বাংলার সময়শিক্ষকের কামড়ে আহত শিক্ষক ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি

বিশ্বজিৎ বাপী

fb tw
somoy
মাগুরার শালিখায় উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রীপতি বিশ্বাস নামে এক শিক্ষকের ঠোঁট কামড় দিয়েছেন উজ্জ্বল মজুমদার নামে অপর শিক্ষক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ও পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহত শ্রীপতি বিশ্বাস শালিখা উপজেলার চতিয়া গ্রামের নিখিল বিশ্বাসের ছেলে সে নাঘোষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং উজ্জ্বল মজুমদার একই উপজেলার পাশ্ববর্তী গোবিন্দপুর গ্রামের বিষ্ণুপদ মজুমদারের ছেলে ও মশাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
সোমবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শালিখা উপজেলার ধনেশ্বরগাতি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, দু'জনের মধ্যে আগে বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে তাদের মধ্যে এত শত্রুতার জন্ম দিল কি কারণে বোঝা গেল না। শুধু ভালো সম্পর্কই না প্রতি দিনই তারা স্থানীয় ধনেশ্বরগাতী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একসঙ্গে আড্ডা দেয়। ঘটনার দিন বিকেলেও তাদের এক সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। আর সন্ধ্যা লাগতে না লাগতেই দু’জনের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি পরে কামড়ে ঠোঁট কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রীপতি বিশ্বাস স্থানীয় ধনেশ্বরগাতী বাজারে একটি দোকানে বসেছিলেন। হঠাৎ উজ্জ্বল মজুমদার কোথা থেকে এসে তাকে ডেকে পাশে নিয়ে যায়। ইতিমধ্যেই দু'জনেই চিৎকার হাতাহাতি বেধে যায়। এর এক পর্যায়ে উজ্জ্বল মজুমদার ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রীপতি বিশ্বাসকে চুলের মুঠো ধরে ঠোঁটে কামড় দিয়ে উঠিয়ে নেয়।
আহত শ্রীপতির বড় ভাই বিহারীলাল সিকদার সরকারি মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক বিধান বিশ্বাস জানান, তাদের দু'জনের মধ্যে অনেক ভালো সম্পর্ক ছিলো, কিন্তু হঠাৎ কি হলো এ রকম একটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটালো বুঝলাম না। তবে ঘটনা ঘটার ঘণ্টা খানেক আগেও তাদের মধ্যে ভালোভাবে কথাবার্তা কুশলবিনিময় হয়।
তিনি আরোও জানান, তার ভাই শ্রীপতি সন্ধ্যায় স্থানীয় বাজারে বসে ছিল, উজ্জ্বল এসে ডেকে আচমকা তুই আমার স্কুলের ছেলে মেয়েদের বকাঝকা দিয়েছিস বলে মার শুরু করে ও কামড়ে ঠোঁট উঠিয়ে নেয়। সে এখন গুরুতর আহত প্রথমে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ও পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
 
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক উজ্জ্বল মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শ্রীপতি শুধু শিক্ষার্থীদের বেয়াদবই বলেনি। স্কুলের শিক্ষকরাও বেয়াদব এমন কথা বলে তাদের গালমন্দ করেছে। এ বিষয়ে তার সাথে কথা বলতে গেলে সে আমার ওপর চড়াও হয়ে ওঠে। তবে কামড়িয়ে ঠোঁট ছিড়ে ফেলার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, মারামারির সময় পড়ে গিয়ে কেটে যেতে পারে।
    
মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অমর প্রসাদ বিশ্বাস বলেন, রোগীর মুখে অনেকটা জায়গা জুড়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তির পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তবে অবিলম্বে জরুরি অস্ত্রপচার করা প্রয়োজন। রোগীর পরিবার থেকে আমাদের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তাকে ঢাকায় নিয়ে গেছে।
      
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী অফিসার শালিখা থানার এসআই ফুরিদুজ্জামান জানান, তাদের মধ্যে যেকোনো গোপন বিষয় নিয়ে এ সংঘর্ষ হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের গালাগালি করা উপলক্ষ্য মাত্র, আমরা সঠিক তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি। আসামিকে গ্রেফতার করলে সঠিক তথ্য জানা যাবে।
এ বিষয়ে শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের ঘটনায় নয়, উভয়ের মধ্যকার পুরনো ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরেই রক্তারক্তির ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।
 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop