মহানগর সময়ঢাকার আলোচিত ৬টি ফ্লাইওভার

ওয়েব ডেস্ক

fb tw
somoy
পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ভবিষ্য রোডপ্ল্যান বা যাতায়াতের লাইন দেখলে আপনি বিস্ময় হয়ে যাবেন। বর্তমানে ঢাকা সিটির মধ্যে যানজট নিরসনে কয়েকটি ফ্লাইওভার বা উড়ালসেতু তৈরি করা হয়েছে। যার নৈসর্গিক সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য। কাজের প্রয়োজনে মানুষ ছুটছে দণ্ডে দণ্ডে, বৃদ্ধি পাচ্ছে যানবাহন। কিন্তু গাড়ি বৃদ্ধির অনুপাতে সরণির বিস্তৃতি না হওয়ায় স্থবির হচ্ছে গতি। যার কারণে ফ্লাইওভার বা উড়ালসেতু হয়ে উঠছে নির্ভরযোগ্য বিকল্প এক মাধ্যম। সময় বাঁচাতে উড়ালসেতু রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আসুন জেনে নেই ফ্লাইওভারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের নেপথ্যের গল্প।
মহাখালী উড়ালসেতু
সর্বপ্রথম খিলগাঁও উড়ালসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও মহাখালী উড়ালসেতুর নির্মাণ কাজ আগে শেষ হয় এবং খিলগাঁও উড়ালসেতুর আগেই উদ্বোধন হয়। যে কারণে মহাখালী উড়ালসেতুকেই দেশের প্রথম উড়ালসেতু হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া যায়। মহাখালী উড়াল-পথের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০১ সালের ডিসেম্বরে এবং যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয় ২০০৪ সালের নভেম্বরে। ১৯টি শক্তিশালী স্তম্ভের সাহায্য নির্মিত এ উড়ালসেতুর দৈর্ঘ্য ১.১২ কিলোমিটার। যানবাহন চলাচলের জন্য উভয় পাশে ৭.৫ মিটার চওড়া রাস্তা এবং ০.৬ মিটার ফুটপাত রয়েছে। প্রায় ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে উড়ালসেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে প্রায় তিন বছর। সন্ধ্যাকালীন অবকাশ যাপনের জন্য কিংবা পথিকের উদাসী পথের সঙ্গি হিসেবে মহাখালী উড়ালসেতুর ফুটপাতদ্বয় একেবারেই মন্দ নয়। তাই অনেকেই নিন্তান্তই হাঁটাচলার জন্য প্রায়শ এখানে এসে থাকেন।
খিলগাঁও উড়ালসেতু
খিলগাঁও উড়ালসেতু ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত একটি উড়ালসেতু। এটি একদিকে রাজারবাগকে সংযুক্ত করেছে অন্যদিকে মালিবাগকে এবং তৃতীয় দিকে সায়েদাবাদকে। ২০১৬ সালে নির্মাণকৃত আরেকটি লুপ  মাদারটেক, কদমতলী, বাসাবো ও সিপাহীবাগকেও যুক্ত করেছে উড়ালসেতুর সাথে। ১.৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ উড়ালসেতুর নির্মাণকাজ শুরু  হয় ২০০১ সালে এবং সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় ২০০৫ সালের মার্চ মাসে। ১৪ মিটার চওড়া খিলগাঁও উড়ালসেতু নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় ৮১.৭৫ কোটি টাকা। এটি নির্মাণের ফলে খিলগাঁও রেল ক্রসিংয়ের জ্যামের পরিমাণ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
বিজয় সরণি উড়ালসেতু
রাজধানীর বিজয় সরণিতে বহুল আলোচিত র‌্যাংগস ভবন ভাঙার কাজ শুরু করার মাধ্যমে ২০০৭ সালে বিজয় সরণি-তেজগাঁও সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়কের ০.৭ কিলোমিটার অংশে রয়েছে উড়ালসেতু। তেজগাঁও রেলক্রসিং থেকে যানবাহনকে মুক্ত করতে এবং ঢাকার পূর্ব দিকের সাথে কেন্দ্রের যোগাযোগ স্থাপন করতে এই উড়ালসেতু বানানো হয়েছে। সোডিয়াম বাতির আলোতে সজ্জিত সম্পূর্ণ সড়কটি নির্মাণে সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ১১৪ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণ বাবদ ৬৯ কোটি টাকা আর সড়ক নির্মাণে  তিন কোটি ৫৮ লাখ এবং রেলক্রসিংয়ের জন্য উড়ালসেতু নির্মাণে ব্যয় হয় ৩৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ২০১০ সালের এপ্রিলে এটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। উড়ালসেতুটি বিজয় সরণির সাথে গুলশান, তিব্বত এবং সাত রাস্তাকে সংযুক্ত করেছে।
কুড়িল উড়ালসেতু
চারটি লুপের সমন্বয়ে তৈরি কুড়িল উড়ালসেতু ঢাকার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন একটি সড়ক। বিশেষ করে রাতের ঝলমলে আলোতে কুড়িল উড়ালসেতুর সৌন্দর্য আরও বর্ধিত হয়। স্থানীয় অনেক মানুষ সন্ধ্যাকালীন অবকাশ যাপনের জন্য এখানে এসে থাকেন। ৩.১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কুড়িল উড়ালসেতুর চারটি লুপ দিয়েই ওঠা-নামা করা যায়। এই লুপগুলো হলো বনানী, কুড়িল, খিলক্ষেত ও পূর্বাচল প্রান্তে। প্রথমে এর নির্মাণ ব্যয় ২৫৪ কোটি টাকা ধরা হলেও নির্মাণকাজ শেষে ব্যয় বেড়ে ৩০৩ কোটি টাকায় গিয়ে থামে। এর সম্পূর্ণ অর্থায়ন করা হয় রাজউকের নিজস্ব তহবিল থেকে। ৬৭টি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এ উড়ালসেতুর উচ্চতা ৪৭.৫৭ ফুট এবং প্রস্থ ৩০.১৮ ফুট। ২০১০ সালের মে মাসে শুরু হওয়া এই উড়ালসেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৩ সালের আগস্টে। সরকারিভাবে এটি কুড়িল বহুমুখী উড়ালসেতু নামে পরিচিত।
মেয়র হানিফ উড়ালসেতু
প্রায় ১১.৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ উড়ালসেতু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উড়ালসেতু। ১৯৯৮ সালে এই উড়ালসেতু তৈরি হবার কথা থাকলে ১৫ বছর পর উড়ালসেতুটি পূর্ণতা পায়। ১০০ বছর আয়ুর এ উড়ালসেতুর কারণে উপকৃত হচ্ছেন দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ৩০টি জেলার জনগণ। ২০১০ সালের জুনে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এবং ২০১৩ সালের অক্টোবরে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।
উড়ালসেতুটির লেন সংখ্যা চারটি এবং এতে প্রবেশের জন্য পথ রয়েছে ছয়টি। মোট ওঠা-নামার পথ রয়েছে ১৩টি। মেয়র হানিফ বা যাত্রাবাড়ী উড়ালসেতুর প্রতি কিলোমিটার নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ২৩০ কোটি টাকা এবং সম্পূর্ণ প্রকল্পে খরচ হয়েছে ২,৩০০ কোটি টাকারও বেশি, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যয়ে নির্মিত। নির্মাণ ব্যয় তুলে নেবার প্রক্রিয়া হিসেবে টোল প্লাজা বসানো হয়েছে এ উড়ালসেতুতে।
জিল্লুর রহমান উড়ালসেতু
ঢাকার যাতায়াত ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে জিল্লুর রহমান উড়ালসেতুর মাধ্যমে। আগে মিরপুর থেকে এয়ারপোর্ট যাতায়াত করতে গেলে বিজয় সরণি ঘুরে মহাখালী হয়ে তারপর এয়ারপোর্ট যেতে হতো। মিরপুর থেকে এয়ারপোর্টগামী একজন যাত্রীর ন্যূনতম দু-তিন ঘণ্টা সময় লেগেই যেত। আর জিল্লুর রহমান উড়ালসেতু দিয়ে একই দূরত্ব যেতে সময় লাগছে মাত্র ২০-২৫ মিনিট। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই উড়ালসেতুটির কাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন মাস আগেই ২০১৩ সালের মার্চে এর নির্মাণকাজ শেষ হয় এবং এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। জিল্লুর রহমান উড়ালসেতুর দৈর্ঘ্য ১.৭৯৩ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৫.৫২ মিটার। উড়ালসেতুটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
ঢাকার আরও কিছু উড়ালসেতু নির্মীয়মাণ রয়েছে যার মধ্য মৌচাক-মালিবাগ রেলগেট রুটের উড়ালসেতুটি। তবে এই উড়ালসেতুটির কাজ প্রায় শেষ। রয়েছে উদ্বোধনের অপেক্ষায়। আসা করে যায় এরপরে ঢাকা শহরের যানজট থেকে কিছুটা নয় অনেকাংশেই কমে যাবে।

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop