাহিত করে গেছে এর বিরোধিতাকারীরা অব্যাহতভাবেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন অদম্য।
পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান। প্রায় শেষ হওয়ার পথে এবং তা শুধু বাংলাদেশের নিজের টাকাতেই। বাঙালির গর্ব রূপেই পরিচিত হতে থাকবে এই সেতু ভবিষ্যতে। বাঙালি জাতির উঠে দাঁড়ানোর, অর্থাৎ উন্নয়নকে আয়ত্ত করার সাধনায় সফল হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য যে ধরনের নেতৃত্ব দরকার তা এ জাতির যে আছে সেটি জানান দেওয়ার জন্যই উপরোল্লিখিত বিষয়গুলোর অবতারণা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে লালিত তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সফল রাষ্ট্রনায়কত্বের অভিধা নিয়ে বিশ্বরাজনীতির একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিকের পরিচিতি ও সমীহ লাভ করেছেন।
জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসে তাঁর পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতোই উপলব্ধি করেন বাঙালি জাতিকে উন্নতির শীর্ষ শিখরে নিয়ে যেতে হলে ‘সবার জন্য শিক্ষা’ নিশ্চিত করার আর কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হলে দেশের সব মানুষকে সাক্ষর করে তুলতে হবে। সাক্ষরতা অর্জনের প্রথম ধাপই হলো, প্রাথমিক শিক্ষার দরোজা সবার জন্য খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। এইভাবেই দেশের প্রতিটি শিশুকে শিক্ষাজীবনে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে হবে। আর, দেশের অধিকাংশ শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার অধীনে আনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। এই শিক্ষাকে যথাযথভাবে মানসম্মত করে তুলতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার ব্যবস্থা নিয়ে মৌলিক শিক্ষাকে নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার ব্যাপ্তির পাশাপাশি স্বাস্থ্য শিক্ষারও সমাবেশ ঘটানো হলে সার্বিকভাবে একটি ফলদায়ক যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটানোর উপযোগী ভিত রচনা করা যাবে। এভাবে দেশবাসীকে প্রকৃত সাক্ষরতার দক্ষতা দান করা হলে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ অর্থাৎ ‘মিলেনিয়াম গোল’ এবং ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ অর্থাৎ ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল’ বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হয়ে যাবে।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিচালিত আওয়ামী লীগ সরকার বিগত তিন তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিজয়ী হয়ে দেশ পরিচালনা করছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুসারে এই সরকার শিক্ষাকে শিশু থেকে বয়স্ক, সর্বস্তরের কাছেই পৌঁছে দেয়ার কর্মসূচি পরিচালনা করে চলেছে। এই সরকারের প্রণীত ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’-এ প্রাধান্য পেয়েছে মানবতাবাদী চেতনা ও জাতীয় মুক্তি ভাবনার রূপকল্প। বাঙালিসমাজের লোকায়ত ধ্যানধারণার সাথে বৈশ্বিক শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় সাধন করে এগিয়ে চলার রোডম্যাপের সংযুক্তিকরণ ঘটেছে বর্তমান শিক্ষানীতির মাঝে। আমাদের হয়তো অনেকেরই স্মরণে আছে, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের অনেক আগে থেকেই এই উপমহাদেশের মানুষ পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোয় বেড়ে উঠার শেষে পাকিস্তানী শাসন-শোষণের যুগে দ্বি-জাতিতাত্ত্বিক শিক্ষাষড়যন্ত্রে আবদ্ধ হয়ে পড়েছিলো। তাই, বাঙালিরা ১৯৬২ সালে পাকিস্তানী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে বাঙালিত্ব বোধের চেতনায় যে আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিলো, বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে জাতিকে সংবিধান প্রদান কালে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে সেই চেতনাকেই সংযুক্ত করেন। তাই, তিনি বাংলাদেশের প্রথম বাজেট প্রণয়নকালে প্রতিরক্ষা খাতের চেয়ে শিক্ষা খাতে ‘৩ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা’ বেশি বরাদ্দ প্রদান করেন।
সেই সঙ্গে, ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রসার ও পরিবেশ গড়ে তোলা এবং যুক্তিবাদী চিন্তার স্বাধীনতা ও উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটানোর লক্ষ্য রেখে। ১৯৭২ সালেই বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন ড. কুদরাত এ খুদাকে সভাপতি করে। সেই শিক্ষা কমিশন শিক্ষাখাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বৃদ্ধি, বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার, শিক্ষকের মর্যাদা বৃদ্ধি ও গবেষণায় গুরুত্ব দিয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু দেশের সাধারণ মানুষের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাকে করেছিলেন জাতীয়করণ। বঙ্গবন্ধুরই নির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুদের মধ্যে বিনামূল্যে বই, খাতা, পেন্সিল, দুধ, গমের ছাতু ও বিস্কুট বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতাকে আদর্শরূপে গ্রহণ করে শেখ হাসিনা সরকারও আজকের সময়ের দাবির সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাক্ষেত্রে আরও নানা উন্নত ধরনের সুযোগ সুবিধার সংযোজন ঘটিয়েছে। জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল সমাজ গড়ে তোলার কঠিন কাজটিও বাস্তবায়ন করে চলেছে।
বর্তমান সরকার শিক্ষার সুযোগহীন নিরক্ষর সমাজের বিভিন্ন স্তরের জনগোষ্ঠীকে সাক্ষর ও দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার জন্য ‘সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করেছে, শিক্ষার পরিকল্পিত প্রসার ও অক্ষরজ্ঞানহীনতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংগ্রাম করে চলেছে। সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ গড়তে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পতাকা বহন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘‘শিক্ষার জন্য ব্যয়কে আমি খরচ বলে মনে করি না, আমি মনে করি এটি একটি বিনিয়োগ, জাতিকে গড়ে তোলার বিনিয়োগ’’। বাঙালির মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধুর এই কালজয়ী দর্শনকেই তাঁর কন্যা, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এ জাতির উন্নয়ন বাস্তবায়নের হাতিয়ার করে নিয়েছেন। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে বাঙালিকে মুক্তির পথ নির্মাণ করে দিয়েছেন।
এই লক্ষ্যে সরকার একটি সময়োপযোগী ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ প্রণয়ন করেছে। এই শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের আওতায় দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন যুক্ত হবে বলে আশা করা হয়েছিলো। তাই, পরবর্তী দিনগুলোতে তা কার্যকর করা হয়। দেখা যাচ্ছে, প্রণীত এই শিক্ষানীতি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হতে থাকায় দেশে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম বিকশিত হয়েছে। অন্যদিকে, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষাকে সম্প্রসারিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উন্নীতকরণের এই প্রয়াস শিশু-কিশোরদের শিক্ষার মানবৃদ্ধি ও ভিতটুকু দৃঢ় করতে চলেছে। উল্লেখ্য, মূল্যায়ন পদ্ধতিকে পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমেও একালের উপযোগী শিক্ষিত জনশক্তির প্রজন্ম তৈরির পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। দেশের প্রতিবন্ধী শিশুরাও যাতে অবহেলিত কিংবা বোঝা হয়ে না থাকে, তার জন্য প্রতিবন্ধী শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে প্রতিবন্ধীবান্ধব শ্রেণিকক্ষ চালু করারও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের শিক্ষা উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে গুরুত্ববহ একটি অন্যতম ব্যবস্থার কথা এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন। সেটি হলো, শিক্ষা কার্যক্রমে আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার সংযোজন। ফলে, সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বুড়ি ছোঁয়ার পথে বাংলাদেশ যে আশাপ্রদভাবে এগিয়ে যেতে পারছে, তা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় বিগত বছরগুলোতে যে সমস্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে এদেশের এককালের পশ্চাদপদ মাদ্রাসা শিক্ষায় নবপর্যায়ের যাত্রা শুরু হয়েছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে (টিভিইটি) মান বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, বর্তমান জনপ্রিয় সরকারের বিশেষ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা উদ্যোক্তাদের সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিমাণ অতীতের তুলনায় অনেক বেশি বাড়ানো হয়েছে। তার ফলে, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ, ধর্মভিত্তিক শিক্ষাকে মূলধারার সাথে সম্পৃক্তকরণ, উন্নত কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ এবং মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিকরণে ব্যাপক পরিবেশের জন্ম দিতে পেরেছে দেশ পরিচালনায় নিয়োজিত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাযুদ্ধের পক্ষের সরকার। এসব আয়োজনকে সফল করবার বিষয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে।
সেন্টার ফর রিসার্চ এর তথ্য থেকে প্রাপ্ত সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে : ‘‘শিক্ষাখাতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি লাভ করেছে। তাতে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষায় বাংলাদেশের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপন হার ইতোমধ্যেই শতকরা ৮০ ভাগে উন্নীত হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছেলে-মেয়ে শিক্ষার্থীর সমতা অর্জিত হয়েছে।
বিগত এক দশকে এই দুই স্তরে শিক্ষার্থী ভর্তির পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান ও ফলাফলের দিকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার প্রতিনিয়ত পাঠ্যক্রমসহ সিলেবাস ও পুস্তকের বিষয়বস্তু উন্নত করা, শিক্ষকদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ জোরালো করা এবং বিদ্যালয়ের পরিবীক্ষণ প্রক্রিয়া উন্নত করার চেষ্টা করে চলেছে। শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও শিক্ষাবান্ধব অবকাঠামোর পেছনে প্রচুর বিনিয়োগ ও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দক্ষতানির্ভর পাঠ্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্য আনয়নের জন্য ‘শিখন-শিখানো’র পদ্ধতি ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ক্রমাগত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই ধরনের প্রচেষ্টা সমূহের কারণে শিক্ষার্থী ঝরে-পড়া কমেছে, শিক্ষার মান ও শিক্ষা সমাপনের হার বেড়েছে। এই যে দেশের এগিয়ে যাওয়ার আবহ তৈরি হয়েছে, তাকে ধরে রাখতে হলে আজকের আওয়ামী লীগ সরকার তথা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ-বাস্তবায়নকারী শক্তিকেই দেশ পরিচালনায় নির্বাচিত করে রাখতে হবে আগামী দিনগুলোতেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য।
উল্লেখ্য, এই সরকার সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কৌশলগত লক্ষ্য স্থির করে কাজ করে চলেছে। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার কিছু বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচিগুলো হলো, পাঠ্যবই ও শিক্ষা-সামগ্রীর মান বাড়ানো ও যথাসময়ে বণ্টন, শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা এবং পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজানো আর আবশ্যক সঠিক ব্যবস্থাপনা। দায়িত্বপ্রাপ্তরা আন্তরিক হলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হবে না।
সরকার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়েও (আইসিটি) শিক্ষকদের সক্ষমতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে আইসিটিনির্ভর শিক্ষা চালু করার জন্য মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের কর্মসূচি চলমান রয়েছে। আর, শিক্ষকরা ‘শিখন-শিখানোর’ এবং ‘ডিজিটাল কনটেন্ট’ তৈরিতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণও পাচ্ছেন। মানসম্মত বিষয়বস্তু তৈরির সক্ষমতা অর্জনের জন্য তাঁরা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (পিটিআই) থেকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। সরকার প্রত্যেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরসহ একটি ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট সংযোগের জন্য একটি মডেম সরবরাহ করেছে। বাছাইকৃত কিছু উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।
শিক্ষকদের জন্য ‘শিক্ষক বাতায়ন’ নামে একটি অনলাইন পোর্টালও তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষকরা এখানে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট, ব্লগ লিখতে ও নানা বিষয়ে তাঁদের মতামত দিতে এবং অন্যদের লেখার উপরে মন্তব্য করতে পারবেন। তাঁরা চাইলে এখান থেকে প্রয়োজনীয় কনটেন্ট নিয়ে নিজেদের কাজেও লাগাতে পারবেন। ধারাবাহিকভাবে নীতিগত সহায়তা, সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থী ভর্তির হার বৃদ্ধিতে প্রশংসনীয় সাফল্য এসেছে। লক্ষ লক্ষ মেয়েশিশুকে বিদ্যালয়ে আনতে পারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছেলে-মেয়ের সমতা অর্জন এদেশের জন্য একটি বিশেষ ইতিহাস তৈরি করেছে, যা ইতঃপূর্বে কখনও দেখা যায় নি। এর ফলে, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখন সাড়ে তিন কোটিরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ জাতীয় ফল অর্জনের কারণে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখন বহুলাংশেই পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। পশ্চাদপদ দেশগুলো এ সমস্ত অর্জনকে আদর্শরূপে বিবেচনা করছে।
২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রি ‘দাওরায়ে হাদিস’কে ইসলামিক স্টাডিস ও আরবীতে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি দিয়েছেন। মাদ্রাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনা সম্পন্নকারীদের সরকারি চাকুরিতে ঢোকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কওমি শিক্ষা মূলধারার শিক্ষা-ব্যবস্থার দিকে একধাপ এগিয়ে গেছে। মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে মাদ্রাসাগুলোর এমন সম্পৃক্ততা অতীতের বিচ্ছিন্নতা ও দূরত্ব মুছে দিচ্ছে।
সরকারের মানসম্মত উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বিগত বছরগুলোতে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দুই দশকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এই সময়ে উচ্চশিক্ষা, বিশেষ করে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও গবেষণার খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ‘‘বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল বিল-২০১৭’’ পাশ করেছে। একটি অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল গঠন করাই ছিলো এই বিল পাশের উদ্দেশ্য। ইতোমধ্যে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল উচ্চশিক্ষার মান বজার রাখার জন্য কাজ শুরু করেছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) গঠন শুরু করেছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহান্সমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় এই সেলটি গঠিত হয়েছে। এ সেলের উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যথাযথ শিক্ষার মান নিশ্চিত করার সংস্কৃতি চালু করা। এ পর্যন্ত ৬১টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সেল চালু হয়েছে।’’
দেশে এখন শিক্ষাবান্ধব একটি সরকার কাজ করছে। তাই, ধরে নেওয়া যায় যে, সামনের বছরগুলোতে এইখাতে অধিক বিনিয়োগ আসবে। দেশে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে যুব সমাজকে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার জন্য বর্তমান সরকার আন্তরিক। আশা করা যায় যে, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যেই ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’র শিক্ষা-সংক্রান্ত- সব লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে। মনে রাখা দরকার, সরকার প্রণীত পরিকল্পনা ও কর্মোদ্যোগসমূহ বাস্তবায়ন করতে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন স্তরে যাঁরা দায়-দায়িত্বে থাকেন, গভীর আন্তরিকতা দরকার সেই সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের। আর, প্রকারান্তরে পরিবর্তন ও অগ্রযাত্রার বিশাল কর্মসূচিসমূহকে বাস্তবায়নের ভারটুকু নিতে হয় জনগণেরই একটি অংশকে। তাঁরা এদেশের মানুষেরই সন্তান-সন্ততি। যাঁরা এই দায়িত্বভার পান তাঁদের মধ্যে লক্ষ্যে পৌঁছার আন্তরিকতা থাকলে, দুর্নীতিগ্রস্ত না হলে শতভাগ সফলতা যথাসময়ের মধ্যে করায়ত্ত করা কঠিন হবে না।
যে কোনো দেশের উন্নয়নের বড়ো শত্রু হয়ে দাঁড়ায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। বাংলাদেশ অতীতে এ ধরনের সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে। দেশে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাই গণমুখী ও জনবান্ধব রাজনৈতিক চর্চার অনুসারী হতে হবে। এটাই প্রকৃত দেশপ্রেম।
লেখক : স্বপন দত্ত
কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক 
 
*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop