প্রবাসে সময়সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় কমেছে জনশক্তি রফতানির হার

আশীষ প্রসূন

fb tw
বাংলাদেশী কর্মীর প্রচুর চাহিদা সত্ত্বেও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাত্র দশটি প্রতিষ্ঠান জনশক্তি রফতানির সুযোগ পাওয়ায়, মালয়েশিয়ায় কমেছে জনশক্তি রফতানির হার। বর্তমানে জি টু জি প্লাস পদ্ধতিতে চাহিদার মাত্র এক-চতুর্থাংশ কর্মী পঠানো সম্ভব হচ্ছে বলে অভিযোগ এ খাতের ব্যবসায়ীদের। তবে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জনশক্তি রফতানির অভিযোগ অস্বীকার করার পাশাপাশি অবৈধ কর্মীরা যাতে কাজে যুক্ত হতে না পারে সেজন্য কঠোর তদারকির ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান, হাই-কমিশন কর্মকর্তারা। 
বাংলাদেশের তুলনায় আকারে প্রায় আড়াই গুণ বড় হলেও মালয়েশিয়ার জনসংখ্যা মাত্র তিন কোটি। সে কারণে নির্মাণ কাজ, বনায়ন এবং সেবা খাতসহ দেশটির বিভিন্ন খাতে জনশক্তি রফতানির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ২০০৭ সালে সর্বোচ্চ পৌনে তিন লাখ কর্মী গেলেও নানা জটিলতায় গত কয়েক বছরে এ সংখ্যা নেমে এসেছে কয়েক হাজারে। এমন বাস্তবতায় ২০১৬ সালে সরকারী পর্যায়ের সাথে ব্যক্তিখাতের ব্যবসায়ীদের যুক্ত করে জি টু জি প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী নিতে সম্মত হয় মালয়েশিয়া। এই প্রক্রিয়ায় অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশটিতে প্রায় দশ লাখ কর্মী নেয়ার সুযোগ থাকলেও দু'বছরে বাংলাদেশ থেকে গেছে মাত্র ৬০ হাজার কর্মী। 
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত এ খাত সংশ্লিষ্ট, ব্যবসায়ীদের মতে, দেড় হাজারের মধ্যে মাত্র দশ জন ব্যবসায়ীকে সুযোগ দেয়ায়, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী আনা সম্ভব হচ্ছে না। 
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ গিয়াসউদ্দিন বাবলু বলেন, ‘নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যবসায়ী এটাকে কুক্ষিগত করে রেখেছে নিজেদের স্বার্থে। চাহিদা যা আছে, তার এক চতুর্থাংশ লোক আসছে মাত্র। যদি সবার জন্য ব্যবসাটা ওপেন থাকতো, লোক আসতো দ্রুত।’
তাদের মতে, একই কারণে কর্মীদের কাছ থেকে প্রকৃত খরচের কয়েকগুণ বেশী অর্থ হাতিয়ে নিতে পারছে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে, কর্মী না পেয়ে, বাংলাদেশের পরিবর্তে চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে অন্যদেশে।
জনশক্তি রফতানিকারক রহমান মোকলেস বলেন, ‘দশজনের কারণে আমাদের এখানে টাকাটা বেড়ে গেছে। দশজনের মাধ্যমে যা আসে, তা তারা প্রসেসিং করতে পারছে না। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও তারা লোক পাচ্ছে না, রেগে তারা এখন অন্য রাষ্ট্রে চলে যাচ্ছে।’ 
তবে, চাহিদাপত্র আদান প্রদানের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেন হাই কমিশন কর্মকর্তারা। এ পর্যন্ত দুই হাজার প্রতিষ্ঠান থেকে চাহিদাপত্র পাওয়ার কথা জানিয়ে তারা বলেন, কাজের জন্য পর্যটক কিংবা শিক্ষার্থী ভিসায় নয়, আসতে হবে কর্মী ভিসায়। 
মালয়শিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ছায়েদুল ইসলাম বলেন, ‘১ লাখ ১৫ হাজার কর্মীর চাহিদা আমরা পেয়েছি। এরমধ্যে লক্ষাধিক কর্মী আমরা চাহিদা অনুসারে পাঠিয়ে দিয়েছি। যারা কাজ করতে আসবে, তারা বৈধভাবে আসবে। কর্মী হিসেবে পর্যটক ভিসায় যেন না আসে।’
এখন থেকে চাহিদাপত্র দেয়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ, কর্মীদের আবাসস্থল পরিদর্শনের পরই চাহিদাপত্র সত্যায়ন করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop