ksrm

মুক্তকথাট্রোলের নিচে চাপা পড়ছে না তো তিক্ত সত্য?

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ দেশি গরুর দুধে ‘সোনা’ থাকে। সোমবার (৪ নভেম্বর) বর্ধমানের টাউনহলে ‘ঘোষ এবং গাভীকল্যাণ সমিতি’র সভায় তিনি এই দাবি করেন। বিজেপি নেতার এই বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে এটি নিয়ে ট্রোলের বন্যা বয়ে যায়। এই বিষয় নিয়ে নিজের ফেসবুকে লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গের স্বনামধন্য সাহিত্যিক কৌশিক মজুমদার।
সময় সংবাদের পাঠকদের জন্য সেই স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো:
গতকাল থেকে ফেসবুক খুললেই খিল্লি আর মিমের ছড়াছড়ি। মাননীয় শ্রী ঘোষ বলেছেন দেশী গরুর কুঁজে আর দুধে নাকি সোনা থাকে। কিছুদিন আগে শুনেছিলাম ময়ুরের চোখের জলে বাচ্চা হয়, গরু অক্সিজেন ছাড়ে, গোমূত্রে ক্যান্সার দূর হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। ব্যাপারগুলো এতটাই বালখিল্য যে ক্লাস সেভেনের বাচ্চাও জানে এসব ভুলভাল কথা, এর কোন বাস্তব ভিত্তি নেই।
তাহলে যারা বলছেন, তারা হয় বোকা, কিস্যু জানেন না, আর নয়তো এর পিছনে আরও বড় কোন বুদ্ধি কাজ করছে।
আমি এটা মেনে নিতে নারাজ, যে এক বিশেষ দলের প্রায় সব বড় বড় নেতাই ইদানীং উলটো পালটা কথা বলে ট্রোল্ড হচ্ছেন মানে তাঁরা সবাই গাড়োল। বরং উল্টোটা। তাঁরা অনেক বেশি বুদ্ধিমান আমাদের ফেবু জনতার চেয়ে। কেন? কারণ চোখের সামনে ধরা হাতের মুঠি দূরের সুর্যকেও ঢেকে দিতে পারে। আমরা দূরের কথা ভাবি কম। সামনে যা পাচ্ছি তা নিয়েই দেড়শো মজা লুটছি।
এই যে ভারতের অর্থনীতির অবস্থা গত দশ বছরে সবচেয়ে খারাপ, হাজার হাজার মানুষ কাজ হারাচ্ছেন, সরকারী দপ্তর কর্পোরেট হয়ে যাচ্ছে, দূষণে, ক্ষুধায় ভারত পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ আসন নিয়েছে, এইসব নিয়ে কোথাও কোন সদর্থক আলোচনা দেখেন কি? না।
যেহেতু মিডিয়া এখন বিশেষ বিশেষ দলের হয়ে কথা বলে তাই মিডিয়ার আর সেই ক্ষমতা নেই যাকে এরা ভয় পাবেন। তাহলে মানূষের হয়ে কথা বলবে কারা? এখানেই আসে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা। সোশ্যাল মিডিয়া কি করতে পারে না পারে তা শাহবাগ আন্দোলন, নির্ভয়া কান্ড দেখিয়েছে। মিশরে সরকার পড়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ার আন্দোলনে। কারণ এখনও এঁকে কিনবার উপায় হাতে আসে নি।
কিন্তু যেখানে সে উপায় নেই (এখনও) সেখানে একটা ভাল পদ্ধতি হল diversion। এটা নেতারা ভাল বুঝেছেন জনগণ খিল্লি করতে ভালবাসে। ফলে ক্রমাগতঃ তাঁদের খিল্লির উপাদান দিয়ে যাও, যাতে মিম বানিয়ে আর খিল্লি করে তাঁরা কালাতিপাত করে, আসল বিষয় সবার নজরের বাইরে থাকে আর নেতারা যথা নিযুক্তোহষ্মি তথা করোমি বলে হৃদিস্থিত হৃষিকেশের বাণী মেনে চলতে পারে।
নিশ্চিত থাকুন, যত রান্নার গ্যাসের দাম বাড়বে আর জি ডি পি কমবে, তত এই ধরনের হাস্যকর কথা নেতাদের মুখে শুনতে পাবেন। আপনি খিল্লির মেটেরিয়াল চান, তাই তো? তাঁরা সেটাই প্রতিনিয়ত আপনাকে সাপ্লাই করে যাবে ডিমান্ড অনুযায়ী।
চিন দেশে এককালে ঠিক একইভাবে আফিম দিয়ে মানুষকে বশে রাখা হত। তাঁরা আফিম খেত, খুব মজা পেত, আর জ্ঞান ফিরলে বলত "রাজাটা জঘন্য, কিস্যু হবে না এঁকে দিয়ে" বলে আর একটা আফিমের গুলি মুখে পুরত।
সুতরাং খিল্লি করার আগে একবার ভাবুন। আপনার করা খিল্লি দেখে এরাই হ্যা হ্যা করে হাসছে আর ভাবছে না তো..... "কেমন বোকা বানালাম?"

লেখক: কৌশিক মজুমদার
সাহিত্যিক ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ধান্য গবেষণা কেন্দ্র, চুঁচুড়া, পশ্চিমবঙ্গ

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সময় সংবাদের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতে পারে। লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় সময় সংবাদ নেবে না।

আরও পড়ুন

গরুর দুধে ‘সোনা’ থাকে : বিজেপি নেতা (ভিডিও)

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop