প্রবাসে সময়বাংলাদেশি চিকিৎসক নিয়োগ দিচ্ছে না সৌদি সরকার

আল মামুন শিপন

fb tw
somoy
অভিবাসী বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় গন্তব্যস্থল মধ্যপ্রাচ্য। সাধারণ শ্রমিক থেকে ডাক্তার সকলেই পাড়ি জমান সৌদি আরবের পথে। কিন্তু দক্ষ জনশক্তি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসকরা সৌদি আরব গেলেও তাদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের ডাক্তার নিয়োগের গেজেটে থাকছে না বাংলাদেশিদের নাম।
এছাড়া সৌদি আরবে চিকিৎসা প্রদানের জন্য ভারত, ফিলিপিন্স, মিশর, জর্ডান, তিউনিসিয়া, নাইজেরিয়া, লেবানন, সুদান ও পাকিস্তান থেকে ডাক্তার চাওয়া হলেও বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেনি দেশটির কর্তৃপক্ষ। 
এ নয়টি দেশ থেকে ডাক্তারদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য মোট ৪৮টি দল পাঠিয়েছে সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিশরীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১০০০, পাকিস্তান থেকে ৯০০ জন এবং সুদান থেকে ২০০ জন ডাক্তার নেয়া হবে। সৌদি আরবে কাজের সুযোগের তালিকায় বাংলাদেশের নাম না থাকায় অবশ্য হতাশ হয়েছেন অনেক চিকিৎসক।
সৌদি আরবে বাংলাদেশের জন্য এমন পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সৌদি আরব শাখার সাবেক সভাপতি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সৌদি আরব শাখার সভাপতি ডাক্তার ইমারত হোসেন বলেন, একটা সময় ছিলো সৌদি আরবের প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বাংলাদেশি চিকিৎসক ছিলেন। গত ৫ বছরে এখানে কোনো চিকিৎসক না এলেও চাকরির সময়সীমা শেষ হওয়াসহ নানা কারণে প্রতিদিনই বাংলাদেশি চিকিৎসকরা সৌদি আরব ছাড়ছেন। এতে কমছে বাংলাদেশি চিকিৎসকের সংখ্যা।
তিনি বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেদেশ থেকে ১৯৭৬ সালের শেষের দিক থেকে চিকিৎসক ও নার্স নেয়া শুরু করে। তারা প্রথমে লিখিত ও পরে মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে তাদের নির্বাচন করত। কিন্তু বছর দু’য়েক আগে ওরা এসে যাদের নির্বাচন করেছিল পরে বোয়েসেল তাদের না পাঠিয়ে অন্য একদল চিকিৎসককে পাঠিয়ে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সৌদি আরব। এ কারণে তারা তালিকা থেকে আমাদের (বাংলাদেশের) নাম মুছে দেয়। এমন ঘটনা দেশের জন্য নেতিবাচক প্রভাব বয়ে এনেছে বলেই মনে করেন এই সভাপতি।
ডাক্তার ইমারত হোসেন আরও বলেন, এতে যেমন আমাদের বিদেশি আয়ের ক্ষেত্র সংকীর্ণ হল তেমনি দেশের বদনামও হল। এর ফলে অন্যান্য দেশও আমাদের চিকিৎসক নিতে বিমুখতা দেখাতে পারে। এই সমস্যার সমাধানে সৌদি প্রবাসী যেসব ডাক্তার আছেন তাদের সহযোগিতা পেলে এবং দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় দূতাবাস উদ্যোগী হলে কূটনীতিক তৎপরতায় চালিয়ে পূর্বের অবস্থানে ফেরত আনা সম্ভব।
তবে এ সমস্যাকে খুব বড় করে না দেখে স্থানীয়ভাবে সম্ভবনার দিক হিসেবে দেখছেন বেসরকারি খাতের অন্যতম স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ল্যাবএইড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ এম শামীম। 
ডা. শামীম মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এখন অল্প পরিমাণ ডাক্তার বা নার্সরা যাচ্ছেন। কারণ বাংলাদেশেই এখন ডাক্তার ও নার্সদের প্রচুর কদর। এখানেই অনেকে ভালো কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। তাই বিদেশে যাওয়ার দরকার বোধ করছেন না কেউ কেউ। 
ডা. শামীম আরও বলেন, বাংলাদেশের ডাক্তার বা নার্সদের নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আগ্রহ না কমলেও আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েদের অনেকের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার আগ্রহ কমে গেছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে গেলে দেখা যায়, এসব ডাক্তার ও নার্সদের ক্যারিয়ার একটি নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে আটকে যায়। সেখান থেকে আর পদোন্নতি হয় না। তারা অন্যান্য দেশের কর্মীদের একটি নির্দিষ্ট বড় পদে বসিয়ে দেয়। সেসব সমস্যার কারণে এখনকার ছেলে-মেয়েরা দেশের বাইরে গেলে পশ্চিমা দেশগুলোতে যায়। অন্যান্য দেশগুলোতে তো আর যেতে বাধা নেই। তাই সৌদি আরব নিয়ে সেরকম দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
অবশ্য সৌদির এমন বিমুখতার জন্য দেশের অবস্থাকেই দায়ী করে রংপুর মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. আ.স.ম বরকত উল্লাহ বলেন, হয়তো তারা যেটা চাইছে সেটা আমরা পূরণ করতে পারছি না। সেজন্যই এই সমস্যাটা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসক বা নার্সদের যেসব গুণ তারা চায় তা হয়তো আমরা পূরণ করতে পারছি না। তবে যতক্ষণ না অন্যান্য সব দেশে সমস্যা দেখা যাচ্ছে ততক্ষণ এ নিয়ে বিচলিত হওয়ার তেমন কারণ নেই।
ডাক্তার ইমারত হোসেন বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের চাহিদা পূরণের জন্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে চিকিৎসক নিচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশি চিকিৎসকদের যথেষ্ট সুনাম থাকার পরেও তাদের নেওয়া হচ্ছে না। এর একটি কারণ হতে পারে, কূটনৈতিক ব্যর্থতা। রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস কোনোভাবেই এই দায় এড়াতে পারে না। 
তিনি বলেন, প্রফেশনাল (চিকিৎসক, প্রকৌশলী) বাংলাদেশি আনলে একদিকে যেমন রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে অন্যদিকে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে দেশের। বাংলাদেশের এফসিপিএস ডিগ্রি নিয়ে আপত্তি রয়েছে সৌদি আরবের। অন্যান্য দেশের চিকিৎসকরা এফসিপিএস ডিগ্রি নিয়ে সৌদিতে এলে তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মর্যাদা পাচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশিদের কাজ করতে হচ্ছে জেনারেল ফিজিশিয়ান হিসেবে
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, বাংলাদেশের এফসিপিএস কোর্স সৌদিতে চিকিৎসা দেয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং কোর্সের সময়সীমা বাড়িয়ে এর সমাধান চায়।

আরও পড়ুন

সৌদি থেকে ফিরলেন আরো ৬১ শ্রমিকসৌদিতে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পেলেন প্রবাসী বাংলাদেশিকাজের নিশ্চয়তা নিয়ে সৌদিতে আসার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop