বিনোদনের সময়ডুব ছবি দেখে প্রথম প্রতিক্রিয়া জানালেন শাওন

সুব্রত আচার্য

fb tw
সম্প্রতি আলোচিত সিনেমা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী পরিচালিত 'ডুব'। সিনেমার গল্প বা পটভূমি নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ জীবন থেকে নেয়া এমনটা দাবী অনেকেরই। তবে এই প্রথম এই সিনেমা নিয়ে কথা বললেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন।
কলকাতায় সময় সংবাদকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, সিনেমাটিতে জোর করেই হুমায়ূন আহমেদের জীবন ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। যেখানে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন পরিচালক।
২৬ অক্টোবর কলকাতার একটি সিনেপ্লেক্সে মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী নির্মিত ’ডুব’ ছবির প্রিমিয়ার শো হয়েছিল। আর এরই প্রায় এক মাসের মধ্যে কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করতে এসে কলকাতায় সময় টেলিভিশনের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় এমন সবই কথা জানালেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন।  
শাওন বলেন, 'কলকাতায় আসার আগেই ঢাকায় বিশেষ শো-তে ফারুকীর 'ডুব' চলচ্চিত্রটি দেখেছি আমি। সত্যি কথা বলতে কি আমার খুব হাসি পেয়েছে। দর্শকের দৃষ্টিকোণ থেকে যদি বলি দর্শকরা এই চলচ্চিত্র দেখে রায় দিয়েছে। আমার রায় ওই দর্শকদের মতই।  তিনি আরো বলেন, আর যদি হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী হিসেবে বলি তাহলে এটি হুমায়ূন আহমেদ হয়নি।  চলচ্চিত্রে জোর করেই হুমায়ূন আহমেদকে ঢুকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ডুবে হুমায়ূন আহমেদ নেই। হুমায়ুন আহমেদ অনেক বড় ব্যপার। হুমায়ূন আহমেদের হৃদয়ের একটা ছিটাফোঁটাও ডুবে নেই।'  
মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী নির্মিত ’ডুব’ ছবি নিয়ে শুরু থেকেই দেশ জুড়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ছবিটি নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের জীবন নিয়ে নির্মিত- নাকি তার অন্য কোন গল্প- বিতর্ক ছিল এমন প্রশ্নের উত্তর নিয়েই। যদিও এরই মধ্যে দর্শকদের সামনে রুপালি পর্দায় ঝলছে উঠছে 'ডুব'। দর্শকদের কাছেও উত্তর পরিস্কার। তবে ডুব চলচ্চিত্র দেখার পর দর্শকরা তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ওই বিতর্ক থেকে একচুলও সরে আসেননি। পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতণ্ডা ফেসবুক থেকে ঢুকে পড়েছে টেলিভিশনের টকশোতেও।      
'ডুব'কে হুমায়ুন আহমেদের বায়োপিক বলে যদি চালানো হয় তবে কিভাবে নেবেন এ প্রশ্নের উত্তরে শাওন বলেন, 'ছবিতে আমরা যাকে দেখেছি তিনি কোন ভাবেই হুমায়ূন আহমেদ নন। তবে দুই একটা ঘটনা এখানে টানার চেষ্টা করা হয়েছে, খুবই ব্যর্থ চেষ্টা। '  
হুমায়ূন আহমেদ কে নিয়ে অনেক ভাল-মন্দ কাজ করার জায়গা ছিল বা আছে এখনো এমন প্রশ্নের উত্তরে শাওন বলেন, 'হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে অনেক কিছু করার জায়গা আছে। সততা দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের যেটুকু মন্দ বিষয় ছিল- সেগুলোও তুলে আনা সম্ভব । তবে শুধু সৎ থাকতে হবে।  যদি কোনও লেখক লিখতে চান তাকে নিয়ে; সেই লেখকে সৎ থাকতে হবে। যদি কোনও নির্মাতা ছবি বানাতে চান, তবে তাকেও সৎ থাকতে হবে। হুমায়ূন আহমেদ কে নিয়ে যে কোনও কাজ করতে গেলে একটি জিনিষই প্রয়োজন; সেটা 'সততা' এবং 'সততা'।   
শাওন কি কখনো হুমায়ূন আহমেদের জীবন নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরের তিনি বলেন,  'হুমায়ূন আহমেদ কে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করার এখনও সময় হয়নি ।হুমায়ূন আহমেদের জীবন বা জীবনের খণ্ডিত অংশ ছড়িয়ে রয়েছে তার গোটা পরিবারের মধ্যে। এইসব একত্রিত হয়ে বই হিসেবে আসবে তারপর কোন চলচ্চিত্র হতে পারে। তবে আমার এখনো সেই যোগ্যতা নেই যে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে সিনেমা বানাবো।  তাই এখনও সেই সময় আসেনি তাকে নিয়ে ছবি তৈরির।'
ডুব চলচ্চিত্র নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছিল। সেন্সর বোর্ড আটকে দিয়েছিলো। ফারুকীর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পরেছিলেন শাওন। সেই সময়ের মুহূর্তগুলো কেমন কেটেছে এমন প্রশ্নের উত্তরে
 শাওন বলেন, জীবনে অনেক বড় বড় যুদ্ধ সামলাতে হয়েছে আমাকে। ক্যান্সারের মতো একটি রোগের সঙ্গে পারিবারিকভাবে যুদ্ধ ছিল। 'ডুব' ছবি নিয়ে আশঙ্কা একটা ছিলই, কিন্তু জনগণের একটা আদালত আছে। সেখানে যখন বিচার হয়ে যায়, তখন আর আইনি জটিলতার কথা আর ভাবতে হয় না।  
শাওনের ভাষায়, 'আমি অপেক্ষা করছিলাম হুমায়ূন আহমেদের বাংলাদেশে পাঠকদের যাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই লেখকের নাম শুনলে যারা একটি চলচ্চিত্র দেখতে যাবেন। তাদের প্রতিক্রিয়া কি হয়, দেখলাম; বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহু পাঠক লিখেছেন তারা শুধু হুমায়ূন আহমেদের নাম শুনে হলে গিয়েছিল।
হুমায়ূন ভক্তরা এমন হয়ে কেউ যদি হুমায়ূন আহমেদ কে ভালবাসেন  তবে তারা তাকে মাথায় তুলে রাখবেন। আর কেউ তাকে বিক্রিত করার চেষ্টা করেন, তবে তাকে পাঠকরা ছুড়ে ফেলে দেবেন।'
ফারুকীর অন্যান্য সিনেমাগুলো তার কাছে কেমন আগে এমন প্রশ্নের উত্তরে শাওন বলেন, 'আমি অন্য আরেক নির্মাতার কাজ নিয়ে কন মন্তব্য করতে চাই না। এই মুহূর্তে আমি মনে আমার নিজের কাজের দিকে অনেক মনোযোগ দেয়া উচিত।'
হুমায়ূন পুত্র নুহাশ আহমেদ টেলিভিশন ফিকশন নির্মাণ করছেন। তাকে নিয়েও আশাবাদী শাওন। বললেন,' আরো দুই তিন বছর আগেই ওর নামা উচিৎ ছিল। নুহাশের ভেতরে জেনেটিক গুণাবলি থাকবেই। কিন্তু এর চেয়েও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসাবে ওর আগ্রহ দেখেও মুগ্ধ আর আশাবাদী বলেও জানান শাওন।
নুহাশ পল্লিতে শায়িত রয়েছেন নন্দিন কথা শিল্পী হুমায়ূন আহমেদ। সেখানে তার ভক্তদের পদচারণ এবং তাদের লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা দেখে বিষয়টি ঈশ্বরিক বলেই বিশ্বাস করেন শাওন। কিন্তু সন্ধ্যার পর যখন সবাই নুহাশ পল্লি ত্যাগ করেন, কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়ান শাওন। মনে হয় তখনই হুমায়ূন আহমেদ একান্ত তার নিজের..।
দুই ছেলেকে অনেক ভালো মনের মানুষ বানানোর স্বপ্ন শাওনের। মানুষকে তারা ভালবাসবে এটাই তিনি চান। নিজের ভালোর জন্যে অন্যের ক্ষতি যেনো তার সন্তানরা না করেন,অন্যের কাজে নিজের ক্ষতি করে হলেও যেনো তাতে পিছপা না হয় সব সময় এইভাবেই সন্তানদের বড় করার চেষ্টা করছেন তিনি।
 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop