ksrm

মুক্তকথাউৎসব পাল্টে উৎকণ্ঠা

মামুন শেখ

fb tw
somoy
বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে সম্ভবত সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রতিপক্ষ ভারত। প্রতিবেশী দেশটি ক্রিকেটে অভিজাত এবং বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। তারপরেও ভারত-বাংলাদেশের ক্রিকেট দ্বৈরথ শুধু বাংলাদেশি সমর্থকরাই নন, ভারতীয়রাও উপভোগ করে মন ভরে। বন্ধুপ্রতীম দুই দেশের দর্শকদের ভেতর এমন উত্তেজনার কারণ অস্পষ্ট।
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে একেবারেই আগ্রহ দেখায় না ভারত। এর পেছনে নানা অজুহাত দেখায় তারা। মাঝে মধ্যে বাংলাদেশ সফরে আসলেও নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানাতে চায়না একেবারেই। সেই ১৯৯৮ সালে ভারত সফরে গিয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুলরা। সেবার মোহালি এবং মুব্বাইয়ে দুটি ওয়ানডে খেলেছিলো বাংলাদেশ। ভারতের মাটিতে আর কখনোই ওয়ানডে খেলার সুযোগ পায়নি টাইগাররা। বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর ২০০০ সালে সর্বপ্রথম টেস্টটি খেলেছিলো ভারতের বিপক্ষে। এরপর আরো পাঁচটি সিরিজ খেলেছে দুদল। অথচ ২০১৭ সালে একবারই ভারতের মাটিতে সাদা পোশাকে খেলতে পেরেছে বাংলাদেশ। তাও মাত্র একটি টেস্ট। বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে তাদের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক কোনো টি-২০ও খেলেনি কখনো।
ক্রিকেট মোড়ল ভারত বাংলাদেশকে পূর্ণাঙ্গা সিরিজ খেলতে তাদের দেশে কখনোই ডাকে না। অথচ বন্ধুপ্রতীম ভারতের বিপক্ষে তাদের মাটিতে খেলতে মরিয়া বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি বহুবার বহুভাবে প্রকাশ পেয়েছে। শেষ পর্যন্ত মোটামুটি একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। দুটি টেস্ট এবং তিনটি টি-২০ আছে এই সফরে। এই সফরে হাই প্রোফাইল একটি কোচিং স্টাফ পাচ্ছে বাংলাদেশ। পরিকল্পনা আর প্রস্তুতিও চলছে অনেক দিন থেকে। বিসিবিতে বিরাজ করছিলো একটা উৎসব উৎসব অবস্থা। কিন্তু এই উৎসব বদলে হঠাৎ নেমে এলে উৎকণ্ঠা। ভারত সফরের জন্য জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে বেঁকে বসলেন ক্রিকেটাররা। বেতন ভাতা এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ ১৩ দফা দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমে পড়লেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেট থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিলেন। স্থবির হয়ে পড়লো দেশের ক্রিকেট।
বিসিবি সভাপতি সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের ধুয়ে দিলেন। তার পরেও সমঝোতা হলো দ্রুতই। খেলোয়াড়দের সব দাবি মেনে নিলো বিসিবি। মাঠে গড়ালো সব ধরনের ক্রিকেট। দেশের ক্রিকেট সমর্থকরা যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচলেন! স্পিন বোলিং কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টরি আসলেন। পুরো কোচিং স্টাফ নিয়ে শুরু হলো ভারত সফরের ক্যাম্প। ক্রিকেটাঙ্গণের হইচই বলতে গেলে থেমেই গেলো, নেমে এলো অদ্ভুত নীরবতা। কিন্তু এই নীরবতা যে বড় এক ঝড়ের পূর্বাভাস ছিলো তা হয়তো কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
খবর আসলো, ১৮ মাসের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছেন দেশের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান; ভারত সফরের দুই ফরম্যাটেই যার নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিলো।
আন্দোলনের সময় সংবাদ সম্মেলনে পাপন অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অল্প দিনের মধ্যেই আইসিসি ম্যাচ ফিক্সিংয়ের রিপোর্ট দিবে। মিরপুরে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচেও অংশ নেননি সাকিব। তখনও তেমন কিছুই আচ করা যায়নি। কিন্তু পরে জানা যায়, আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট থেকেই নাকি ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলেছে সাকিবকে। আগে জানা গিয়েছিলো, ভারত সফরে নাও যেতে পারেন সাকিব। তবে পরে জানা গেলো তিনি আসলে চাইলেও যেতে পারছেন না।
সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর, দুই বছর আগে একজন জুয়াড়ি সাকিবকে আইপিএল এবং বিপিএলে ফিক্সিংয়ের জন্য দুইবার ফোন করেছিলেন। কিন্তু সাকিব তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও আইসিসি কিংবা বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটকে বিষয়টি অবহিত করেননি। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটারের অসতর্কতা বড় মূল্যই হয়তো নিবো। নিজের ভুল নাকি স্বীকারও করেছেন সাকিব। কিন্তু তার ভুলের মাশুল শুধু তাকেই নয়, দিতে হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। ক্রিকেটের খোঁজ খবর রাখা সবাই জানেন, সাকিবের বিকল্প বাংলাদেশ ক্রিকেটে নেই। কোন ম্যাচে সে না থাকলে তার অতিরিক্ত একজন ব্যাটসম্যান অথবা স্পিনার নিয়ে সে জায়গা কাভার করার ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়।
সাকিবের ছোটখাটো ইনজুরি আমাদের বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেখানে তিনি যে অপরাধ করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে তার সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছর, আর সর্বনিম্ন ৬ মাস। আইসিসির কোড অব কন্ডাক্টে ২.৪.৪ ধারায় ব্যাখ্যা আছে বিষয়টির। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা, এমন কোনো প্রস্তাব পেলে সরাসরি দ্বারস্থ হতে হবে আইসিসির। তখন তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি দেখভাল করবে বিশ্ব ক্রিকেটের অ্যান্টি করাপশন ইউনিট। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায় এর আগেও এমন শাস্তির নজির আছে বিশ্ব ক্রিকেটে। ২০১৪ সালে বিপিএল চলাকালীন বুকির কাছ থেকে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েছিলেন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার কৌশল লোকুয়ারচ্চি। তথ্য গোপন করায় তাকে ১৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আইসিসি। সাকিবকেও এমন শাস্তি দেয়া হতে পারে। তবে আপীল করলে হয়তো কমে সর্বনিম্ন শাস্তিটাই হতে পারে। কিন্তু আপাতত শাস্তি মাপ হওয়ার কোনো লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে না।
ভারত সফরেন উৎসবটা এখন ধূসর রঙয়ের। কিন্তু চিন্তা তো শুধু এই সফর নিয়েই না। আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়েছে। আগামী বছর হতে যাওয়া টি-২০ বিশ্বকাপ নিয়েও চিন্তাভাবনা শুরু হয়ে গেছে। এমন সময় অলরাউন্ডার সাকিবের সঙ্গে অধিনায়ক সাকিবকেও খুবই দরকার দলের। নিষিদ্ধ হলে সাকিবের অভাব পূরণ করবে কে?

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop