প্রবাসে সময়যে কারণে লাটভিয়ায় পড়তে যাবেন

লুৎফুর রহমান বাবু

fb tw
ইউরোপের যেসব দেশে সহজে বাংলাদেশ থেকে যেয়ে শিক্ষা অর্জন করা যায় তার মধ্যে লাটভিয়া অন্যতম। উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থা, বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে লাটভিয়া। 
লাটভিয়ায় কেন পড়াশোনা করবেন?  
লাটভিয়ায় বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ডিগ্রি প্রদানকারী অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তুলনামূলকভাবে স্বল্প টিউশন ফি দিয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন। এছাড়াকম খরচে বাস করা যায়। নিত্যনতুন বৈচিত্র্য দেখতে পাবেন শিক্ষা ক্ষেত্রে। এছাড়া কাজ করার সুযোগ পাবেন পড়ালেখার পাশাপাশি । আইইএলটিএস ছাড়াও লাটভিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা যায়। অনেক ধরনের কোর্স থেকে নিজের পছন্দমতো কোর্স বাছাই করে পড়তে পারবেন।
লাটভিয়ার অ্যাকাডেমিক স্ট্রাকচার
লাটভিয়ায় অ্যাকাডেমিক ও প্রফেশনাল শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। লাটভিয়ার বেশিরভাগ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই উচ্চ শিক্ষা প্রদান করে। অ্যাকাডেমিক উচ্চ শিক্ষা প্রোগ্রামগুলো মূলত স্বাধীন গবেষণার সাথে সম্পৃক্ত বিষয়গুলোতে আলোকপাত করে এবং আপনি চাইলে স্বাধীন গবেষণার সাথে সম্পৃক্ত যেকোনো বিষয় নিয়ে এখান থেকে গ্র্যাজুয়েট করতে পারবেন। এছাড়াও এখানে প্রফেশনাল অ্যাক্টিভিটিসের জন্য তারা আপনাকে থিওরিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড প্রদান করবে। তাদের অ্যাকাডেমিক শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অফ অ্যাকাডেমিক এডুকেশনের অন্তর্ভুক্ত। তারা মূলত প্রতিটি অ্যাকাডেমিক গ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করার পর একটি করে থিসিসের ব্যবস্থা করে থাকে, যেটা ব্যাচেরলরস ডিগ্রি এবং মাস্টারস ডিগ্রি উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

প্রফেশনাল উচ্চ শিক্ষা প্রোগ্রামগুলো মূলত বিভিন্ন বিষয়াদির গভীরে আলোকপাত করে এবং আপনি চাইলে যেকোনো বিষয় নিয়ে এখান থেকে গ্র্যাজুয়েট করতে পারবেন। তারা বর্তমানে যেসব বিষয় নিয়ে প্রফেশনাল উচ্চ শিক্ষা প্রদান করছে সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে ডিজাইন, ইম্প্রুভমেন্ট অফ সিস্টেমস, প্রোডাক্টস এন্ড টেকনোলজিস, ক্রিয়েটিভ রিসার্চ ইত্যাদি। শিক্ষার্থীরা মূলত এক্ষেত্রে যেকোনো একটি বিষয় বাছাই করে সেটার উপর যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে বিষয়টির গভীরে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করবে। প্রফেশনাল এডুকেশনের সময়সীমা চার বছর। এক্ষেত্রে কলেজের পর দুই বছর এবং স্নাতকের পর দুই বছর।
লাটভিয়ার ভিসা সম্পর্কিত তথ্যাবলি 
লাটভিয়ায় পড়াশোনা করার জন্য যেতে চান কিংবা শুধুমাত্র ট্র্যাভেলিংয়ের জন্য যেতে চান অথবা লাটভিয়ায় বসবাসের জন্য যেতে চাইলে আপনাকে বিভিন্ন ধরণের ভিসা গ্রহণ করতে হবে। এই লেখায় শুধুমাত্র স্টুডেন্ট ভিসা সম্পর্কিত তথ্যবলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০০৭ সাল থেকে লাটভিয়া ইউরোপিয়ান দেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছে যার ফলে আপনাকে শেনজেন ভিসা ক্যাটগরিতে আবেদন করতে হবে।

লাটভিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে যেসব ডকুমেন্টের প্রয়োজন পড়বে সেগুলো হচ্ছে, লাটভিয়ার ভিসা আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে। দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি। ছবিগুলো অবশ্যই সত্যায়িত করতে হবে। আপনার অরিজিনাল পাসপোর্টের কপি। ৩০ হাজার পাউন্ড ব্যাংক ব্যালেন্সের সাথে ইউরোপিয়ান ট্র্যাভেল ইন্স্যুরেন্সের কনফার্মেশন লেটার। ‘কেন আপনি লাটভিয়ায় যেতে চাইছেন’ এই বিষয়ের উপর একটি কাভার লেটার। আপনার ফ্লাইট সম্পর্কিত সব ধরণের তথ্য ও টিকেটের কপি।
রিপাবলিক অব লাটভিয়ার অন্তর্ভুক্ত যেকোনো একটি হোটেল রিসার্ভেশনের কপি। আপনার সিভিল স্ট্যাটাস বোঝানোর জন্য বিয়ের সার্টিফিকেট অথবা জন্ম নিবন্ধন পত্রের কপি। এনরোলমেন্টের সত্যায়িত কপি। লাটভিয়ায় যে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাইছেন সেখান থেকে লিভ অ্যাপ্রুভাল লেটারের কপি সংগ্রহ করতে হবে।
যেভাবে ভিসার জন্য আবেদন করবেন 
স্টুডেন্ট ভিসার ধরন নির্বাচন করে, ভিসার আবেদন ফর্ম ডাউনলোড করতে হবে। তারপর সেটা পূরণ করে অনলাইনেই আবেদন করুন। উল্লেখ্য যে, আপনি যেকোনো ট্র্যাভেল এজেন্সি অথবা লাটভিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার থেকেও ভিসার আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আলাদা সার্ভিস ফি প্রযোজ্য। আবেদন করার পর, বিভিন্ন সাপোর্টিং ডকুমেন্টেশন ভিসার আবেদন ফর্মের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। সাপোর্টিং ডকুমেন্ট ওয়েবসাইট থেকে স্ক্যান করাতে হবে। লাটভিয়ান অথবা শেনজেন ভিসা সাপোর্টেড অফিসে সকল ধরনের সাপোর্টিং ডকুমেন্টের কপি জমা দিতে হবে। যদিও এই ধাপটি সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। আপনার ভিসা আবেদন ফর্মের সাথে সাপোর্টিং ডকুমেন্টে যদি কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে সে সমস্যার সমাধান করার জন্যই আপনাকে ভিসা অফিসে যেতে হবে।
ভিসা আবেদন করার পরে কী করতে হবে?
লাটভিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করার পর, আপনার জন্মদিন ও ভিএলএন নাম্বার দিয়ে ভিসার অবস্থান ট্র্যাকিং করতে পারবেন। ভিসার অবস্থান ট্র্যাকিং করার জন্য এখানে ক্লিক করুন।  ভিসা ও ভর্তির প্রসেসিং হওয়ার জন্য কমপক্ষে ৮০ থেকে ৯০ দিন লাগতে পারে। অনলাইনে ভিসার আবেদন করার জন্য সর্বোচ্চ ৩০০০০ টাকা থেকে ৩৫০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অনলাইন ভিসা অ্যাসিস্ট অ্যাকাউন্ট করার জন্য ১০০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা খরচ হবে। বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের জন্য ২৫০০ টাকা থেকে ২৮০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
লাটভিয়ায় বসবাসের অবস্থা কেমন?
 বসবাসের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে আপনি চাইলে প্রত্যেক মাসে ৬০০০ টাকা থেকে ১০০০০ টাকা খরচ করে ভালোমানের স্টুডেন্ট হোস্টেলে থাকতে পারবেন। প্রাইভেট ফ্ল্যাটে থাকতে চাইলে প্রতি মাসে আপনাকে গুনতে হবে ২০০০০ টাকা থেকে ৫০০০০ টাকা পর্যন্ত। প্রত্যেক মাসে শুধুমাত্র খাবার খরচ পড়বে ১০০০০ টাকার মতো।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop