বাণিজ্য সময়রাজধানীতে ফ্লাটের দাম কমলেও বাড়ছে না বিক্রি

বাণিজ্য সময় ডেস্ক

fb tw
গত কয়েকবছরে রাজধানীতে ফ্ল্যাটের দাম কিছুটা কমলেও আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন তারপরও বিক্রি বাড়েনি। একই তথ্য মিলেছে লামুদি নামে এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গবেষণাতেও। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারের চাহিদা না বুঝে অতিরিক্ত মূল্যের ভবন নির্মাণই মন্দার বড় কারণ। আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব বলছে, এ খাতের অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী অনভিজ্ঞ ভুঁইফোড় ব্যবসায়ীরা। তবে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আবাসন ক্রেতাদের কম সুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দেয়ায় এ খাতে সুদিন ফিরবে বলেও আশা করছে সংগঠনটি।
রাজধানীর মিরপুরের দক্ষিণ পাইকপাড়ার একটি আবাসিক ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় ২ বছর আগে। কিন্তু এখনো বিক্রি হয়নি সবগুলো ফ্ল্যাট । তাই দাম কমাতে বাধ্য হয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এক গবেষণাতেও উঠে এসেছে গত কয়েক বছরে, ঢাকায় গড়ে ফ্ল্যাটের দাম কমেছে ১১ শতাংশ ।
রিফা প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাঈদ উল্লাহ কোয়েল বলেন, 'অনেক ক্ষেত্রেই নির্মাণ পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে ফ্লাটের দাম কিন্তু ঢাকার শহরে প্রতি স্কয়ার ফিটে এক থেকে চার পাঁচ হাজার টাকা কমেছে।'
আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের তথ্যমতে, ঢাকাসহ সারা দেশে দশ হাজারেরও বেশি ফ্লাট অবিক্রীত অবস্থায় রয়েছে। আর এতে বড় অংকের বিনিয়োগ আটকে পড়ায় এ খাতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবসায়ীরা বাজারের প্রকৃত চাহিদা বুঝতে ব্যর্থ হওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ প্রফেসর নজরুল ইসলাম বলেন, 'বেসরকারি পর্যায়ে যে আবাসন ব্যবস্থা করা হয়, বিশেষ করে অ্যাপার্টমেন্ট হাউজিং, সেখানে চাহিদার চেয়ে যোগানটা বেশি হয়ে গেছে। এছাড়া উচ্চমূল্যর ফ্লাট সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।'
 
দ্রুত বর্ধনশীল আবাসন শিল্প সম্প্রসারণের একপর্যায়ে অনভিজ্ঞ ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে বলে মনে করেন রিহ্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন।
তিনি বলেন, 'রং মিস্ত্রি, রাজমিস্ত্র, টাইলস মিস্ত্রি এরা পাঁচজনে মিলে দেখা যাচ্ছে একটা রিয়েলস্টেট কোম্পানি বানিয়ে ফেলছে। সাইনিং মানি কাঠাপ্রতি দশ লক্ষ টাকা, সেখানে তারা ভূমি মালিককে বিশ লক্ষ টাকার অফার করে। কারণ, ব্যবসা সম্বন্ধে তাদের তো কোন জ্ঞানই নেই।'
আবাসন খাত সম্প্রতি শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও, ব্যবসায়ীদের অভিযোগ শিল্পের কোন সুবিধাই পাচ্ছেন না তারা। আবাসন খাতের নির্মাণব্যয় কমাতে তাদের দাবি- অগ্নি নির্বাপক পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা, শিল্প হারে বিদ্যুৎ বিলের সুযোগ , ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি কমিয়ে সাড়ে ৬শতাংশ করা। তবে সম্প্রতি সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ বৃদ্ধিতে স্বস্তি প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা।
রিহ্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, 'হাউজবিল্ডিং আমাদের ২৫ বছর মেয়াদী লোন দেবে বলে কথা দিয়েছে। যেখানে তাদের সুদের হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশে এনেছে। আমরা মনে করি, এখন গ্রাহকরা হাউজিংয়ের ক্ষেত্রে লোন নিতে আগ্রহী হবে।'
ঢাকায় জনসংখ্যার তুলনায় জমির অভাব এবং দামও আশাকচুম্বী, তাই নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য আবাসন নিশ্চিতে পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলার পক্ষে মত দেন আবাসন ব্যবসায়ীরা।
/এসএম

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop