বিনোদনের সময়মোস্তফা জব্বার ছিলেন বিনোদন সাংবাদিক!

বিনোদন সময় ডেস্ক

fb tw
somoy
বাংলা ভাষার প্রেমে তৈরি করেছিলেন বিজয় কীবোর্ডে। প্রযুক্তির খাতে বাংলাদেশে তার অবদান অনস্বীকার্য। এবার গোটা দেশের প্রযুক্তির দায়িত্ব তার হাতেই সঁপে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু অনেকেই জানেন না নবনিযুক্ত ডাক, টেলি যোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার অতীতে ছিলেন একজন বিনোদন সাংবাদিক!
সেই আশির দশকে মোস্তফা জব্বার স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলা ভাষাকে প্রযুক্তির দুনিয়ায় নিয়ে আসার। সেই স্বপ্নের ফলস্বরূপ ১৯৮৮ সালে তার প্রতিষ্ঠান থেকে জন্ম হয় বিজয় কিবোর্ডের।
কিন্তু তারও আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোস্তফা জব্বার নিজের পরিচিতি গড়েছিলেন তুখোড় ছাত্র রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক হিসেবে। ১৯৮৭ সালে ‘আনন্দপত্র’ নামের একটি বিনোদন ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে শুরু করেন তিনি, যা ছিলো দেশের প্রথম কম্পিউটারে বাংলা লেখা পত্রিকা।
এই ‘আনন্দপত্রে’র মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো প্রযুক্তিবিদ হিসেবে আলোচনায় উঠে আসে মোস্তফা জব্বারের নাম। সেই ইতিহাস সৃষ্টির পথে দেশের বিনোদন জগৎকেও যুক্ত করে নেন তিনি; এফডিসির তারকাদের কাছে হয়ে ওঠেন প্রিয় এক মুখ।
২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরের কাগজে নিজের লেখা এক কলামে মোস্তাফা জব্বার লিখেছিলেন, ‘সবাই জানেন ১৬ মে ১৯৮৭ তারিখে বাংলা সাপ্তাহিক আনন্দপত্র প্রকাশ করে আমি কম্পিউটার দিয়ে বাংলা পত্রিকা প্রকাশ করার যুগে প্রবেশ করি। তখন আমরা সৈয়দ মাইনুল হাসানের মাইনুল লিপি ব্যবহার করেছিলাম। মুনীর কি-বোর্ডকে অনুসরণ করে ৪ স্তরের কি-বোর্ড বানিয়েছিলাম যার নাম ছিল জব্বার-আমার বাবার নামে নাম। কিন্তু কি-বোর্ডটির সমস্যা ছিল ১৮৮টি বোতাম মুখস্থ রেখে বাংলা টাইপ করতে হতো। বিজয়ের জন্মের পেছনে প্রযুক্তিগত প্রধান কারণ এটি। টাইপ রাইটার, সিসার কম্পোজ বা ফটোটাইপ সেটারে বাংলা লিখতে গিয়ে অনুভব করেছি যে, রোমান কি-বোর্ড দিয়ে অবিকৃতভাবে বাংলা বর্ণমালা তৈরি করা সত্যি সত্যি এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। হাজার বছরের বাংলা ভাষার ইতিহাসে এই সংকট মোকাবেলায় বাংলা অক্ষর কমানো, যুক্তাক্ষর বর্জন, অর্ধবর্ণ ব্যবহার এবং রোমান বা আরবি হরফে বাংলা লেখার উদ্যোগগুলোর অন্যতম একটি কারণ ছিল বাংলা যুক্তবর্ণ। আমি স্বপ্ন দেখতাম, কবে, কেমন করে এই যুক্তবর্ণের শেকল থেকে মুক্তি পাব। বিজয় সৃষ্টি করে সেই শেকলটা আমি ভেঙেছি।’
তার অসাধারণ এই ভূমিকার জন্য চ্যানেল আইয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রবর্তিত চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার উপর ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন ফজলুল হকের সহধর্মিণী ও কথাশিল্পী রাবেয়া খাতুন।
মোস্তাফা জব্বারকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান বলেন, ‘সত্যি দারুণ এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দিলেন মোস্তাফা জব্বার। নিজের প্রতি সততা, বাংলা ভাষার প্রতি নিখাদ প্রেম তাকে এই সম্মান দান করেছে বলে মনে করি আমি। সেইসঙ্গে চলচ্চিত্র সাংবাদিকের মন্ত্রীপদে আসীন হওয়ায় চলচ্চিত্র সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দিত করি। তিনি আমাদের গর্বিত করেছেন।’
মোস্তফা জব্বারের আইসিটি মন্ত্রী হওয়াটা তাই দেশের প্রযুক্তিবিদদের জন্য বড় জয়, তেমনি এই জয় গণমাধ্যমকর্মীদেরও- এমনটাই মনে করছেন সবাই।
সূত্র : জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর 

আরও সংবাদ

বাংলার সময়
বাণিজ্য সময়
বিনোদনের সময়
খেলার সময়
আন্তর্জাতিক সময়
মহানগর সময়
অন্যান্য সময়
তথ্য প্রযুক্তির সময়
রাশিফল
লাইফস্টাইল
ভ্রমণ
প্রবাসে সময়
সাক্ষাৎকার
মুক্তকথা
বাণিজ্য মেলা
রসুই ঘর
বিশ্বকাপ গ্যালারি
বইমেলা
উত্তাল মার্চ
সিটি নির্বাচন
শেয়ার বাজার
জাতীয় বাজেট
বিপিএল
শিক্ষা সময়
ভোটের হাওয়া
স্বাস্থ্য
ধর্ম
চাকরি
পশ্চিমবঙ্গ
ফুটবল বিশ্বকাপ
সংবাদ প্রতিনিধি
বিশ্বকাপ সংবাদ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
GoTop