বিনোদনের সময়ডিভোর্স পেপার পাওয়ার পর সময় নিউজকে দেয়া অপুর সাক্ষাৎকার

বিনোদন সময় ডেস্ক

fb tw
৪ ডিসেম্বর অপু বিশ্বাসের বাসায় তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন চিত্র নায়ক শাকিব খান। এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই মূল ঘটনা জানতে উৎসুক হয়ে পড়ে গোটা দেশ। আর সেকারণেই মুঠোফোনে অপুকে পাওয়া না গেলে তার বাসায় সামনেই অপেক্ষা শুরু করেন সংবাদকর্মীরা। কিন্তু মুঠো ফোন কিংবা সামনাসামনি, কোনভাবেই পাওয়া যাচ্ছিলো না শতাধিক জনপ্রিয় সিনেমার নায়িকা অপু বিশ্বাসের কোন বক্তব্য। অবশেষে গণমাধ্যমের সাথে ডিভোর্সের বিষয়ে কথা বলেছেন অপু বিশ্বাস। সবশেষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সময় নিউজের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন তিনি।
সময় নিউজের পাঠকদের জন্য ফোনালাপটি তুলে ধরা হলো-
সময়: আপনার ডিভোর্সের বিষয়টি...
অপু বিশ্বাস: আমার সন্তানের ভালো জন্য, আমার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য আমি সবসময় এসব কাজের বিপক্ষে। নামটাও উচ্চারণ করতে আমার কাছে খুব খারাপ লাগে যে, আমি কেন এটা বলবো। আজকে আমার সন্তান হয়ে গেছে। যেখানে আট বছর লুকিয়ে সংসার করার মতো সৌভাগ্য আমার হয়েছে সেখানে আমার সন্তান নিয়ে আজ কেন সংসার করতে পারবো না। কত বড় ভুলের সম্মুখিন আমি যে, সন্তান নিয়ে সংসার করতে পারবো না। যে দু'টো কথা সাকিব আমার ভুল সম্পর্কে বলেছে সেগুলো আমি এক কথায় পরিস্কার করে দেই। শেলি নামের যে মেয়েকে গৃহপরিচারিকা বলা হয়েছে, সাকিব জেনেও কেন বললো এই কথা আমি বলতে পারবো না। তবে আমি এইটুকু পরিস্কার করতে চাই, শেলি আমার 'মা'। আমরা চার ভাই-বোন। তার মধ্যে উনিও আমার একজন বোন। আমি ক্লাস থ্রিতে পাড়ার সময় থেকে তাকে চিনি। হয়তো বা ধর্মের দিক থেকে তিনি মুসলিম। আমরা পাশাপাশি বাসায় থাকতাম। সেখান থেকেই আমি তাকে আমার পরিবারের অংশ বলেই জানি। আমার বড় বোন এবং মাকে যতটা আপন এবং কাছের মানুষ ভাবি, শেলি আপু আমার ততটাই আপন এবং কাছের। হাত খরচের টাকা আমি আমার মাকেও দেই। উনাকেও বলেছি, আপু আপনার যা লাগে নিয়ে নেবেন। অতএব উনি আমার গৃহপরিচারিকা নন। আর সেদিন যে ঘটনাটি ঘটেছিলো, আমার মাও হয়তো থাকতেন। তবে বাবা মারা যাবার পর উনি একটু ধর্মের দিকে বেশি অগ্রসর। একটা পুঁজর করণে ১০ দিনের জন্য মা বগুড়া যাচ্ছেন আর আমার সঙ্গে যে দুর্ঘটনাটা হয়ে গেছে সেটার পরে বগুড়া থেকে মাকে আনবো সেটা হয়ে ওঠেনি। যেহেতু বগুড়া থেকে ফ্লাইট নেই, গাড়িতে করে আসতে হয়। আর রাজশাহীর ফ্লাইট ধরে আসতে গেলে অনেকটা সময় চলে যায়। শেলি আপু আমার সঙ্গে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার ভিসা নাই আর ওই অবস্থায় আমি বাচ্চাকে সঙ্গে নিতে সক্ষম ছিলাম না। আরেকটা তথ্য দেই, আমার বাচ্চা কলকাতার কোন ক্লিনিকে হয়নি। সে শিলিগুড়ির দার্জিলিংয়ে হয়েছে। আর আমি সেই দার্জিলিংয়েই ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম।
এখন পেপারস নিয়ে সাকিব যে কথাটা বলছেন, পেপার্স অবশ্যই আমি সাবইকে দেখাবো। যদিও এটা নিজেদের ইন্টারনাল ব্যাপার। আমি খুবই লজ্জাবোধ করছি। কিন্তু পরিস্থিতি আমাকে যেখানে নিয়ে এসেছে, আমি অবশ্যই পেপার্সটা দেখাবো এবং আমার ডাক্তারের সঙ্গে যদি কেউ কথা বলতে চায় তাহলে ডাক্তারের ফোন নম্বর বা তার সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করে দিতে পারবো।'
সময়: আরেকটি বিষয় হচ্ছে আপনার কথিত বয়ফ্রেন্ড...
অপু বিশ্বাস: এবার আমি আপনাকে বলি যে বয়ফ্রেন্ডের নাম উল্লেখ করেছে বাপ্পিকে। আসলে আমি হাসবো না কাঁদবো বুঝে উঠতে পারছি না। তবে আমি এটুকু বলতে চাই, বাপ্পি আমার খুবই স্নেহের ছোটভাই। ওকে আমি যথেষ্ট পরিমাণ আদর করি কারণ, সে আমাকে দিদি ডাকে। বাংলা ভিশনে একটি প্রোগ্রামে সে অনেক এক্সাইটমেন্ট নিয়ে আমার সঙ্গে কাজ করার কথা বলেছে। সে জুনিয়র একজন আর্টিস্ট। আমি তার যথেষ্ট পরিমাণ সিনিয়র আর্টিস্ট। সে আমাকে সম্মান করে বা আমার জনপ্রিয়তার নিয়ে তার একটা এক্সাইটমেন্ট যে, আমি দিদির সঙ্গে কাজ করতে পারবো। সেই সুবাদেই দুর্গাপূজার একটা ফটোশ্যুট ছিলো। সে বলেছিলো, দিদি আমি কি এটা করবো? আমি বলেছিলাম, ঠিক আছে আপনি যদি করেন কোন সমস্যা নাই। এটাই। কিন্তু না জেনে না বুঝে যে এই কথাটা উঠিয়েছেন আমি মনে করবো তার একবার মানসিক ডাক্তার দেখানো দরকার। সাত বছরের মেয়েকে নিয়ে বাচ্চার মা হবার স্বপ্ন দেখা যেমন সম্ভব না তেমনি বাপ্পিকে আমার সঙ্গে জড়িয়ে কথাবার্তা বলাটাও সম্ভব না। আর আমি কেমন মেয়ে, মিডিয়াতে কতদিন ধরে আছি, এটা দর্শক থেকে শুরু করে সবাই জানেন অপু বিশ্বাসের চরিত্র কি রকম। এখন বাপ্পিকে নিয়ে কথাটা কে বলছে, কেন বলছে, আমার মনে হয় সে কথাটা বলেও বুঝে উঠতে পারেনি। আমি আবারও বলছি, বাপ্পি আমার কাছে অত্যন্ত আদরের ছোটভাই। আমি ওকে অসম্ভব পছন্দ করি আর সবচেয়ে বড় কথা, এই ধরণের বাজে মন্তব্য যেই করুন, মন্তব্যটা যেনো একটু শক্ত, মজবুত হয় সেটা চিন্তা করে যেনো মন্তব্য করে।
সময়: আপনার হাতে পেপার পৌঁছেছে কিনা?
অপু বিশ্বাস: আমার হাতে পেপার্স পৌঁছেছে। আমি এই মুহূর্তে ওই রকম বড় যুক্তিতর্কে যাবে না আপনাদের সাথে। যদিও গত দুই দিন ধরে আপনারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে পাচ্ছে না। আমার কাছে খুবই খারাপ লাগছিলো। আমি এজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমি আপনাদের সঙ্গে জাস্ট যোগাযোগটা মেইনটেন করলাম। যাতে আপনারা আমাকে ভুল না বোঝেন।
সময়: আপনার কোন পদক্ষেপ....
অপু বিশ্বাস: একটি কথাই আমি ব্যক্তিগতভাবে বলবো যে, আমার বাচ্চা আছে, সংসার কেন নষ্ট হবে। যেখানে আমি আট বছর লুকিয়ে সংসার করে সিনেমাও করেছি। আরেকটা বিষয় আমি পরিস্কার করি, ও কিন্তু বলেছে, অপু কেন 'অপু ইসলাম খান' ব্যবহার করেন না। এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি একটু বলি, আমার বিবাহ হয়েছে আট বছর। আমি লুকিয়ে রেখেছিলাম। যেখানে আমি আমার শ্বশুর বাড়িতে সহজেই যেতে পারতাম না সেখানে আমি আমার পাসপোর্ট, খাতা-কলম, ব্যাংক-বিমায় কিভাবে আমার নামের বানান পরিবর্তন করতে পারি? এবার আসেন আমার বাচ্চাসূত্রে দেড় বছর। এসময় আমাকে আমার স্বামীর তরফ থেকেই বলা হয়েছে যে, নামটা যতটুকু লুকিয়ে রাখা যায়। এমনকি বাচ্চাকে ভারত থেকে আনানোটাও অনেক সমস্যা হয়ে পড়েছিলো। যেখানে আমার স্বামীর অনেক তথ্য লাগছিলো। সে কিন্তু কিছুই আমাকে পাঠায়নি। সেক্ষেত্রেও আমি অপু ইসলাম খান ব্যবহার করতে পারিনি। তবে সিজার হবার সময় এটা করতে আমি বাধ্য হয়েছি। তখন আমি অপু ইসলাম খান এবং সাকিব খান রানা নামটা আমি ব্যবহার করেছি। যেসূত্রে আমার বাচ্চার সার্টিফিকেটে বের হয়েছে আব্রাম খান জয়। এখন আমার পাসপোর্ট, আইডিকার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নাম পরিবর্তনের জন্য কিন্তু সময় দরকার এবং আমার স্বামীর সহযোগিতা দরকার। সুতরাং এই ব্যাপারটাকে আমি যুক্তিহীন মনে করছি।
সময়: আপনার পক্ষ থেকে কোন উকিল পদক্ষেপ নেবেন কিনি?
অপু বিশ্বাস: এই বিষয়ে আমি আপনাদের সঙ্গে পরে কথা বলবো। আমি দুই দিন আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারিনি তাই কথা বললাম। আপনারা আমার কাছের মানুষ, পাশের মানুষ।
/এসএম

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop