ksrm

তথ্য প্রযুক্তির সময়বিজয় কীবোর্ড: নিয়ম যেন আবার আইন হয়ে না যায়

সালাউদ্দিন সেলিম

fb tw
somoy
‘বিজয় বাংলা কীবোর্ড’ জাতীয় প্রমিত মানের কীবোর্ড হিসেবে সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হওয়ায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি এই কীবোর্ড ব্যবহার করে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। মন্ত্রী স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘বিজয় বাংলা কীবোর্ড ৩.০ এখন জাতীয় প্রমিত মান। যেটির বিডিএস নাম্বার ১৭৩৮:২০১৮। সরকারি নিয়ম অনুসারে কেবলমাত্র এই কীবোর্ডই সর্বত্র ব্যবহৃত হবার কথা। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং কেবিনেট ডিভিসন তেমন নির্দেশনা দিয়েছেন। বাংলাদেশে আর কোনো কীবোর্ড এর সরকারি স্বীকৃতি নেই। সবাই প্রমিত মান মেনে চলুন। সরকারি চাকরিতে পরীক্ষা হবে এই কী বোর্ডেই। এখন পর্যন্ত বিজয় ছাড়া এসব মানসম্মত আর কোনো কী বোর্ড বা সফটওয়্যার বাংলাদেশে নেই।’
মন্ত্রীর এই স্ট্যাটাসের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন অনেকেই। 
এ প্রসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সালাউদ্দিন সেলিম তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সময় নিউজের পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
 ‘বিজয় বাংলা কীবোর্ড এখন সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত জাতীয় প্রমিত মানের কীবোর্ড। নিঃসন্দেহে খুব বড় একটি সুসংবাদ । কিন্তু মাননীয় মন্ত্রী বলেছেন- ‘সরকারি নিয়ম অনুসারে কেবলমাত্র এই কীবোর্ড-ই সর্বত্র ব্যবহার হবার কথা’। জাতির কাছে প্রশ্ন -'‘আমরা কি খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, চলাফেরা, দৈনন্দিন কাজ সব কিছুই কি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী করি?’
এটা নিয়ে ভয় পাওয়ার একটি কারণ আছে- সেটা হলো ‘এক সময় ‘ইউনিজয় (Unijoy)’ নামে একটি ওপেন সোর্স ‘বাংলা কীবোর্ড’ ছিল যার ডেভেলপমেন্টে কাজ করতো অনেক মেধাবী ছেলেমেয়ে। মেধাবীদের মেধা বিকাশে এবং নিত্যনতুন সৃষ্টিতে এই ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্ম বিশ্বব্যাপী সমাদিত। সেই ওপেনসোর্স প্ল্যাটফর্মের ‘ইউনিজয় বাংলা কীবোর্ড’ টিকে আইন করে কোর্ট অর্ডার নিয়ে তাদেরকে নাকানিচুবানি খাইয়ে বন্ধ করে দিয়েছিল বিজয় কীবোর্ড কর্তৃপক্ষ। বিজয় কী-বোর্ড কর্তৃপক্ষ দেশে ডেভেলপার তৈরি করার কাজে কখনোই সহায়ক ছিল না, তারা শুধু ব্যবসা চিনে, বিজয় ছাড়া অন্য কেউ দেশে বাংলা কীবোর্ড নিয়ে কাজ করবে এটা তারা মেনে নিতেই পারেন না।
তাই ভয় হয় সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিজয় কীবোর্ডটি যেন নিয়ম না হয়ে আবার আইন হয়ে যায়- অর্থ্যাৎ এমনও হতে পারে বিজয় কীবোর্ড ছাড়া অন্য কোন কীবোর্ড ব্যবহার করলে ব্যবহারকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে, মোবাইলকোর্ট বসিয়ে জরিমানা আদায় করা হবে।
সর্বত্র কোন কী-বোর্ড ব্যবহৃত হবে- সেটা চাপিয়ে দেওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়, ব্যবহারকারীরা যে যেটা ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে তারা সেটাই করবে। একটা কীবোর্ড সফটওয়ারে প্রমিত মান কিংবা স্বীকৃতির কিছু নেই, বিজয় এর ডেভেলপাররা এমন কোন ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করেন না যা অতি মাত্রায় আধুনিক অন্যকেউ পারে না, কিবোর্ডের বাটন তৈরিতে এমন কোন প্লাস্টিক ব্যবহার করেন না যেখানে হালাল-হারামের ব্যাপার আছে...।
যদিও আমি গত ২০ বছর ধরে বিজয় কীবোর্ড ব্যবহারকারী কিন্তু আমি চাই বাংলা কীবোর্ড নিয়ে দেশে আরও মেধাবিরা কাজ করুক, কারণ বাংলা ল্যাংগুয়েজকে ম্যাশিন ল্যাংগুয়েজে কাজ করাতে হলে এখনো প্রচুর গবেষণা বাকী, তাই বিজয়দের ভয়ে ইউনিজয় এর মতো আর কেউ যেন থেমে না যায়...।’
তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সালাউদ্দিন সেলিমের ফেসবুক থেকে নেওয়া ।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop