স্বাস্থ্যনারীদের বন্ধ্যাত্ব বাড়ছে যেসব কারণে

ওয়েব ডেস্ক

fb tw
somoy
সন্তানের মাধ্যমেই জীবনে পূর্ণতা খোঁজেন অনেক দম্পতিই। কিন্ত অকাল বন্ধ্যাত্ব আনে হতাশা। পরিবর্তনশীল বর্তমান সমাজে নারী ও পুরুষ- সবার মধ্যেই এখন বন্ধ্যাত্বের হার যাচ্ছে বেড়ে। 
আজ জেনে নিন নারীদের বন্ধ্যাত্ব বাড়ছে যেসব কারণে।
অনিয়মিত ঋতুস্রাব
নারীদের ঋতুচক্র শুরু হওয়ার পর ২১ থেকৈ ৩৫ দিনের মধ্যে ঋতুস্রাব হলে সেটিকে স্বাভাবিক ধরা হয়। কিন্তু ২০ দিনের আগেই যদি ঋতুস্রাব হয়, বা দেড়-দুই মাসেও যদি ঋতুস্রাব না হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে ওই নারী জটিল শারীরিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এর ফল হতে পারে বন্ধ্যাত্ব।
জরায়ুর অসুখ
অস্বাস্থকর নগর পরিবেশে থাকার কারণে বেশিরভাগ নারীই এখন ভুগছেন জরায়ুর নানা রোগে। জরায়ুমুখের ক্যান্সার, জরায়ুতে টিউমার, জরায়ুতে জীবণুর সংক্রমণ- ইত্যাদি নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে নারদের মধ্যে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্বাস্থকর অবস্থায় যৌন মিলন ও সঙ্গীর বয়ে আনা জীবাণু থেকে এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন নারীরা। এসব রোগের প্রকোপ বাড়া নারীদের মদ্যে বন্ধ্যাত্বের হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
এন্ডোমেট্রিওসিস
নারীদের জরায়ুর আরেকটি অসুখ এন্ডোমেট্রিওসিস। এতে জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের ভেতরের ঝিল্লি, যা গর্ভাবস্থায় সন্তানকে সুরক্ষিত রাখে, তা বাইরে চলে আসে। সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ বছরের নারীদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। এই অবস্থায় বন্ধ্যা হওয়ার আশঙ্কা দেখা যায় প্রবলভাবে।
ডিম্বনালীর অসুখ
ডিম্বনালীর প্রধান কাজ ডিম্বাণু ও শুক্রকিটের মিলনের স্থান ঠিক করা এবং ভ্রুণের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় হরমোনের সৃষ্টি করা। এই ডিম্বনালী যখন জীবাণুর দ্বারা সংক্রমিত হয় তখন এর শ্লেষ্মাঝিল্লির ক্ষতি হয়। আর তখনই নারীর বন্ধ্যাত্বের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
এছাড়াও শল্যচিকিৎসার কারণেও ডিম্বনালী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যেমন, ডি অ্যান্ড সি, এন্ডোমেট্রিয়াল বাইয়পসি বা অ্যাপেন্ডিক্সের অপারেশনের ফলেও ডিম্বনালীর অসুখ হতে পারে। 
হরমোন জটিলতা
শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ রসদ হরমোন। বিশেষ করে নারীদেহের ঋতুচক্র এবং ডিম্বাণু নির্গত হওয়া নানা অন্তঃস্রাবি গ্রন্থির হরমোনের ওপর নির্ভরশীল। হাইপোথেলামসের আঘাত, টিউমার, পিটুইটারি গ্রন্থির টিউমার, অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির টিউমার, থাইরয়েড গ্রন্থির অসুখ হঠাৎ করেই বদলে দিতে পারে নারীদেহের স্বাভাবিক হরমোনের গতিপথ।
অ্যান্টিবডির আক্রমণ
নারীর শরীরজাত অ্যান্টিবডি অনেক সময় পুরুষের শুক্রকিট ধ্বংস করে দেয় বা শুক্রকিটের জরায়ুর মুখে প্রবেশে বাধার সৃষ্টি করে। এই অ্যান্টিবডি পুরুষের রক্ত বা বীর্যে এবং মেয়েদের রক্ত বা জরায়ুমুখের শ্লেষ্মাঝিল্লিতে পাওয়া যায়।
মানসিক চাপ
ব্যস্ত নগরজীবনে নারীর নিত্যসঙ্গী মানসিক চাপ। শরীরের তুলনায় মনের রোগ সাধারণত অবহেলার পাত্র হওয়ায়, মানসিক চাপ কখনো কমে না, বরং বাড়তেই থাকে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীরের নানা রোগ, এমনকী বন্ধ্যত্বের কারণও এই মানসিক চাপ।
অনেক সময় সন্তানলাভের তীব্র বাসনাও প্রবল মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সমাজ ও পরিবারের আরোপিত চাপও এখানে মড়ার উপর খাড়ার ঘায়ের মতো কাজ করে। তাই স্বামীদের উচিৎ স্ত্রীকে এসব চাপ থেকে দূরে রাখা, যাতে সন্তান ধারণের উপযোগী দেহ ও মন সে সহজেই লাভ করতে পারে।
স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব
পুষ্টির অভাব বা অতিরিক্ত মেদবহুল, বা তলপেটে চর্বি জমার কারণেও নারী বন্ধ্যা হতে পারেন। তাই স্বাস্থ্য সচেতন ও খাবার গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
এসব সমস্যার যেকোনোটি দেখা দিলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে বন্ধ্যাত্বও এখন ঘোচানো সম্ভব।
সূত্র : পরিবর্তন

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop