আবহমান বাংলার ঐতিহ্য কথন

সময় সংবাদ

fb tw
নাগরিক জীবনের নানা রকম ব্যস্ততার মাঝে অনেকেই চান একটু ঐতিহ্যের আবহ। কিন্তু আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের ধারক-বাহক অনেক কিছুই আজ বিলুপ্তপ্রায়। সময়ের কাটা ঘুরে অনেক ঐতিহ্য কালের গর্ভে হারালেও এখনো টিকে আছে কিঞ্চিত!
ঘোড়ার গাড়ি:
সকাল আটটা। রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় সারি সারি করে রাখা ঘোড়ার গাড়ি। ফুলবাড়িয়া স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ এসব গাড়ি। বেলা দশটা নাগাদ ব্যস্ত রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় ঠক ঠক শব্দে ছুটে চলবে এসব গাড়ি।
ঐতিহ্যবাহী ঢাকার এক সময়ের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ছিলো এই ঘোড়ার গাড়ি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন বিশেষ দিনে হয়তো শখের বশে কেউ কেউ চড়ছেন এ গাড়িতে। ব্রিটিশ বাহন ‘সেদান’ এর কিছুটা পরিবর্তিত রুপ ঘোড়ার গাড়ি। ঘোড়ার গাড়ি অনেক জায়গায় ‘টমটম’ নামেও পরিচিত। আর যে চালায় তাকে বলা হয় সহিস বা কোচোয়ান।
ঘোড়ার গাড়ি এক সময়ের জমিদার, রাজা-বাদশা, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী বা রাজ পরিবারের সদস্যদের বা মালপত্র পরিবহনের অন্যতম প্রধান বাহন। ইতিহাসে আছে, অষ্টাদশ শতকের শেষ ও উনিশ শতকের প্রথম দিকে আমেনি সম্প্রদায় ছিল ঢাকার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ও প্রভাবশালী পরিবারের অন্যতম বাহন ছিল এই টমটম।
 
ঢাকায় স্থানীয় জমিদার ও ধনী পরিবারগুলো অনেকটা আভিজাত্য প্রকাশে ব্যবহার করতো ঘোড়ার গাড়ি। এমন এক সময় ছিল ঘোড়ার গাড়ির পায়ের খুরের ঠক ঠক শব্দে পথঘাট হয়ে উঠত মুখর। নতুন প্রজন্মকে ঢাকার ইতিহাসের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে মানুষ ছুটে আসেন ঘোড়ার গাড়ির কাছে। প্রতিদিন পুরান ঢাকার রাস্তায় চলাচলের পাশাপাশি এই গাড়িগুলো ঈদ, পয়লা বৈশাখ, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল, বিয়েসহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে আজও কদর পায়।
আবার শখের বশে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ঘোড়ার গাড়িতে চড়েন এমন মানুষ নেহাতই কম নেই। তবে এখন নামমাত্র কিছু গাড়ি পুরান ঢাকা এলাকায় দেখা যায়, যা ঐতিহ্য রক্ষার নামে ব্যবসায়িক কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে।  
পালকি চলে:
'চতুর্দোলায় চড়ে দেখ ঐ বধূ যায়,
স্বপ্ন সুখে তার চোখ দু’টো যে উছলায়
হু-উম-না-হু-উম-না...'
এক সময় গ্রাম বাংলার সর্বত্রই পালকির প্রচলন ছিল।আবহমানকাল ধরে চলে আসা বাঙ্গালি ঐতিহ্যের সাথে পালকির নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আগেকার দিনের বিয়তে এবং পালকি যেন ছিলো একই সুতোয় গাঁথা। গায়ের পথে পালকি করে নববধূকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা রাস্তায় আর বৌ-ঝিয়ের বাড়ির ভিতর থেকে উঁকি-ঝুঁকি মারত। পালকির মধ্যে বসা বৌকে দেখে তারাও হারিয়ে যেত কল্পনার রাজ্যে।
ছয় বেয়ারা পালকি কাঁধে নিয়ে ছন্দ তুলে নতুন বউকে নিয়ে যেত বাংলার শ্যামল মেঠো পথ ধরে। পালকি বহনকারীরা বেহারা নামে পরিচিত ছিল। পালকি বহনের সময় তারা গাইত নানান ধরণের গীত। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে পালকি চলত ভিন গায়ে। কিন্তু ক্রমান্বয়ে লোপ পেয়েছে এই বেহারা সম্প্রদায়। তবে পালকির প্রতি শৌখিন মানুষের চাহিদা কমেনি বিন্দুমাত্র।  
বায়োস্কপের নেশা:
লম্বা টুপি, রঙ্গিন জামা আর হাতে ডুগডুগি। ছন্দ ও সুরে হাঁক তুলে ডাকছেন দর্শনার্থীদের। বায়োস্কপের বাক্স ঘিরে ততক্ষণে জমে উঠেছে আসর। সঙ সাজা মানুষটিকে ঘিরে আছে কৌতূহলী দর্শক। বায়োস্কপের ফুটোয় চোখ রেখে শিশুরা রঙ্গিন ছবি উপভোগ করছে। আহ! কি আনন্দ!
 
এ গল্প যেন বেশি দিনের নয়। গ্রামাঞ্চলের হাট বাজার আর মেলায় বায়োস্কপের আসর বসত। আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে হারাতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই বিনোদন মাধ্যম। দেশীয় এই ঐতিহ্য নিবিড় মমতায় টিকিয়ে রাখতে এখনো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আয়োজন থাকে বায়োস্কপের।  
নাগরদোলা:
নাগরদোলায় চড়ে আকাশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে ঘুরে বেড়াতে কার না ভালো লাগে? এটি দেখলেই যে কারোরই ছোটবেলায় ফিরে যাওয়াটা অতি স্বাভাবিক। দল বেঁধে গ্রামীণ মেলাতে নাগরদোলায় চড়ার অভিজ্ঞতা নেই এমন মানুষ মেলা ভার। ঠিক উপরে উঠে নিচে নামার সময় বুকের মধ্যে এক ধরনের শূণ্যতা অনুভবের প্রতিক্রিয়া মনে হয় এখনো সেই দিনের, কিন্তু এখন সেই আনন্দতো অনেকটাই স্মৃতিবিজড়িত। শৈশবে কোন এক চৈত্রসংক্রান্তি মেলায় নাগরদোলায় চড়ে দম যায় যায় অবস্থা হয়ে যেত।
হাতির পিঠে:
বিশালাকৃতির এই প্রাণীর বিচরণ সাধারণত বন-জঙ্গল বা বিভিন্ন সাফারি পার্কে। মানুষের আনন্দের খোরাক হিসেবে বিভিন্ন মেলায় বা সার্কাসে হাজির করা হয় বিশালাকার হাতিকে। লম্বা শুড় তুলে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে আনন্দ দিয়ে থাকে। এসব হাতিকে আবার বিভিন্ন নাম ধরে ডাকলে শুড় তুলে তার উপস্থিতি জানান দিতে ভুল করে না। আজকাল বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও হাজির করা হয় হাতিকে।
সার্কাস:
বাঙ্গালি উৎসবপ্রবণ জাতি। যে কোন উৎসব বা পার্বণে আয়োজনের ইয়ত্তা থাকে না। তেমনি আয়োজনের মধ্যে সার্কাস অন্যতম। নানা রকম কৌতূহলী আর আনন্দদায়ক কসরত প্রদর্শন করা হয় সার্কাসে। বৈশাখী মেলা বা গ্রামীণ মেলাতে চোখে পড়ে সার্কাসের খেলা, সাথে পুতুল নাচও কম আনন্দ দেয় না। দড়ির উপর দিয়ে এক পায়ে হেটে যাওয়া, এক পায়ে সাইকেল চালানো, চোখ বেধে ছুরি মারা, শারীরিক বিভিন্ন কৌশলসহ মজাদার অনেক কিছুই। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সার্কাস যেন হারাতে বসেছে।
ঐতিহ্যবাহী এ সবকিছুই বাঙ্গালিদের কাছে যেন আবেগের বিষয়বস্তু। নিজেদের ঐতিহ্য-সংস্কৃতি আর শেকড় সম্পর্কে জানাতে এসব রক্ষা করা যেন অত্যাবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
ভাইরাল
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
Latest News
এক্সক্লুসিভ লাইভ
আপনিও লিখুন
ছবি ভিডিও টিভি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop