প্রবাসে সময়জোয়ারে ভাসলো ভেনিস, ব্যবসা হল বাংলাদেশিদের

মাকসুদ রহমান

fb tw
somoy
ভেনিস পৃথিবীর অপরূপ স্বপ্নের শহর। যে শহরের সৌন্দর্যে মোহিত হয়েছেন পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তি, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, রাজা ও মহা রাজা।
পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ইংরেজ কবি, সাহিত্যিক ও নাট্যকার শেক্সপিয়ার বিখ্যাত হয়েছেন এই শহরের উপর সাহিত্য রচনা করে।
শেক্সপিয়ারের লেখা, দি মারচেন্ট অফ ভেনিস, রোমিও-জুলিয়েট  ভেনিস বন্দর  ও রিজনের একটি শহর কেন্দ্রিক লেখা। ইউরোপীয় ইতিহাসের ফরাসীয় সম্রাট নেপলীয়ন বোনাপার্টও এসেছিলেন ভেনিস।  নেপলীয়ন তার সৈন্যদের ভেনিস প্রবেশকালে শহরের সৌন্দর্য্য ধ্বংস বা ক্ষয়ক্ষতি না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও ফিরতি পথে ভেনিসের বহু মূল্যবান ধন রত্ন, প্রত্নতাত্ত্বিক ও শিল্প কর্ম নিয়ে যান প্যারিস।
সাগরের বুকে গড়ে ওঠা পৃথিবীর একমাত্র ভাসমান শহর ভেনিস। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে মাত্র ৮৮ সেন্টিমিটার উচ্চতায় শহরের প্রধান কেন্দ্র সান-মার্কো স্কয়ার। সাড়ে তিন বর্গ কিলোমিটার মূল ভেনিস শহরে প্রতি বছর ভিড় করে ৩০ হতে ৩৫ মিলিয়ন পর্যটক। এমন ছোট্ট শহরে এত বেশি ভ্রমণকারী দুনিয়ার আর কোথাও নেই। 
ভেনিসের আশপাশে রয়েছে আরও ৫১টির মতো ছোট্ট ও মাঝারি মাপের দ্বীপ। এমন কিছু দ্বীপ রয়েছে যেখানে কেবল ৮০ থেকে ৯০টি কক্ষের একটি হোটেল তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। নৌ পথ বা পায়ে হেঁটে চলতে হয় এখানে। ইউনেস্কোর প্রথম সারির ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এই ভেনিস শহর।
সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে উচ্চতা কম হওয়ায় সামান্য জোয়ারে ডুবে যায় শহরের নিচু অঞ্চলগুলো। জোয়ারকে ইতালিয়ান ভাষায় বলে আকুয়া আলতা বা ইংরেজিতে হাই ওয়াটার। প্রতি বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি হতে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এই জোয়ারের পানি আসে। প্রকৃতির এই সুন্দর স্বপ্ন শহর আবার কিছু  প্রাকৃতিক কারণে রয়েছে হুমকির মুখে।
বলা হয়, গ্রিন হাউজ ইফেক্ট এর জন্য পৃথিবীর যেসব স্থান সমুদ্রগর্ভে বিলিয়ন হবার আশঙ্কা রয়েছে এর মধ্যে ভেনিস অন্যতম। এই তালিকায় আরও রয়েছে বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চল, ভারতের কিছু সমুদ্রতট, চীনের সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংক, নিউ ইয়র্ক রাজ্যের কিছু অংশ এবং আফ্রিকার পূর্ব উপকূলবর্তী কিছু অংশ। 
ধারণা করা হচ্ছে ২০৫০ সালের মধ্যে ৩৫০ মিলিয়ন মানুষ প্রত্যক্ষ এবং ৬০১ মিলিয়ন মানুষ পরোক্ষভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 
ভেনিসের জন্য আশার কথা হচ্ছে, এখানে ভূগর্ভস্থ মাটির স্তর অনেক কঠিন শীলায় তৈরি। কিন্তু ব্যাংকক, বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের ভূগর্ভস্থ স্তর পালিলিক শিলা দিয়ে গঠিত। তাই ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে এই অঞ্চল সমূহ। 
১৯৬৬ সালের ৪ নভেম্বর ভেনিসে হয়েছিল সবচেয়ে বড় আকুয়া আলতা (জোয়ার)। উচ্চতা ছিল ভয়ংকর। ১ মিটার ৯৪ সেন্টিমিটার। বর্তমানে (১২ নভেম্বর) পানির উচ্চতা ১ মিটার ৪০ সেন্টিমিটার। মঙ্গলবার রাতে ও ১২ ঘণ্টা পর আগামীকাল একবার জোয়ার আসবে। 
তবে ভেনিসবাসীকে জোয়ারের কথা জানানো হয় অনেক দিন আগে থেকে। সবশেষ জোয়ারের ৪ ঘণ্টা পূর্বে সাইরেন বাজানো হয়। মঙ্গলবার শহরের সকল এলাকা তলিয়ে গেছে। সৌখিন পর্যটকগণ পায়ে স্তাবিয়ালি (প্লাস্টিকের ৩০ থেকে ৫০ ইঞ্চি উঁচু) জুতা লাগিয়ে ঘুরে ঘুরে আনন্দ করে। এই জোয়ারের পানি কেবল ১ হতে ২ ঘণ্টা থাকে। 
স্থানীয় বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা স্তাবিয়ালি বিক্রি করে হাজার হাজার জোড়া। প্রতি জোড়া স্তাবিয়ালি বিক্রি হয় ১০ থেকে ১২ ইউরো করে। ২ ঘণ্টার এই জুতা প্রায় কোটি টাকার বেচা-বিক্রি হয়। পক্ষান্তরে এতে অনেক বাংলাদেশীর ব্যবসা ভালোই হয়। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।
ভেনিস শহরটি রক্ষার জন্য সমুদ্র বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে চলছে মহাপরিকল্পনা। যদিও কাজটি সহজ নয়। একই রকম প্রচেষ্টা রয়েছে বাংলাদেশের। শেখ হাসিনা সরকার বর্তমান দক্ষিণ বাংলাদেশকে সমুদ্রের আগ্রাসন হতে রক্ষা করতে শত বার্ষিকী পরিকল্পনা নিয়ে কয়েক বছর আগে নেদারল্যান্ড সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop