বাংলার সময়রূপগঞ্জে বৃদ্ধকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন

সময় সংবাদ

fb tw
somoy
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মজনু চৌধুরী নামে এক বৃদ্ধ মৎস্যচাষিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। একই সাথে তার মৎস্য খামারের সব মাছ লুট করে নেয়া হয়েছে। মামলা করলে তাকে হত্যা করারও হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
এ ব্যাপারে থানা পুলিশের কাছে গিয়েও আইনের আশ্রয় বা কোনো ধরনের সহযোগিতা না পেয়ে সোমবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিত ওই বৃদ্ধ।
তিনি রূপগঞ্জ উপজেলার আতলাপুর গ্রামের মৃত রমিজ উদ্দিনের ছেলে।
মজনু চৌধুরী তার অভিযোগে বলেন, অভাব অনটনের কারণে স্থানীয় মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রিত হয়ে তার ঘরবাড়ি ও জমিজমা কেয়ারটেকার হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত দেখাশুনা করে আসছেন। জীবিকার প্রয়োজনে এর পাশাপাশি নিজেও কৃষি কাজ ও মাছ চাষসহ তরিতরকারির চাষও করেন।
তিনি বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋণগ্রহণ করে এলাকার বাদশা সরকারদের কাছ থেকে ৪ বিঘার পুকুর, মামুন ভূঁইয়ার এক বিঘার পুকুর ও আরিফ সরকারের এক বিঘার পুকুর বর্গা নিয়ে মৎস্য চাষ করে আসছেন। পুকুরের চারধারে লাউসহ বিভিন্ন সবজিও চাষ করেছেন তিনি।
তবে বাড়ির মালিক মিজানুর রহমান ও স্ত্রী মেহেরুন্নেছা মারা যাওয়ার পর থেকেই ওই এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে মাহাবুর, মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে আকবর মিয়া, আইয়ুব মিয়া, ইয়ানুছ মিয়ার ছেলে মাজাহারুল ও নাজমুলসহ তাদের নিয়োজিত সন্ত্রাসী বাহিনী বাড়িঘর জবরদখল করতে মজনু চৌধুরীকে নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতন চালিয়ে আসছে। 
গত ৩ মাস পূর্বে উল্লিখিত সন্ত্রাসীরা এক বিঘার একটি পুকুর জবরদখল করে নেয়। বাকি দুটি পুকুরের মাছ ধরে বিক্রি করে দেয়। পুকুর পাড়ে চাষ করা লাউসহ সবজি গাছ কেটে ফেলে। পুকুরে গেলেই মজনু চৌধুরীকে হত্যা ও হামলার হুমকি দিয়ে আসছে। এসব ব্যাপারে একাধিক বার ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশকে অবহিত করলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এদিকে, গত এক মাস আগে একটি পুকুরে মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে সন্ত্রাসীরা ফজরের নামাজরত অবস্থায় মসজিদ থেকে তুলে এনে মজনু চৌধুরীকে নারিকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। এরপর তার উপর নানাভাবে পাশবিক নির্যাতন চালায়।
এক পর্যায়ে নির্যাতনকারীরা হুমকি দিয়ে বলে মামলা করলে মৎস চাষীকে দশটি মামলা দেয়া হবে, বেশি বাড়াবাড়ি করলে এলাকা ছাড়া করা হবে, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধি তাদের পকেটে রয়েছে। পরে পরিবারের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় মজনু চৌধুরীকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করেন।
দীর্ঘ এক মাস হাসপাতালে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়িতে এসে নির্যাতনের বিচার ও ঋণ নিয়ে চাষ করা মাছের পুকুর ফেরত এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মজনু চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগমের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এসময় ইউএনও মমতাজ বেগম তাকে নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার ও চাষ করা পুকুর ফেরত পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন।
এ ব্যাপারে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি সবে মাত্র যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 
ইউএনও মমতাজ বেগম বলেন, অভিযোগটি পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানকে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ব্যবস্থা না নিলে সরেজমিনে এসিল্যান্ডকে পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্যাতন জুলুমবাজ ও দখলবাজদের কোন ছাড় দেয়া হবে না বলেও হুশিয়ারী দেন ইউএনও।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop